শুধুমাত্র ঘড়ির কাঁটা মেলানো সময়ানুবর্তিতা নয়, যাত্রী সুরক্ষার দিক দিয়েও জাপানের বুলেট ট্রেনের নির্ভরযোগ্যতা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই৷
জাপানের নতুন বুলেট ট্রেনে কী চমক?
এবার নতুন এক বুলেট ট্রেন তৈরি করে আবারও গোটা বিশ্বকেই চমকে দিয়েছে জাপান৷ কারণ এই বুলেট ট্রেনে যাত্রীদে বসার কোনও আসন নেই৷ শুধু তাই নয়, জাপানের এই নতুন বুলেট ট্রেনে কোনও জানলাও নেই৷
advertisement
কিন্তু জাপানের এই বুলেট ট্রেনে যাত্রীদের বসার জন্য কোনও আসন অথবা জানলা নেই কেন? কারণ ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি (জেআর ইস্ট) এই বুলেট ট্রেনটি তৈরি করেছে শুধুমাত্র পণ্য পরিবহণের জন্য৷
সাতটি বগির এই ট্রেনটি একসময় যাত্রী পরিবহণেই ব্যবহৃত হত৷ কিন্তু সেই ট্রেনের ভিতর থেকে সমস্ত আসন খুলে ফেলা হয়েছে৷ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানলাগুলি৷
ট্রেনের পিচ্ছিল মেঝেও বদলে ফেলা হয়েছে৷ যাতে দ্রুতগতির ট্রেনের ভিতরে পেটি অথবা বাক্স রাখলে সেগুলি সহজ সরে না যায়৷
কী ধরনের পণ্য নিয়ে যাওয়া হবে বুলেট ট্রেনে?
এই পণ্যবাহী বুলেট ট্রেনটি মূলত মাছ এবং সবজির মতো দ্রুত পচনশীল খাদ্যদ্রব্য পরিবহণে ব্যবহার করা হবে৷ এর পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক্স সরঞ্জামের মতো কিছু জিনিস যা দ্রুত পৌঁছনো দরকার, সেগুলিও নিয়ে যাওয়া হবে৷
বাইরে থেকে যাতে যাতে খাদ্য দ্রব্য অথবা মাছ, সবজিতে রোদের তাপ, গরম না লাগে সেই কারণেই জানলাগুলি ঢেকে দেওয়া হয়েছে৷
জানা গিয়েছে, প্রতিটি ট্রিপে জাপানের এই নতুন বুলেট ট্রেন ১০০০টি পণ্যবাহী বাক্স বহন করতে পারে৷ সময় বাঁচাতে স্টেশনগুলিতেও ট্রেনের বগি পর্যন্ত পণ্য পৌঁছে দিতে স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ব্যবহার করছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি৷
কেন পণ্যবাহী বুলেট ট্রেন চালু করছে জাপান?
জেআর ইস্ট-এর দ্রুত গতির পরিষেবা ব্যবহার করে এতদিন টোকিওর বেশ কিছু নামী রেস্তোরাঁ টাটকা মাছ নিয়ে আসত৷ এবার পুরোদস্তুর পণ্য পরিবহণ শুরু করছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে কোম্পানি৷ কারণ এই মুহূর্তে জাপানে প্রশিক্ষিত ট্রাক চালকদের ঘাটতি দেখা গিয়েছে৷ ফলে সড়কপথে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে জাপানে৷
সম্প্রতি নতুন এই পণ্যবাহী ট্রেনকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে ইস্ট জাপান রেলওয়ে৷ যদিও আগামী ২৩ মার্চ থেকে এই পণ্যবাহী ট্রেন সপ্তাহের প্রতিটি কাজের দিনে একবার করে ইওয়াতের মোরিওকা এবং টোকিওর প্রিফেকচারের মধ্যে যাতায়াত করবে৷
জাপান যখন পণ্য পরিবহণেও বুলেট ট্রেন নিয়ে আসছে তখন ভারতে প্রথম যাত্রীবাহী বুলেট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ জোরকদমে চলছে৷ মুম্বই এবং আহমেদাবাদের মধ্যে ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে চলবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন৷ জাপানের শিনকানসেন ই ফাইভ সিরিজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ট্রেন চলবে৷ ট্রেনের গড় গতি থাকবে ৩২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা৷ সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার৷
