নবদ্বীপের এই মণিপুর রাজবাড়ি সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করেন মণিপুরী সম্প্রদায়ের মানুষজন। এখানকার পরিবেশ, আচার-অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রথার মধ্যেও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে মণিপুরের নিজস্ব সংস্কৃতির ছাপ। রাজবাড়ির ভিতরে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহও অন্যান্য মন্দিরের তুলনায় বেশ আলাদা এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, যা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
advertisement
এ বিষয়ে মনিপুর রাজবাড়ির এক সদস্য রাজকুমার সিংহ জানান, বছরের বিভিন্ন সময়ে এই রাজবাড়িতে আয়োজন করা হয় মণিপুরী ঘরানার সংগীত ও নৃত্যের বিশেষ অনুষ্ঠান। বিশেষ করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের সময় রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। তখন মণিপুরী ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সঙ্গীত এবং নৃত্যের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দেখতে ভিড় জমান বহু দর্শনার্থী।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এইসব বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় দূর মণিপুর থেকেও বহু মণিপুরী বাসিন্দা নবদ্বীপের এই রাজবাড়িতে আসেন। তাঁরা এখানে এসে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির নানা অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন।
স্থানীয়দের মতে, নবদ্বীপের এই মণিপুর রাজবাড়ি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং এটি দুই ভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলনক্ষেত্র। তাই মণিপুরী ঘরানার নাচ, গান ও সংস্কৃতির স্বাদ নিতে চাইলে নবদ্বীপের এই ঐতিহ্যবাহী মণিপুর রাজবাড়িতে একবার ঘুরে আসতেই পারেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
মৈনাক দেবনাথ





