২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে সে দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা -দেশ ছাড়ার পরে এই এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে বাংলাদেশে৷ শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে এর আগে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ২০০৮ সালে৷ অর্থাৎ, প্রায় ১৮ বছর পরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজের সরকার নির্বাচন করতে চলেছেন বাংলাদেশের মানুষ৷
শেখ হাসিনা দেশছাড়া হওয়ার পরে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা চালাচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তিকালীন সরকার৷ হাসিনা সরকারের পতনের সময় থেকেই কার্যত উত্তপ্ত বাংলাদেশ৷ মাঝে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও গত কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে বাংলাদেশে৷ একের পর এক সংখ্যালঘু নিধন থেকে শুরু করে সম্পত্তি নষ্ট, সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানো, বাদ যায়নি কিছুই৷
advertisement
এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার ঘিরে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন পড়শি দেশের মানুষ৷ আগামিকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন৷ আগামিকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ৷ চলবে বিকেল ৪টে পর্যন্ত৷ তারপর সাড়ে ৪টে থেকে শুরু হবে গণনা৷ আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে৷
সংসদ কীভাবে গঠিত হবে?
বাংলাদেশের সংসদ, জাতীয় সংসদে ৩৫০ জন সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ জন সরাসরি ভোটারদের দ্বারা নির্বাচিত হন। বাকি ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত এবং পরবর্তীতে দলীয় শক্তির ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দ্বারা পূরণ করা হয়।
সরকার গঠনের জন্য, একটি দল বা জোটকে সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ আসনের মধ্যে কমপক্ষে ১৫১টি আসন জিততে হবে।
কোন কোন দল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে?
বাংলাদেশ জাতীয় দল (বিএনপি)
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২৮৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এবং মিত্র ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে মিলিত ভাবে ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা করেছে।
জামাতের ১১ দলীয় জোট
বাংলাদেশ জামাতে ইসলামির নেতৃত্বে ১১টি রাজনৈতিক দলের একটি জোট রয়েছে৷ এই জোটে রয়েছে বাংলাদেশ খেলাফর মজলিস, জাতীয় নাগরিক পার্টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, নিজাম-ই-ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি। এই জোট ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ
২০০৮ সাল থেকে সৈয়দ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে তৈরি এই দল ২৫৩টি আসনে প্রার্থী দেবে।
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট
নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (এরশাদ)। ২০৬টি আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে৷ জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ১৯৫টি আসনে, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিযোদ্ধা পার্টি ২০টি আসনে, বাংলাদেশ মুসলিম লিগ ১৭টি আসনে এবং জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) ১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ডেমোক্র্যাটিক ইউনাইটেড ফ্রন্ট
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সোশ্যাল পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল অন্তর্ভুক্ত। এটি ১৪৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বৃহত্তর সুন্নি জোট
বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের নেতৃত্বে। এর ২৬ জন প্রার্থী রয়েছে এবং তাঁরা ৬৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ প্রত্যেকে ১৯টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
