এই প্রসঙ্গে বর্ধমানের সরস্বতী দত্ত বলেন, “আমি রান্নাবান্না করতে পারি।আমার এক বান্ধবী রয়েছেন যিনি থিয়েটার করেন। তাঁদের অডিটোরিয়ামেও টিফিন আমি যোগান দিতাম। তখন সেই বান্ধবী আমাকে বলেন যে আমাদের যেখানে অনুষ্ঠান হোক, টিফিনটা তুই পাঠাবি। যেখান থেকে আমার মাথায় আইডিয়া আসে এটা মাঝেমধ্যে না করে রোজ করতে পারি। এরপর একদিন আমি কিছুটা ঘুগনি ও আলুর দম তৈরি করে আমার সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ি।”
advertisement
২০২২ সালের ডিসেম্বরের মাসের ৩১ তারিখ থেকে বর্ধমান শহরের স্মার্ট বাজারের সামনে খাবার বিক্রি শুরু করেন তিনি। বিক্রি ভাল হওয়ায়, পাকাপাকি ভাবে সেখানেই ব্যবসা শুরু করেন সরস্বতী দেবী।
পরিবারে মূল রোজগেরে বলতে সরস্বতী নিজেই। তাঁর বড় মেয়ে গ্রাজুয়েশন করার পর বর্তমানে বিউটিশিয়ানের কাজ করেন। এক ছেলেও রয়েছেন, তবে তিনি বিশেষভাবে সক্ষম। এখন একটা পুরনো ভ্যান কিনে, সেটাতেই খাবারের পশরা সাজিয়ে বসেন তিনি। এখন তাঁর কাছে ঘুগনি, ডিম সেদ্ধ, আলুরদম ছাড়াও, ঝালমুড়ি, দইবড়া, আলুকাবলি পাওয়া যায়। আগের তুলনায় কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে তার ব্যবসার।
আরও পড়ুন : স্বামীর ঋণ শোধ করতে হারিয়েছেন কিডনি, প্রতিকূলতাকে হারিয়ে জীবনযুদ্ধে বিজয়িনী জয়া
এই বিষয়ে সরস্বতী দেবী বলেন, “আমার এই ভ্যানটাকে আমি একটা ছোট্ট স্বপ্নের দোকানের মতো করেছি। এখান থেকেই আমি আমার সংসার চালাই।এখন আমার ব্যবসা আগের থেকে একটু ভাল হয়েছে। ডাল ভাত খেয়ে, ব্যবসা চালিয়ে, সংসার চলে যাচ্ছে।” এখন তাঁর ইচ্ছে মাথার উপর নিজস্ব পাকা ছাদ তৈরি করা। কারণ দীর্ঘ দু দশকেরও বেশি সময় ধরে তাদের আশ্রয় বলতে ভাড়াবাড়ি।
বার বার নিজের জীবনের ছন্দোপতনেও থেমে থাকেননি বর্ধমানের সরস্বতী দত্ত। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গিয়েছেন সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির বিরুদ্ধে। সত্যিই সরস্বতীর মত মহিলারা নারী শক্তির জ্বলন্ত প্রমাণ।





