শুল্ক হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট। বেসেন্টের দাবি, রাশিয়ার কাছ থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। তাই এ বার শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা যেতে পারে।
বেসেন্ট সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানেই তিনি ভারতের উপর ট্রাম্পের শুল্কনীতির সাফল্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘‘ভারতের উপর আমাদের ২৫ শতাংশ শুল্ক ভীষণ ভাবে সফল। ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধই করে দিয়েছে। যদিও এখনও শুল্ক চালু রয়েছে। আমার মনে হয়, এ বার সেটা প্রত্যাহারের পথ খুলেছে।’’ গত সপ্তাহে সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দিয়েছিলেন বেসেন্ট। সেখান থেকেই ফক্স নিউজ়ের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
advertisement
প্রসঙ্গত, ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম খনিজ তেল আমদানিকারক। বেশ কিছু বছর ধরেই রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি করছিল ভারত। আর তাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি ছিল, ভারত এই তেল কেনার কারণেই ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছে রাশিয়া। এর জন্য ভারতের উপর গত জুলাইয়ে শাস্তিমূলক ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। ভারত থেকে আমেরিকায় রফতানিকৃত সকল পণ্যে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে প্রভাব পড়ে। চ়ড়া শুল্কের কারণে পণ্য রফতানির জন্য আমেরিকার বিকল্প পথ খুঁজছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেনি। ভারত সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং জাতীয় স্বার্থের উপর নির্ভর করে তারা বাণিজ্যনীতি স্থির করে। তৃতীয় পক্ষের হুমকিকে এখানে প্রাধান্য দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে দাবি, ভারতের একাধিক বেসরকারি সংস্থা রাশিয়ার তেল কেনার হার অনেকটাই কমিয়েছে। তবে সরকার কী করছে, তা জানা যায়নি। আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বিষয়ে আগের অবস্থানেই এখনও অনড় কেন্দ্র। রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধের কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি। বেসেন্ট কোথা থেকে এই তথ্য পেলেন, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
