দাঁতনের মন্দিরবাজার এলাকায় অবস্থিত শ্যামলেশ্বর মন্দির ইতিহাস ও ভক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর অবস্থিত এই পাথরের তৈরি শিবমন্দিরটি সহস্র বছরের প্রাচীন বলে গবেষকদের দাবি। যদিও মন্দিরের কোনও প্রতিষ্ঠালিপি না থাকায় সঠিক নির্মাণকাল জানা যায় না। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। আবার অন্যদের অভিমত, ওড়িশার সূর্যবংশীয় নৃপতি গজপতি মুকুন্দদেবের শাসনামলেই, অর্থাৎ ষোড়শ শতাব্দীর শেষার্ধে এই মন্দিরের নির্মাণ।
advertisement
এই মন্দিরের স্থাপত্য বিশেষভাবে নজর কাড়া। প্যাগোডা ধাঁচের ছোঁয়া থাকা মন্দিরটির চারপাশে প্রায় দশ ফুট উঁচু মাকড়া পাথরের প্রাচীর রয়েছে। ভিতরের অঙ্গনের আয়তন প্রায় ১৩,৮৮৩ বর্গফুট। প্রবেশপথের সামনে কষ্টিপাথরে নির্মিত নন্দী বা বৃষভ মূর্তিটি ভাস্কর্যের দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান, কালাপাহাড়ের আক্রমণে এর একাংশ ভেঙে যাওয়ার ইতিহাস আজও বহন করে চলেছে।
মন্দিরে প্রতিদিনই ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ে। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের সোমবার ভক্তসমাগম আরও বেড়ে যায়। নানা কিংবদন্তি ও অজানা ইতিহাসে মোড়া এই শ্যামলেশ্বর মন্দির আজ রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের স্বীকৃত হেরিটেজ সাইট। ভক্তি, বিশ্বাস ও ইতিহাস—তিনের মেলবন্ধনে দাঁতনের এই প্রাচীন মন্দির আজও অতীতের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
