এদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকা ‘বিচারাধীন ভোটার’ প্রসঙ্গে বিমান বসু প্রশ্ন তোলেন, ‘‘৬০ লক্ষ ভোটারকে হয়রানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সমাধান কী? সমাধান না করে ভোট কীভাবে হবে?’’ তাঁর প্রশ্ন, যখন DEO বা ERO র মাধ্যমে যখন কোনও সমস্যা দেখা দিয়েছিল, সেই সময় নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেয়নি কেন?
advertisement
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে যাঁদের নাম বাদ গেছে, তাঁরা আদৌ কি জানতে পেরেছেন, কেন তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে? সেই প্রশ্ন তোলেন প্রবীণ বাম নেতা৷ বিমান বসুর প্রশ্ন, ‘‘যাঁদের বাদ নাম গেছে, তাঁদের কারণ দেখানো হয়েছে? দেখানো হয়নি, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপ তাঁরা নেবেন কীভাবে? তাহলে ভোট কীভাবে হবে?’’
এরপরেই বিমান বসুর স্পষ্ট উক্তি, ‘‘একটা ভোটারকে বাদ দিয়েও যদি ভোট করাতে চায়, তাহলে আমরা সমর্থন করব না। এর জন্য যা যা করতে হয় আমরা করব। বৈধ ভোটার যে বাদ যাবে না, তার গ্যারেন্টি কে দেবে?’’
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘CEO বলেছেন আপনাদের কথা অল পার্টি মিটিং-এ বলবেন। SIR তো আগেও হয়েছে, কাকপক্ষীও টের পায়নি। BLO-দের বিক্ষোভ হয়েছে তখন? ’’
দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে গত শনিবার প্রকাশিত হয়েছে এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, কেউ গরহাজির, কারও অন্য জায়গায় নাম রয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিচারাধীন।’ ধাপে ধাপে তাঁদের ভাগ্যও সাপ্লিমেটারি ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন: রাজ্যসভাতেই যাচ্ছেন নীতীশ কুমার! ঘোষণা করে দিলেন নিজেই, জানালেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছে…’
তবে এরই মাঝে ঘোষণা হতে পারে ভোটের নির্ঘণ্ট৷ তাহলে বাকি ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী হবে? আর তা নিশ্চিত না করে কীভাবেই বা ভোট হবে? এই প্রশ্ন তুলে পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবিতে রাজ্যের সিইও দফতরের সামনে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাম নেতা-কর্মীরা।
বুধবার খোলা আকাশের নীচে রাত কাটানোর পরে বৃহস্পতিবারও সিইও- দফতরের বাইরে অবস্থান চলছে বামেদের৷ সেখানেই এই বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন বিমান বসু৷
বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সিইও মনোজ আগরওয়ালের দেখা না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া চলবে না। ভোটার লিস্টে ভোটাররা থাকবেন না, এদিকে কমিশনের আধিকারিকরা বহাল তবিয়তে থাকবেন তা চলবে না।’’
বুধবারই টি বোর্ডের সামনে থেকে বামেদের একটি মিছিল শুরু হয়েছিল। সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মিছিল সিইও দফতরের সামনে পৌঁছলে মনোজ আগরওয়ালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বাম নেতৃত্বের। কিন্তু তিনি দেখা না করায় অধস্তন আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হয়। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেই আন্দোলনে বসার সিদ্ধান্ত নেয় বাম শিবির। বুধবার থেকে শুরু হওয়া সেই অবস্থান বিক্ষোভ বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে।
