যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কোথায় টাকা লাগাবেন ভাবছেন ? এই ৫ সংস্থা দিতে পারে বাম্পার রিটার্ন
- Published by:Dolon Chattopadhyay
- news18 bangla
Last Updated:
গ্লোবাল অস্থিরতায় বাজারে পতন হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এই ৫টি কোম্পানি ভবিষ্যতে ভাল রিটার্ন দিতে পারে।
advertisement
এই কৌশলে বিনিয়োগকারীরা সেই সময় শেয়ার কেনেন, যখন বাজারে নেতিবাচক পরিবেশ থাকে বা কোনও শেয়ার চাপের মধ্যে থাকে।স্বাধীন বাজার বিশেষজ্ঞ অম্ব্রিশ বালিগা এমনই ৫টি শেয়ার চিহ্নিত করেছেন, যেগুলি বর্তমান স্তরে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, যুদ্ধের মতো অনিশ্চিত পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এই শেয়ারগুলিতে নিকট ভবিষ্যতে ভাল উত্থান দেখা যেতে পারে।এখানে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীরা কিছু সময়ের মধ্যেই ভাল লাভ করতে পারেন।
advertisement
হিমাদ্রি স্পেশালিটি কেমিক্যাল লিমিটেড:বাজার বিশেষজ্ঞের মতে, হিমাদ্রি স্পেশালিটি কেমিক্যালস একটি শীর্ষস্থানীয় ইন্টিগ্রেটেড কার্বন ও স্পেশালিটি কেমিক্যাল উৎপাদনকারী সংস্থা। কোম্পানিটি কোল টার ডিস্টিলেশন থেকে শুরু করে কার্বন ব্ল্যাক, অ্যাডভান্সড পিচ এবং স্পেশালিটি অয়েলের মতো ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্যের পুরো ভ্যালু চেন গড়ে তুলেছে।কোম্পানির প্রায় ৩০% আয় রফতানি থেকে আসে এবং কাঁচামালের বেশিরভাগই দেশের ভিতর থেকেই সংগ্রহ করা হয়। ফলে ইরান যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকতে পারে।শক্তিশালী ব্যালান্স শিট (₹৩৭১ কোটি নেট ক্যাশ), ৩৪% ROCE এবং বিভিন্ন বাজারে উপস্থিতি—এই সব মিলিয়ে পতনের সময়েও কোম্পানিটিকে শক্তিশালী রাখে। ২০২৮ অর্থবর্ষে কোম্পানির EPS ₹২১ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং টার্গেট প্রাইস ধরা হয়েছে ₹৬৩০।
advertisement
শক্তি পাম্পস:সোলার এবং বিদ্যুৎচালিত সাবমার্সিবল পাম্প তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি। এর পণ্যগুলি কৃষি, শিল্পক্ষেত্র, বিল্ডিং সার্ভিস এবং গৃহস্থালির প্রয়োজন—সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।দেশজুড়ে কোম্পানির ৫০০-র বেশি ডিলার এবং ৪০০ সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। পাশাপাশি, রফতানির ক্ষেত্রে ১০০টিরও বেশি দেশে এর উপস্থিতি রয়েছে। সরকারি PM কুসুম যোজনা-তে কোম্পানির প্রায় ২৫% অংশীদারিত্ব রয়েছে এবং প্রায় ₹২,০০০ কোটি টাকার শক্তিশালী অর্ডার বুক রয়েছে।এখন সংস্থাটি শুধুমাত্র সোলার পাম্প নির্মাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে ক্লিন-টেক সলিউশন প্রদানকারী কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে। ২০২৮ অর্থবর্ষে কোম্পানির EPS ₹৪৫ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং টার্গেট প্রাইস ধরা হয়েছে ₹৯০০।
advertisement
সেজিলিটি (Sagility):সেজিলিটি হেলথকেয়ার সেক্টরে অপারেশনাল ও প্রযুক্তিগত পরিষেবা প্রদান করে। কোম্পানিটি মূলত হেলথ ইনস্যুরেন্স সংস্থা এবং হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের জন্য ব্যাকএন্ড প্রক্রিয়া পরিচালনা করে, যা স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।গত এক বছরে কোম্পানির উল্লেখযোগ্য গতি দেখা গিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর ব্যবসার ভবিষ্যৎও ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৮ অর্থবর্ষের মধ্যে কোম্পানির রাজস্ব ₹১০,০০০ কোটির বেশি ছুঁতে পারে।এছাড়া, কোম্পানির EPS ₹৩ হতে পারে বলে ধরা হয়েছে এবং টার্গেট প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে ₹৫৪।
advertisement
ইএমএস লিমিটেড (EMS Limited):এই কোম্পানিটি মূলত জল ও বর্জ্যজল (ওয়াটার এবং ওয়েস্টওয়াটার) সংক্রান্ত অবকাঠামো প্রকল্পের নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।কোম্পানির অর্ডার বুকের প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ₹১,১০০ কোটি টাকার প্রকল্প এখনও প্রাথমিক ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া প্রায় ₹৪,০০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাইপলাইনে রয়েছে।আগামী এক বছরে কোম্পানির অগ্রগতি নতুন অর্ডার পাওয়ার চেয়ে বর্তমান প্রকল্পগুলি সময়মতো সম্পন্ন করার উপর বেশি নির্ভর করবে। ২০২৮ অর্থবর্ষের জন্য কোম্পানির EPS ₹৩৮ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে এবং টার্গেট প্রাইস ধরা হয়েছে ₹৩৮০।
advertisement
অরক্লা ইন্ডিয়া (Orkla India):এটি একটি প্যাকেজড ফুড সেক্টরের কোম্পানি, যা মশলা এবং প্রস্তুত খাদ্যপণ্য বিক্রি করে। এর পোর্টফোলিওতে MTR Foods এবং Eastern Condiments-এর মতো শক্তিশালী ব্র্যান্ড রয়েছে।কোম্পানির প্রায় ৭০% আয় দক্ষিণ ভারত থেকে আসে, যেখানে প্যাকেজড ফুডের ব্যবহারও তুলনামূলকভাবে বেশি। দক্ষিণ ভারত দেশের মোট GDP-র প্রায় ৩০% অবদান রাখে এবং এখানে মাথাপিছু প্যাকেজড ফুডে খরচও বেশি।উন্নত ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং বিক্রয় চ্যানেলের উন্নতির মাধ্যমে কোম্পানি আগামী দিনে ধারাবাহিকভাবে আয় বাড়াতে সক্ষম হতে পারে। ২০২৮ অর্থবর্ষে কোম্পানির EPS ₹২৭ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে এবং টার্গেট প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে ₹৭৫৬।
advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শেয়ার বাজারে পতনের প্রবণতা দেখা গেলেও, যুদ্ধ পরিস্থিতি থামার পর এবং গ্লোবাল মার্কেটের সঙ্গে অর্থনীতি স্বাভাবিক হলে বাজার আবার পুরনো গতিতে ফিরবে।আগামী দিনে শেয়ার বাজারের ঊর্ধ্বগতির সবচেয়ে বেশি লাভ পাবে সেইসব কোম্পানি, যাদের ফান্ডামেন্টাল শক্তিশালী এবং যাদের উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল মূলত দেশের ভিতর থেকেই সংগ্রহ করা হয়।এই ধরনের কোম্পানিগুলিকে বাইরের সাপ্লাইয়ের উপর বেশি নির্ভর করতে হয় না, ফলে তাদের পারফরম্যান্স আরও ভাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
advertisement








