ভজগোবিন্দ রায় (৮২) অবসরপ্রাপ্ত বাংলার অধ্যাপক। স্ত্রী অনিতা রায় ফিলোজফির অধ্যাপিকা ছিলেন। বাগুইহাটিতে নিজের বাড়িতেই বসবাস করেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। তাঁদের এক পুত্র ও দুই কন্যা। দুই কন্যা বিবাহিত। পুত্র স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকেন বাগুইহাটি একটি ফ্ল্যাটে।
ভজগোবিন্দ বাবুর আইনজীবী শিলাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে, মোবাইলের মেসেজ তুলে ধরে দাবি করেন দাদু ঠাকুমা যখন তাঁদের নাতি নাতনীদের দেখতে চাইতেন তখন পুত্র অর্থের বিনিময়ে নাতি-নাতনিদের দেখার শর্ত আরোপ করতেন।
advertisement
আরও পড়ুন: 'খাবারের জন্য সন্তানের কাছে ভিক্ষা চাইবেন বাবা!', হতবাক হয়ে মন্তব্য হাইকোর্টের বিচারপতির
বৃদ্ধ দম্পতির টালা পোস্ট অফিসের কাছে একটি ফ্ল্যাট আছে। আইনজীবী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, ২০২০ সালের ৮ জুন মা অনিতা রায়ের মৃত্যুর পর একদিন ছেলে অর্ণব রায় বাবাকে এবং পরিবারের কাউকে না জানিয়ে টালার ফ্লাটের তালা ভেঙে দখল নেন। ভজগোবিন্দ বাবু ছেলের এই ব্যবহারে হতচকিত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
ওই দিন ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ সন্ধ্যায় চিৎপুর থানায় ছেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করেন ভজগোবিন্দ বাবু। ইতিমধ্যে গ্রেফতারি এড়াতে ছেলে অর্ণব রায় আলিপুর আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। আইনজীবী গঙ্গোপাধ্যায়ের আরও অভিযোগ, প্রথম আগাম জামিনের আবেদন খারিজের তথ্য গোপন করে ১২ দিনের মাথায় ফের আগাম জামিনের আবেদন জানায় অর্ণব। এবারে তার জামিন মঞ্জুর হয়। শিয়ালদহ আদালত থেকে তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি।
এর পরই পুলিশ চুরির অভিযোগ থেকে ছেলে অর্ণবকে নিষ্কৃতি দিয়ে চার্জশিট পেশ করে। পুলিশের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফের নিম্ন আদালতে আবেদন জানান ভজগোবিন্দ বাবু। নিম্ন আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পর তদন্তকারী অফিসার পরিবর্তন হয়। বর্তমানে তদন্ত চলছে।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের জন্য বন্ধ রাখা যাবে না ইন্টারনেট, স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের
অন্যদিকে নিম্ন আদালতের জামিনের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ভজগোবিন্দ বাবু। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় বর্ধন জানান, নিম্ন আদালতের প্রথম আগাম জামিনের খারিজের তথ্য সম্পূর্ণভাবে গোপন করে জামিন পেয়েছেন অভিযুক্ত অর্ণব।সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের ওই আইনজীবীর কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ হন।
বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র অর্থের লোভে আদালতকে বিভ্রান্ত করে এক শ্রেণির আইনজীবী এই মহৎ পেশার বদনাম করছে। আদালত নির্দেশ দেয়, নিম্ন আদালতের সমস্ত জামিন মঞ্জুরের রায় খারিজ করা হলো। ফলে ভজগোবিন্দ বাবুর ছেলে অর্ণবকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের আর কোনও বাধা রইলো না। আইনজীবী মহলের মতে, কলকাতা হাইকোর্টের এই মন্তব্য আগামী দিনে আইনি পেশার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আরও সচেতন করে তুলবে।
