আর পাঁচটা বনেদি পরিবারের শিশুদের মতই শিল্প, সাহিত্য চর্চার মধ্যে দিয়েই তার বড় হয়ে ওঠা। বাবা ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ছোটবেলা থেকেই তাঁর চিত্রকলায় ছিল অগাধ আগ্রহ। পরবর্তীতে পড়াশোনার চাপে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাকে আঁকা ছেড়ে দিতে হয়। দীর্ঘ চার বছর পর অর্থাৎ উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর যখন ফের আঁকার জগতে তিনি ফিরতে চান, তখন এক প্রকার তিনি সব ভুলে গিয়েছেন। ঠিক তখনই, ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে এক ফোটোগ্রাফার বন্ধুর কথায় শখ করে তিনি একটি ক্যামেরা কেনেন। আর সেই ক্যামেরাই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শুরু হয় তাঁর ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ। ধীরে, ধীরে ১৯৯০ সালেই তিনি সান্নিধ্যে আসেন শিক্ষাগুরু সন্তোষ রাজগড়িয়া, মহাদেব লাল বারাই, শিবু দাঁ, গোলক সরকার, কালোবরণ লাহাদের। শুরু হয় তাঁর ফোটোগ্রাফির অনুশীলন। এরপরই ১৯৯৯ সালে সিনেমার জগতে পা রাখেন তিনি। তাঁর প্রথম সিনেমা বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘উত্তরা’। এই সিনেমায় স্থিরচিত্র শিল্পী হিসাবে প্রথম কাজ করেন স্বরূপ দত্ত। তারপর একে একে করেছেন বহু সিনেমায় কাজ।
advertisement
তাঁর ঝুলিতে এসেছে একাধিক মেডেল, পুরস্কার, সার্টিফিকেট। শুরু হয় সুদূর পুরুলিয়া থেকে বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির দিকে যাত্রা। এ বিষয়ে স্বরূপ দত্ত বলেন, বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের হাত ধরেই স্থিরচিত্র শিল্পী হিসেবে তাঁর সিনেমা জগতে পা রাখা। তাঁর প্রথম সিনেমা ‘উত্তরা’। তার পর একটা কঠিন লড়াই করে তিনি এই জায়গায় পৌঁছেছেন। এখনও পর্যন্ত ৫০-টি কাছাকাছি সিনেমায় তিনি স্থির চিত্রশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সৌভাগ্য তিনি বুদ্ধদেব, অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষ, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে আসতে পেরেছেন।
বর্তমানে ‘টেক কেয়ার ভালবাসা’ নামে একটি সিনেমায় স্থিরচিত্র শিল্পী হিসাবে কাজ করছেন তিনি। ২০১৫ সালে তিনি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন ‘প্রফেশনাল ফোটোগ্রাফার অফ দ্য ইয়ার’ হিসেবে। সম্প্রতি তাঁর কাজ করা একটি সিনেমা ‘ডিপ ফ্রিজ’ সেটিও জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। নবপ্রজন্মের শিল্পীদের নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও ভালবাসা রাখার কথা বলেন তিনি।
চলচ্চিত্র জগতে সফল স্টিল ফোটোগ্রাফারদের মধ্যে অন্যতম পুরুলিয়ার স্বরূপ দত্ত। তাঁর তোলা ছবি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। সুদূর পুরুলিয়া থেকে টলিউড, বলিউড ও হলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এই জেলার নাম উজ্জ্বল করেছেন তিনি। তাঁকে নিয়ে গর্বিত গোটা জঙ্গলমহল।




