দোল পূর্ণিমার আগে থেকেই হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করেন সেখানে। এরপর তিন চারদিন ধরে উৎসবে থাকেন সকলেই। কথিত আছে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব নীলাচলে যাওয়ার পথে এসেছিলেন মথুরাপুরে। এরপর থেকে তাঁর ভাবধারায় আদর্শিত হয়ে এখানেও শুরু হয় তাঁর জন্মতিথি পালন সহ একাধিক উৎসব। এখনও এখানে রয়েছে তাঁর পদচিহ্ন। মথুরাপুরের ছত্রভোগ যেখানে গেলে আজও দেখা মিলবে চৈতন্য মহাপ্রভুর পদচিহ্নের প্রতিকৃতি। আদিগঙ্গার পাড়ে অবস্থান করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভোগ বিতরণ করেছিলেন। সেই থেকে এলাকার নাম হয় ছত্রভোগ। ঐতিহাসিক স্থান হিসাবে এই ছত্রভোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। বছরের কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী মানুষজন এখানে একত্রিত হন। সেইদিন এখানে হাজার হাজার ভক্ত ভিড় জমান।
advertisement
আরও পড়ুন: বদলে গেল সময়সূচী, এবার বহরমপুরে জেলা গ্রন্থাগারে ১২ ঘণ্টা বই পড়ার সুযোগ! পড়ুয়াদের জন্য বড় উদ্যোগ
জানা যায়, চৈতন্য মহাপ্রভু নীলাচলে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর চার ভক্তের সঙ্গে আদিগঙ্গার পাড় ধরে একসময় উপস্থিত হয়েছিলেন এই ছত্রভোগে। ছত্রভোগে আসার পর তিনি সেখানে রাত্রিযাপন করেন এবং সেখানে লীলা কীর্তন করেন। তিনি তাঁর পদচিহ্ন রেখে যান এই ছত্রভোগে। যেটি আজও সযত্নে রক্ষিত আছে সেখানে। বর্তমানে আদিগঙ্গার ধারা প্রায় বিলীন হয়ে গিয়েছে।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
চৈতন্য মহাপ্রভু ঠিক কবে এসেছিলেন ছত্রভোগে। মন্দিরের গায়ে খোদিত পাথরের শিলালিপি দেখে জানা যায় যে, তিনি এসেছিলেন ১৫১১ খ্রীষ্টাব্দে। পরে এই পদচিহ্নটি পাকাপাকিভাবে স্থাপন করা হয় ১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দে। স্বরস্বতী গোস্বামী মহারাজ এই পদচিহ্নটি স্থাপন করেন। এখন রয়ে গিয়েছে চৈতন্য মহাপ্রভুর আগমনের চিহ্ন। দোলপূর্ণিমা আসলেই সেই স্মৃতি টাটকা হয়ে ওঠে এই এলাকায়। আজও তাঁর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হাজার হাজার ভক্ত আসেন এখানে।





