সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গল গিয়েছে হারিয়ে, গ্রাম জুড়ে বসতি হয়েছে। সেই কারণেই শিকারীরা তাঁদের আদি পেশা ছেড়ে বহুরূপীর পেশাকেই জীবিকার মাধ্যম করে নেন। কিন্তু তাঁদের উপাধি থেকে গিয়েছে ব্যাধ। এই গ্রামের প্রায় ১২০ টি পরিবার বছরের প্রতিটি দিন চোখে-মুখে রং মেখে মানুষদের আনন্দ দিয়ে চলেছেন।
গ্রামের নাম ভালকুঠি বিষয়পুর, থানা লাভপুর, জেলা বীরভূম। গোটা গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মাটির বাড়ি। একটা ঘর রঙের আলপনা দিয়ে সাজানো। সেটা সাজঘর। সকলের সাজঘর। সেখানে সূর্যের আলো ফুটলেই রূপচর্চা শুরু করেন স্থানীয়রা। এর পরেই দলে দলে তাঁরা রওনা দেন শহরের দিকে। কেউ ট্রেনে-বাসে পথচলতি যাত্রীদের মনোরঞ্জন করেন, কেউ বা কোনও উৎসবে মানুষদের মনোরঞ্জন করেন। কমবেশি রোজ ২০০-৩০০ টাকা উপার্জন হয়। আজকের উঁদুর দৌড়ের যুগেও ভালকুঠি গ্রামের বাসিন্দারা এই পেশা ছেড়ে যাননি। তাঁরা আজও সানন্দে মানুষদের মনোরঞ্জন করে যাচ্ছেন।
advertisement