Lock & Key: ফুলতোলা নক্সার বাহারি তালাচাবি রক্ষা করত নবাবি কোষাগার! ইউরোপের মন জয় করা নাটাগড়ের তালাশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে
- Reported by:Rudra Narayan Roy
- Written by:Bangla Digital Desk
Last Updated:
Lock & Key: জানেন একসময় সোদপুরের নাটাগড় এলাকা পিতলের তালা চাবি শিল্পের জন্যই আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিল!
advertisement
ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নাটাগড়ের কামারপাড়া অঞ্চল গড়ে ওঠে তালা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে। বংশপরম্পরায় ধাতব শিল্পে পারদর্শী কর্মকার সম্প্রদায়ের হাত ধরেই এই তালাশিল্প ক্রমে দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, নাটাগড়ের তৈরি তালা শুধু ভারতবর্ষেই নয়, ইউরোপের একাধিক দেশে রপ্তানিও করা হত। আলিগড়ের তালার সঙ্গে সমানতালে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল নাটাগড়ের বিখ্যাত মোরগমার্কা তালা
advertisement
উন্নতমানের পিতল দিয়ে তৈরি এই তালাগুলি তাদের জটিল নকশা, মজবুত গঠন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছিল। এই শিল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম বনমালী কর্মকার। তিনি এমন একটি মাস্টার কী তৈরি করেছিলেন, যার সাহায্যে একসঙ্গে প্রায় ১৪ ধরনের তালা খোলা যেত। এই অসাধারণ কারিগরি দক্ষতার জন্য তাঁর তৈরি তালা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলাদের মধ্যে বিশেষ কদর পায়। শুধু তাই নয়, জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও তাঁর তৈরি তালা রপ্তানি হত
advertisement
তাঁর প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাঁকে পুরস্কৃতও করে। তালা ছাড়াও বনমালী কর্মকার ঘড়ি তৈরিতেও দক্ষ ছিলেন বলে জানা যায়। বনমালী কর্মকারের পরে তাঁর বংশের পাঁচু গোপাল কর্মকারও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তালা ও ঘড়ি নির্মাণে তাঁর দক্ষতাও স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়। সেই সময় নাটাগড় এলাকায় প্রায় ২০ থেকে ৩০টি কর্মকার পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন
advertisement
তাঁদের মধ্যে ভূতনাথ কর্মকারের নামও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, বেঙ্গল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার্স এবং স্ট্যাটিস্টিক্যাল অ্যাকাউন্ট অফ বেঙ্গল -এর মতো বইতে সোদপুর সংলগ্ন নাটাগড় অঞ্চলের পিতলের তালা ও চাবি তৈরির উল্লেখ পাওয়া যায়। চব্বিশ পরগনার অন্যান্য শিল্পপণ্যের সঙ্গে নাটাগড় এলাকার তালা-চাবি তখন বিশেষভাবে পরিচিত পায় বলেই জানা যায়
advertisement
নবাবী আমলে এই তালা ব্যবহৃত হতো নবাবদের দরবারে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসনকালে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দফতরে ও সম্ভ্রান্ত বাড়িতে নাটাগড়ের তালা ছিল নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। পানিহাটির বহু প্রাচীন বাড়িতে আজও এই তালার নিদর্শন পাওয়া যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, কারখানায় তৈরি সস্তা তালার সহজলভ্যতা এবং নতুন প্রজন্মের অনীহার কারণে নাটাগড়ের এই গৌরবময় তালাশিল্প আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে হাতে গোনা পরিবার কোনওরকমে এই তালা তৈরির ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছেন। তবে আশঙ্কা ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতাতেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকবে একসময়ের এই গর্বের তালার ইতিহাস









