মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা ছেলের পাশে ষাটোর্ধ বাবার লড়াই..., চোখ ভিজিয়ে দেবে এই গল্প!
- Reported by:Ranjan Chanda
- Published by:Sanjukta Sarkar
Last Updated:
West Medinipur News: কেশিয়াড়ির এই চায়ের ঠেলা আজ কেবল জীবিকা নয়, এক বাবার হার না মানা জেদ আর ভালবাসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেশিয়াড়ি, পশ্চিম মেদিনীপুর: সুবর্ণরেখা নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে, বদলেছে সময়। কিন্তু গত দশ বছরে হলদিয়া থেকে জঙ্গলমহল কেশিয়াড়িতে আসা স্বপন ভট্টাচার্য ও তাঁর ছেলে সৌম্যদীপের জীবনে বসন্ত আসেনি, এসেছে শুধু পতনের দীর্ঘশ্বাস, আবার সেখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর লড়াই। হলদিয়ার সুতাহাটা থেকে মা ও স্ত্রীকে হারিয়ে দুই ছেলেকে নিয়ে কেশিয়াড়িতে আশ্রয়ের খোঁজে এসেছিলেন স্বপনবাবু।
বড় ছেলে সৌম্যদীপ অ্যানিমেশন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে কেশিয়াড়িতেই শুরু করেছিলেন এক অভিনব চায়ের দোকান— ‘সেকি চায়’। তাঁর শৈল্পিক ছোঁয়ায় দোকানটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়, এরপর পুনেতে ভাল চাকরিও পান তিনি। বেশ কয়েক মাস কাজ করেছেন সেখানে মোটামুটি ভাবে আশার আলো দেখছিলেন স্বপন বাবু। এদিকে অসাধারণ ছবি আঁকত সৌম্যদীপ।
advertisement
advertisement
কিন্তু নিয়তি ছিল তার বড় শত্রু। এক পারিবারিক অনুষ্ঠান সেরে বাড়ি ফিরতে গিয়ে এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় তছনছ হয়ে যায় সব। বাবা স্বপনের চোখের সামনে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। মৃত্যুর মুখ থেকে সৌম্যদীপ বেঁচে ফিরলেও হারিয়েছেন স্মৃতি, এক প্রকার অকেজো হয়েছে শরীরের বাম দিক।
যে ছেলে একসময় নিপুণ দক্ষতায় চা বানাত, আজ সে সবটাই বিস্মৃত। এখন কেশিয়াড়ি রবীন্দ্র ভবনের পঞ্চায়েত সমিতির একটি ছোট্ট কামরাই তাঁদের ঘর আর আস্তানা। সেখানেই অসুস্থ ছেলেকে আগলে রেখে পুনরায় চায়ের দোকান চালু করেছেন ষাটোর্ধ বৃদ্ধ বাবা।
advertisement
সকাল থেকে রাত— বৃদ্ধ স্বপনবাবুই এখন মা এবং বাবা দুইয়ের ভূমিকা পালন করেন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে চায়ের দোকানে কফি আর চা বিক্রি করা, সবটাই একা হাতে সামলান তিনি। বাবাকে সামান্য সাহায্য করে দেয় সৌম্যদীপ। যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে ছেলের বহুমূল্য ওষুধ আর দু’বেলা অন্নের সংস্থান। একসময়ের চনমনে সৌম্যদীপ আজ শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। চোখের সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারী ছেলেকে এভাবে ধুঁকতে দেখে বৃদ্ধ বাবার দু’চোখ বারবার ভিজে ওঠে।
advertisement
তবুও স্বপনবাবু হার মানেননি।
অসহায় ঘরহীন মানুষদের দেখে নিজের শোক চেপে রেখে লড়ছেন সমাজের সঙ্গে, রূঢ় বাস্তবতার সঙ্গে। কেশিয়াড়ির এই চায়ের ঠেলা আজ কেবল জীবিকা নয়, এক বাবার হার না মানা জেদ আর ভালবাসার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের এই প্রতিদিনের সংগ্রাম মনে করিয়ে দেয়, জীবন কতটা কঠিন হতে পারে, আবার ভালবাসার টানে মানুষ কতটা অপরাজেয় হতে পারে।
advertisement
রঞ্জন চন্দ
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Feb 17, 2026 11:23 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা ছেলের পাশে ষাটোর্ধ বাবার লড়াই..., চোখ ভিজিয়ে দেবে এই গল্প!







