ট্রাম্পের কথায়, “যে দেশগুলি গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে আমাদের সঙ্গে থাকবে না, তাদের উপর শুল্ক বসানো হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড দরকার।” তিনি আরও যোগ করেন, প্রয়োজনে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতেই পারে।
‘একেবারেই ঠিক নয়’ এ আর রহমানের মন্তব্য ঘিরে সরব অনুপ জলোটারাও! বিরোধিতায় জাভেদ আখতার, শোভা দে, শান
advertisement
গত বছর ওষুধের দামের প্রশ্নে ফ্রান্স ও জার্মানির উপর শুল্ক আরোপের হুমকির সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত সম্ভাব্য শুল্কের তুলনা করেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান নেতা হিসেবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের লক্ষ্যে চাপ বাড়াতেই এই কৌশল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল। এর আগে প্রয়োজনে সামরিক উপায় ব্যবহারের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার প্রয়োজন এবং সেখানে রাশিয়া ও চিনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মোকাবিলায় ডেনমার্ক পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে।
এদিন গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ন্যাটো জোটে আমেরিকার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে আনেন ট্রাম্প। তিনি জানান, এই ইস্যুতে ন্যাটোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ন্যাটো সহায়তা না করলে আমেরিকা জোট ছাড়বে কি না—এই প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি দেখা হবে। তাঁর সংযোজন, গ্রিনল্যান্ড ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তায় বড় ফাঁক থেকে যাবে, বিশেষ করে প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে।
ট্রাম্পের লাগাতার হুমকির জেরে ইউরোপের ন্যাটো সদস্য দেশগুলি সাম্প্রতিক সময়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি দেশ সেখানে সেনা পাঠানোর ঘোষণাও করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রিনল্যান্ডের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটি বর্তমানে কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে চিন ও রাশিয়া।
এদিকে শুক্রবারই আমেরিকার কংগ্রেসের এক দ্বিদলীয় প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেন সফর শুরু করেছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সমর্থন জানাতেই এই সফর বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে বুধবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রীরা হোয়াইট হাউসে গিয়ে আলোচনায় বসেন। বৈঠকের পর তাঁরা জানান, ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে তাঁদের মৌলিক মতভেদ রয়ে গিয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আমেরিকা, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড নিয়মিত আলোচনার জন্য একটি যৌথ কর্মীদল গঠনে সম্মত হয়েছে, যা প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহ অন্তর বৈঠক করবে।
এই আবহে ব্রিটেন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও সুইডেন আর্কটিক অঞ্চলে ভবিষ্যৎ সামরিক মহড়ার প্রস্তুতি হিসেবে সীমিত সংখ্যক সেনা মোতায়েনের কথা ঘোষণা করেছে। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট স্পষ্ট করেন, ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের লক্ষ্যে কোনও প্রভাব ফেলবে না।
