advertisement

Traditional Sweet Of Bengal: ৪০০ বছরের ঐতিহ্য, রাজপ্রাসাদ থেকে বিদেশের মাটি, বেড়োর প্রসিদ্ধ পেড়া আজও সমান জনপ্রিয়

Last Updated:
ঘন দুধ আর চিনির মিশেলে তৈরি হয় বেড়োর পেড়া, একবার খেলে স্বাদ ভুলবে না
1/8
পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমার বেড়ো গ্রামের ৪০০ বছরের প্রাচীন পেড়া আজও সমান জনপ্রিয়। মানভূমের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই পেড়া কেবল একটি মিষ্টি নয়, বরং এক রাজকীয় উত্তরাধিকার।
পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর মহকুমার বেড়ো গ্রামের ৪০০ বছরের প্রাচীন পেড়া আজও সমান জনপ্রিয়। মানভূমের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই পেড়া কেবল একটি মিষ্টি নয়, বরং এক রাজকীয় উত্তরাধিকার
advertisement
2/8
লোকমুখে প্রচলিত আছে, একসময় এই পেড়া পঞ্চকোট রাজবংশের রাজপ্রাসাদে পুজোর প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা হত। রাজপরিবারের অত্যন্ত পছন্দের এই মিষ্টি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আজ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
লোকমুখে প্রচলিত আছে, একসময় এই পেড়া পঞ্চকোট রাজবংশের রাজপ্রাসাদে পুজোর প্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা হত। রাজপরিবারের অত্যন্ত পছন্দের এই মিষ্টি ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আজ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
advertisement
3/8
রাজকীয় পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে গ্রামীণ জীবনের অংশ হয়ে ওঠা এই পেড়া আজও বহন করে চলেছে তার প্রাচীন ঐতিহ্য— স্বাদে, গন্ধে ও প্রস্তুত প্রণালিতে।
রাজকীয় পরিমণ্ডল ছাড়িয়ে গ্রামীণ জীবনের অংশ হয়ে ওঠা এই পেড়া আজও বহন করে চলেছে তার প্রাচীন ঐতিহ্য— স্বাদে, গন্ধে ও প্রস্তুত প্রণালিতে।
advertisement
4/8
বেড়ো বাসস্ট্যান্ডের কাছেই একটি ছোট, সাধারণ দোকানে প্রতিদিন তৈরি হয় এই ঐতিহ্যবাহী পেড়া। নেই কোনও আড়ম্বর বা চটকদার সাজসজ্জা, তবুও সকাল থেকে দোকানে লেগে থাকে ভিড়। বড় কড়াইয়ে দুধ ঘন করা, নিখুঁত অনুপাতে চিনি মেশানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ধরে নাড়াচাড়া করা... এই যত্ন ও নিষ্ঠার ফলেই তৈরি হয় সেই চিরচেনা স্বাদ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই পদ্ধতি অনুসরণ করায় পেড়ার স্বাদে আজও আসেনি কোনও পরিবর্তন।
বেড়ো বাসস্ট্যান্ডের কাছেই একটি ছোট, সাধারণ দোকানে প্রতিদিন তৈরি হয় এই ঐতিহ্যবাহী পেড়া। নেই কোনও আড়ম্বর বা চটকদার সাজসজ্জা, তবুও সকাল থেকে দোকানে লেগে থাকে ভিড়। বড় কড়াইয়ে দুধ ঘন করা, নিখুঁত অনুপাতে চিনি মেশানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ধরে নাড়াচাড়া করা... এই যত্ন ও নিষ্ঠার ফলেই তৈরি হয় সেই চিরচেনা স্বাদ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই পদ্ধতি অনুসরণ করায় পেড়ার স্বাদে আজও আসেনি কোনও পরিবর্তন।
advertisement
5/8
দোকান ব্যবসায়ী তথা এই পেড়ার বর্তমান কারিগর শত্রুঘণ বরাট জানান,
দোকান ব্যবসায়ী তথা এই পেড়ার বর্তমান কারিগর শত্রুঘণ বরাট জানান, "প্রায় চার শতাব্দী আগে তাঁর পূর্বপুরুষ ফকির মোদক এই পেড়া তৈরি শুরু করেছিলেন। সেই থেকে চার পুরুষ ধরে একই নিয়ম ও রীতিতে তৈরি হয়ে আসছে এই মিষ্টি। ঐতিহ্যের এই ধারাবাহিকতাই বেড়োর পেড়াকে দিয়েছে এক বিশেষ মর্যাদা।"
advertisement
6/8
এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি হাসেন আলী আনসারির কথায়, মানভূমের ইতিহাসে এই পেড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মানভূমের গবেষক সুভাষ রায়ের কাছ থেকেই তিনি প্রথম এই পেড়ার ঐতিহাসিক তাৎপর্যের কথা জানতে পারেন।
এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি হাসেন আলী আনসারির কথায়, মানভূমের ইতিহাসে এই পেড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মানভূমের গবেষক সুভাষ রায়ের কাছ থেকেই তিনি প্রথম এই পেড়ার ঐতিহাসিক তাৎপর্যের কথা জানতে পারেন।
advertisement
7/8
চাহিদার দিক থেকেও বেড়োর পেড়া বিস্ময় জাগায়। প্রতিদিন তৈরি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় দেড়শো থেকে দুইশো পিস পেড়া বিক্রি হয়ে যায়। শুধু স্থানীয় মানুষই নন, দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ আসেন এই ঐতিহ্যবাহী স্বাদ উপভোগ করতে। অনেকেই আবার বিদেশে থাকা আত্মীয়দের জন্য সঙ্গে করে নিয়ে যান বেড়োর পেড়া। ফলে এই ছোট্ট গ্রামের মিষ্টির সুনাম আজ দেশের সীমানা পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়েছে।
চাহিদার দিক থেকেও বেড়োর পেড়া বিস্ময় জাগায়। প্রতিদিন তৈরি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় দেড়শো থেকে দুইশো পিস পেড়া বিক্রি হয়ে যায়। শুধু স্থানীয় মানুষই নন, দূরদূরান্ত থেকেও বহু মানুষ আসেন এই ঐতিহ্যবাহী স্বাদ উপভোগ করতে। অনেকেই আবার বিদেশে থাকা আত্মীয়দের জন্য সঙ্গে করে নিয়ে যান বেড়োর পেড়া। ফলে এই ছোট্ট গ্রামের মিষ্টির সুনাম আজ দেশের সীমানা পেরিয়েও ছড়িয়ে পড়েছে।
advertisement
8/8
সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে পরিবেশ, বদলেছে জীবনযাত্রা। কিন্তু অপরিবর্তিত রয়েছে বেড়োর পেড়ার স্বাদ ও জনপ্রিয়তা। মানভূমের অতীত, রাজকীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সরলতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন এই পেড়া। চারশো বছর পরেও সমানভাবে সুস্বাদু ও সমাদৃত, বেড়োর পেড়া সত্যিই পুরুলিয়ার গর্ব। (ছবি ও তথ্য: শান্তনু দাস)
সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে পরিবেশ, বদলেছে জীবনযাত্রা। কিন্তু অপরিবর্তিত রয়েছে বেড়োর পেড়ার স্বাদ ও জনপ্রিয়তা। মানভূমের অতীত, রাজকীয় ঐতিহ্য ও গ্রামীণ সরলতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন এই পেড়া। চারশো বছর পরেও সমানভাবে সুস্বাদু ও সমাদৃত, বেড়োর পেড়া সত্যিই পুরুলিয়ার গর্ব। (ছবি ও তথ্য: শান্তনু দাস)
advertisement
advertisement
advertisement