তিস্তার রুপালি শস্য বোরোলি ঘিরে বর্ষার শুরুতেই উৎসবের আমেজ উত্তরবঙ্গ জুড়ে। সারা বছর এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করেন উত্তরবঙ্গের মানুষজন। সঙ্গে পাহাড়-ডুয়ার্সে ঘুরতে আসা পর্যটকরাও। কারণ বর্ষা এলেই জল বাড়ে তিস্তার বুকে, আর সেই জলে ধরা পড়ে রুপালি স্বপ্ন—বোরোলি মাছ।
এখনও উত্তরবঙ্গে বর্ষা পুরোপুরি না নামলেও, সিকিমের পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা বৃষ্টির জলে ফুলেফেঁপে উঠেছে তিস্তা। আর সেই জলে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে বোরোলি। নদীপাড়ের মৎস্যজীবীদের মুখে ফিরেছে হাসি। সকাল হতেই জাল কাঁধে নেমে পড়ছেন তাঁরা নদীতে। শুধু পেশাদাররাই নন, অনেক সাধারণ বাসিন্দাও ভোরবেলা হাতে ব্যাগ নিয়ে ছুটছেন নদীপারে—তাজা মাছ কিনতে!
advertisement
বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই উধাও হয়ে যাচ্ছে বোরোলি। তিস্তার বোরোলির এমন কদর শুধু স্বাদের জন্যই নয়, পুষ্টিগুণেও যে এটি অনন্য। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-তে ভরপুর এই মাছ হাড়কে করে মজবুত, কমায় অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি, বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। ফলে বাড়ছে চাহিদা।
আরও পড়ুন: সাপের উপর কী ‘ঢেলে’ দিলে সাপ ‘পালায়’ বলুন তো…? চমকে যাবেন ‘নাম’ শুনলেই!
বর্ষা মানেই প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নতুন করে বাঁধন। তিস্তার জলে উঠে আসা বোরোলি যেন উত্তরবঙ্গের মানুষের সেই পুরোনো আনন্দের ঠিকানা। হালকা ঝোল, সরষের তেলে ঝাঁঝালো ভাজা, কচু-শাক কিংবা অন্যান্য হরেক পদ রান্না তিস্তার বোরোলি মানেই বর্ষার পাতে বাড়তি তৃপ্তি। এছাড়াও তিস্তায় দেখা মিলছে আরও কিছু নদীয়ালি মাছের—ট্যাংরা, খোলসা প্রভৃতি। সব মিলিয়ে বর্ষার শুরুতেই তিস্তার পাড়ে যেন উৎসবের আমেজ।
সুরজিৎ দে





