চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের উপর থেকে যানবাহনের চাপ কমাতে মহিষবাথান থেকে বাসন্তী হাইওয়ে হয়ে বানতলা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পুরনো ও সংকীর্ণ রাস্তাকে আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। নবদিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটি (এনডিআইটিএ)-র উদ্যোগে এই রাস্তাটি পেভার ব্লক ও পিচ ঢালাইয়ের মাধ্যমে উন্নত করা হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ পোষা কুকুর কেন সবসময় দরজার কাছেই ঘুমোয়? সবাই দেখলেও কারণ জানেন ১০০% কুকুরপ্রেমীও, জানুন
advertisement
বর্তমানে রাস্তাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও খানাখন্দে ভরা থাকায় বড় যানবাহন চলাচলের অনুপযুক্ত। সংস্কারের পর এটি সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউনের সঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার একটি কার্যকর বিকল্প সংযোগপথ হিসেবে কাজ করবে বলে প্রশাসনের আশা। দক্ষিণ কলকাতা থেকে সেক্টর ফাইভ বা নিউটাউনে যাওয়ার ক্ষেত্রে চিংড়িঘাটা মোড়ই প্রধান ভরসা। অফিস টাইমে সেখানে তীব্র যানজটের জেরে নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি চরমে ওঠে।
প্রশাসনের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, চিংড়িঘাটার বিকল্প পথ না তৈরি করলে যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্যেই পূর্ব কলকাতা জলাভূমির মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া এই মেঠো পথটিকেই উন্নয়নের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ওই এলাকার পরিবেশ এর কথা মাথায় রেখেই রাস্তাটি প্রশস্ত করা হবে। পেভার ব্লক ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য হল জল নিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং জলাভূমি হাওয়াই যাতে রাস্তা বসে না যায় সে বিষয়টি মাথায় রাখা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তাটি চালু হলে সেক্টর ফাইভ থেকে রুবি মোড়ে পৌঁছতে আগের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় কম লাগবে। পাশাপাশি চিংড়িঘাটা ও সায়েন্স সিটি সংলগ্ন রাস্তায় অন্তত ৩০ শতাংশ যানবাহনের চাপ কমতে পারে। বিশেষ করে বানতলা আইটি হাবের কর্মীদের জন্য এই সংযোগপথটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে, ফলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তাটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া। নতুন এই সংযোগপথ চালু হলে শুধু যাতায়াতের সুবিধাই বাড়বে না, সংলগ্ন এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে। দক্ষিণ কলকাতা ও রাজারহাট-নিউটাউনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের যে ঘাটতি ছিল, এই প্রকল্প রাস্তা তা অনেকটাই পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।






