আন্দুল রাজবাড়ি উনিশ শতকের গোড়ার দিকে নির্মিত হয়েছিল। রাজবাড়ি স্থাপিত হয় ১৮৩৪ সালে, স্থাপন করেছিলেন রাজা রাজনারায়ণ রায়বাহাদুর। আন্দুল রাজ পরিবারের সৃষ্টি হয় রামলোচন রায়ের হাত ধরে। তিনি ছিলেন লর্ড ক্লাইভের দেওয়ান। পরে ওয়ারেন হেস্টিংসেরও দেওয়ান হন। ওই সময়েই তিনি প্রভূত ধনসম্পত্তির অধিকারী হন। আন্দুল রাজ পরিবারের সঙ্গে পাশাপাশি উচ্চারিত হয় শোভাবাজার রাজপরিবারের নাম| দু’টি পরিবারের সৃষ্টির ইতিহাস সমসায়য়িক বলেই জানান আন্দুল রাজ পরিবারের সদস্যেরা। পাশেই রয়েছে রাজবাড়ির অন্নপূর্ণা মন্দির। এই মন্দিরের প্রবেশমুখেই রাখা রয়েছে কামান।
advertisement
আন্দুল রাজবাড়ির স্থাপত্য সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এটি ইউরোপীয় এবং ঐতিহ্যবাহী বাঙালি শৈলীর মিশ্রণ, এর মার্জিত সম্মুখভাগ, সুউচ্চ স্তম্ভ এবং জটিল খোদাই সহ। এস্টেটকে ঘিরে থাকা বিশাল উঠোন এবং বাগানের কারণে প্রাসাদের মহিমা আরও বেড়ে যায়। বর্তমানে আন্দুল রাজবাড়িতে মিত্র পরিবারের বাস। রাজপ্রাসাদের পশ্চিম দিকে রয়েছে অন্নপূর্ণার মন্দির। অন্নপূর্ণা ছাড়াও বিভিন্ন দেবদেবী সেখানে নিয়ম মেনে পুজিত হন।
‘সাহেব-বিবি-গোলাম’ ছাড়াও শুটিং হয়েছে আরও বহু হিন্দি-বাংলা সিনেমার। অনেক পরে আন্দুল রাজবাড়ি হেরিটেজ বিল্ডিং-এর মর্যাদা পেয়েছে। বাড়ির সামনে বিরাট খোলা প্রাঙ্গণ। একসময় নাকি সরস্বতী নদীর স্রোত এই প্রাঙ্গণ পর্যন্ত অবাধ বিচরণ করত। আন্দুল রাজবাড়ি কেবল একটি ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভই নয়,এই প্রাসাদটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থাপত্য জাঁকজমকের এক সমৃদ্ধ মিশ্রণ প্রদান করে। বাংলার পর্যটনকে উন্নত করে পশ্চিম বাংলায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হোমস্টে প্রকল্প ও এমনই একটি, যার প্রধান লক্ষ্য জেলায় জেলায় পর্যটকদের স্থানীয় সংস্কৃতি এবং স্থানীয় পরিবেশের মধ্যে থাকার সুযোগ সুবিধা প্রদান। ভবিষ্যতে তাঁদের এই বাড়ির ঐতিহ্য মানুষদের মধ্যে তুলে ধরতে হোমস্টে করার ভাবনা-চিন্তা আছে বলে জানান এই বাড়ির একমাত্র মেয়ে অর্চনা মিত্র ঘোষ, যিনি দক্ষিণ ভারতে থাকেন।
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগ জুড়ে, আন্দুল রাজবাড়ি বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ এবং বিপ্লবীদের কেন্দ্রস্থল হিসেবে কাজ করত। এটি ভারতের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মিলনস্থলে পরিণত হয়েছিল, যা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয় বরং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে।
রাকেশ মাইতি





