আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক বীরকুমার শী এর কথায়, ১৭৬৯ সাল, ওড়িশার কটক জেলার আটঘর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বাড়ির আদি পুরুষ কালুমুরারি মোহন দাস মহাপাত্র। এই দুঃসাহসিক যুবক আকবর বাদশাহের রাজ কর্মচারী ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ তারাপীঠ ভ্রমণে এলে ‘এই’ ৫ জায়গা দেখতে আর ভুলবেন না, কী দেখবেন, কোথায় যাবেন? রইল হদিশ
advertisement
ওড়িশার রাজা মুকুন্দদেব আকবর বাদশাহের সঙ্গে সঙ্গবদ্ধ হয়ে উভয়ের সাধারণ শত্রু গৌড়ের রাজা গৌড়েশ্বর সুলেমন কররানীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হয়। এখানে কালুমুরারির অসামান্য কৃতত্ব প্রকাশ পায়। সেই সময় কালুমুরারি পটাশপুর পরগনায় এসে বাদশাহ প্রদত্ত নানকর ভূমি লাভ করে জমিদারি সূচনা করেন। প্রথমে কল্যানপুরে বাস করেন। পরে পঁচেট গ্রামে খাঁড়ে বিশাল গড় নির্মাণ করেন তিনি। পরবর্তীকালে সেখান থেকে গভীর অরণ্যের মধ্যে উদ্ধার হয় এক শিবলিঙ্গ। সেই শিবলিঙ্গ দিয়েই কালুমুরারি মোহন দাস মহাপাত্র তৈরি করেন পঞ্চেশ্বর মন্দির।
এখানে বেনারস থেকে আরও চারটি শিব লিঙ্গ এনে স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে পঞ্চেশ্বর নামটির প্রচার হতে থাকে। মন্দির স্থাপত্য শরীর নিয়েও ইতিহাসবিদদের আগ্রহ কম নয়। আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক অরিন্দম ভৌমিক তাঁর ‘মেদিনীকথা’ গ্রন্থে বলেছেন, দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত এই পশ্চিমমুখী পঞ্চেশ্বর শিব মন্দিরটি আনুমানিক সপ্তদশ শতকের সৃষ্টি। উঁচু প্রাচীরঘেরা বর্গাকার অংশের মাঝখানে অবস্থান করছে পঞ্চেশ্বর মহাদেব। চার কোণে রয়েছে পশুপতি, নীলকণ্ঠ, চন্দ্রশেখর ও গঙ্গাধর নামের শিবলিঙ্গ। প্রতিটি শিবলিঙ্গের উপরেই শিখর রীতির মন্দির রয়েছে। পূর্বদিকে বাইরে রয়েছে শিবকুন্ড। পশ্চিমদিকে প্রবেশপথের উপরেও রয়েছে চূড়া।
এই মন্দিরকে কেন্দ্র করেই পঁচেটগড়ে ধর্মীয় আচার, সামাজিক উৎসব ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতার সূচনা হয়। শিবচতুর্দশী সহ বিভিন্ন ধর্মীয় তিথিতে আজও এই মন্দিরে ভক্তসমাগম চোখে পড়ার মত। ইতিহাসের নানা পর্ব পেরিয়ে আজ পঞ্চশ্বর শিব মন্দির শুধু একটি মন্দির নয়, বরং পঁচেটগড়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেই পরিচিত।





