ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি শুনেছেন ইরানের কর্মকর্তারা “খুবই মরিয়া হয়ে আলোচনা করতে চান।” যদিও আলোচনায় বসার আগে ওয়াশিংটন কী কী শর্ত রাখবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
‘কাল থেকে আর সাপ্লাই আসবে না’! আতঙ্কিত স্বর হোটেল ও রেস্তোরাঁ প্রধানের…এলপিজি ঘাটতির আশঙ্কা বাড়ছে
কী ভাবে তৈরি হয় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস? রেল কারখানার ভিতরের এই কর্মযজ্ঞের ভিডিও দেখে বিস্মিত সবাই!
advertisement
তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনেইকে নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি না যে তিনি শান্তিতে থাকতে পারবেন।” সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, সেই অভিযানের ফলাফল “প্রত্যাশার থেকেও অনেক বেশি” হয়েছে।
এছাড়াও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন যে সংঘাত বাড়তে থাকায় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাঁর আগের কড়া অবস্থান থেকে কিছুটা আলাদা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি সতর্ক করেছিলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকা আগের হামলার তুলনায় “বিশ গুণ বেশি শক্তিশালী” জবাব দেবে। এমনকি ইরানের এমন ক্ষতি করা হবে যাতে দেশটির পক্ষে পুনর্গঠন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে মার্কিন সামরিক অভিযানের খরচ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রথম ৪৮ ঘণ্টাতেই পেন্টাগন প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এতে মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে দ্রুতগতিতে আমেরিকার আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার কমে যাচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে চলতে থাকা যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কীভাবে বের করে আনা যায়, সেই কৌশল নিয়ে ভাবতে বলছেন তাঁর কিছু উপদেষ্টা। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি প্রতিবেদনে সূত্রের খবর, উপদেষ্টাদের মতে মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য অনেকটাই অর্জন করেছে। এখন যদি একটি স্পষ্ট এক্সিট স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা যায়, তবে সংঘাতকে সফল সামরিক অভিযান হিসেবেও তুলে ধরা যাবে। শুধু তাই নয়, এই এক্সিট স্ট্র্যাটেজি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ঝুঁকিও এড়াতেও সাহায্য করবে।
যদিও ট্রাম্পের সমর্থকদের বড় অংশ এখনও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করছে, তবু দীর্ঘ যুদ্ধ চলতে থাকলে সেই সমর্থন ধীরে ধীরে কমতে পারে এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন উপদেষ্টারা। একই সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমতের জরিপ সম্পর্কেও ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
