কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশন দিনভর থাকে ব্যস্ততায় ঠাসা। অসংখ্য যাত্রী, হকারদের ডাক, একের পর এক যাত্রীবাহী ট্রেন ও মালগাড়ির যাতায়াতে স্টেশন চত্বর সর্বক্ষণ মুখর। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে অন্য এক রূপ নিয়ে। বিশ্বভারতী ফাস্ট প্যাসেঞ্জার, স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যেতেই ঘড়ির কাটা ছাড়া হঠাৎ করে সব কিছু যেন থমকে যায়। নিমেষের মধ্যে নিস্তব্ধ হয়ে যায় গোটা স্টেশন চত্বর। দুই একটি মালগাড়ি পেরিয়ে গেলেও তারপরে নেমে আসে এক গভীর নিস্তব্ধতা।
advertisement
এই সময় বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশনে অপেক্ষায় থাকেন বেশ কিছু যাত্রী। রাত্রিকালীন ট্রেন ধরার অপেক্ষায়। কারোর হাতে মোবাইল, আবার এর পাশাপাশি কেউ ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ক্লান্তি ভুলতে চান। আবার প্রিয় মানুষের কাঁধ পেয়ে কারোর চোখ বুজে আসে শান্তির ঘুমে। টিকিট কাউন্টারে চেনা-অচেনা মানুষের পরিচিত ভিড়। আবার কোথাও শীতের স্নিগ্ধ আবহাওয়ায় কম্বলমুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়া শরীর, কারও চোখে ক্লান্তির ঘুম, কেউ আবার শান্তির খোঁজে গভীর নিদ্রায় মগ্ন। কারও চোখে শেষ ট্রেনে বাড়ি ফেরার প্রতীক্ষা। এই নিঃসঙ্গতার মধ্যেই সর্বত্র বিরাজমান শান্তিনিকেতনের প্রাণের ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
পূর্বরেলের সৌজন্যে বোলপুর শান্তিনিকেতন স্টেশনের দেওয়ালে দেওয়ালে তাঁর ছবি, গান ও কবির ছোঁয়ায় জীবনের এক অন্যতম অর্থ ফুটে উঠেছে। সেই সঙ্গে দেশ ও রাজ্যের কৃষ্টি, শিল্প, সংস্কৃতি ও ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে, সচেতনভাবে। সবই রয়েছে একান্তে। কিন্তু নির্জন হলেও এগুলিই স্টেশনের জীবনকে ছন্দময় রেখেছে। চলমান সিঁড়ি নিঃশব্দে একা একা উঠে যায় উপরে। রাত নামলেও অন্ধকার নেই। ঝাঁ চকচকে আলোয় আলোকিত স্টেশন চত্বর। সেই আলোতেই ধরা পড়ে সান্ধ্যকালীন ঐতিহাসিক স্টেশনের নিস্তব্ধ, নিঃসঙ্গ, অথচ গভীরভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক অনন্য মুহূর্ত।





