আশ্চর্যের বিষয় হল, এই গাছটি পুরো মন্দিরটিকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। স্থানীয়দের মতে, এই বটগাছের মূল উৎস বা প্রধান কাণ্ডটি খুঁজে পাওয়া দায়। পাথরের তৈরি এই মন্দিরে মা অনাদিকালীর পাষাণ মূর্তি ছাড়াও রয়েছে পাতালস্থ অনাদি শিবলিঙ্গ, মহাকাল ভৈরব এবং বাস্তুপুরুষ। মন্দিরের সেবাইত দেবাশীষ আচার্য জানান, এখানে এক তান্ত্রিক সাধুর সমাধিও রয়েছে, যা এই স্থানের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
advertisement
গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় শিক্ষক উত্তম কুমার ডোম বলেন, “এই মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত। এখানে প্রবেশ করলেই এক অদ্ভুত প্রশান্তি মেলে। মানুষের বহু দিনের মানত এখানে পূরণ হয়, আর সেই বিশ্বাস থেকেই কলকাতা, ধানবাদ, ঝরিয়া বা বর্ধমানের মতো দূর এলাকার ভক্তরা ছুটে আসেন।” চৈত্র গাজন এবং শ্রাবণ মাসে জল ঢালার উৎসবে মন্দির প্রাঙ্গণে তিল ধারণের জায়গা থাকে না।
এত প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মাহাত্ম্য থাকা সত্ত্বেও প্রচারের অভাবে এই মন্দিরটি আজও রাজ্য পর্যটন মানচিত্রে ব্রাত্য রয়ে গেছে। সেবাইতদের আক্ষেপ, মন্দিরের পাশেই মেইন রোড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত হওয়া সত্ত্বেও সরকারি সাহায্যের অভাবে মন্দিরটির সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সরকার যদি এই স্থানটিকে হেরিটেজ বা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে, তবে রসা গ্রাম বীরভূমের অন্যতম সেরা দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।





