সোনালির কথায়, ‘‘তিনজন লিফটে চেপে ফোর্থ ফ্লোর প্রেস করেছি৷ লিফট কিছুটা উঠে আবার নামতে শুরু করে৷ বুঝতে পারছি না হঠাৎ কী হল। তার পর একদম বেসমেন্টে গিয়ে থামল৷ এর পর দরজা খুলে গেল লিফটের। দরজা খোলার পর দেখলাম সামনের দরজায় তালা দেওয়া। আমরা হেল্প হেল্প চিৎকার করছি। আমাদের সঙ্গে ফোনও ছিল না৷’’ সোনালি জানান তখন তাঁরা আতঙ্কিত৷ ভয় পাচ্ছিলেন দরজা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা আরও বিপদে পড়ে যাবেন৷ সেভাবেই কেটে যায় আধঘণ্টা৷ ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সোনালির কথায়, তখনও লিফটের দরজার সেন্সরে দাঁড়িয়ে তাঁর স্বামী৷ তিনি ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে লিফট আর কোলাপসিপল গেটের মাঝে সঙ্কীর্ণ অংশে দাঁড়ান৷
advertisement
তার পর হঠাৎ লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে যায়৷ দরজার ভাঁজেই আটকে যান সোনালির স্বামী। লিফট উঠে যায়। তিনি আর ছেলে গ্রাউন্ড লেভেলের গর্তে পড়ে যান। সোনালি বলেন, ‘‘ আমার স্বামী লিফটের দরজার মাঝে কী অবস্থায় কেমন ছিল, আমি দেখিনি। আমরা পড়ে গেলাম, ওকে ওই অবস্থায় নিয়ে লিফট উপরে উঠে গেল। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না৷ ছেলেকে কোনওমতে আমি আবার গর্ত থেকে তুলে লিফটের বাইরের দরজার ওখানে তুলে দিই। সে সময় স্বামীর রক্ত ঝরে আমার গায়ে পড়ছে। আমার ওই অবস্থাতেই স্বামীর দেহ আমার কোলে এসে পড়ল৷ লিফট তখন উপরে। উপরে লোক ছিল, ওরা বুঝতে পারছে না আমাদের এই অবস্থা।’’
আরও পড়ুন : আরজি করে লিফটে মৃত্যুর কারণ কি যান্ত্রিক বিভ্রাট? প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিস্ফোরক তথ্য
সোনালি জানান , ওই ভাবে এক ঘণ্টা হয়ে গিয়েছে। লিফট ঠিক করা হচ্ছিল। কিন্তু তাড়াতাড়ি করা হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘পরে অনেক ছেলে এসে আমাদের বার করল। আর আমি কিছুই দেখতে পারছি না। আমার বৃদ্ধ শ্বশুর ও শাশুড়ি মা পাশে ছিলেন। বিধায়ক, কাউন্সিলর সকলে সাহায্য করেছেন।’’ শোকার্ত সদ্য স্বামীহারা তরুণীর আক্ষেপ, তিনি নিজের জন্য কিছু চান না৷ কিন্তু ছেলেটার ভবিষ্যৎ পড়ে রয়েছে। তাঁর আর্তি, ‘‘আর কারওর যেন এমন পরিণতি না হয়। এটা দেখা হোক। দিদির উপর আস্থা আছে।
বাইরের ব্যাপার আমি জানি না কারা এর সঙ্গে যুক্ত৷ যদি দেড় ঘণ্টার মধ্যে তালা খুলে দিত, তাহলে আমরা বেরতে পারতাম। ছেলেকে কখন বের করেছে আমি জানি না।’’ তদন্তকারী আধিকারিকরাও তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান সোনালি৷
প্রসঙ্গত লিফটকাণ্ডে টালা থানায় জিজ্ঞাসাবাদের পর ইতিমধ্যে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন লিফটম্য়ান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ, নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান এবং শুভদীপ দাস।
