সরস্বতী পুজোর দিনে বিস্ময় শিলিগুড়িতে, মাত্র ১৯ মাসের দেবাংশীর অবাক করা দক্ষতা
- Reported by:Ricktik Bhattacharjee
- hyperlocal
- Published by:Sanjukta Sarkar
Last Updated:
দেবাংশীর বাবা ইমন কল্যাণ চক্রবর্তী পেশায় রেলের কর্মী। কাজের কারণে তাঁকে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। মা রুমকি চন্দ গৃহবধূ হলেও ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত চর্চার সঙ্গে যুক্ত। গান শেখা ও শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ঠাকুরদা রতন চক্রবর্তী ও ঠাকুমা মহুয়া চক্রবর্তীর সঙ্গেই গড়ে উঠেছে এই ছোট্ট পরিবার। বাবার অনুপস্থিতিতে মূলত মা, ঠাকুমা ও ঠাকুরদার সান্নিধ্যেই বড় হয়ে উঠছে দেবাংশী।
শিলিগুড়ি: সরস্বতী পুজোর দিনে শিলিগুড়িতে নজর কেড়েছে এক উনিশ মাসের খুদের অসাধারণ স্মরণশক্তি ও জ্ঞান। নাম তার দেবাংশী চক্রবর্তী। বছর নয়, মাত্র উনিশ মাস বয়সেই সে অনায়াসে ইংরেজি বর্ণমালা, নিজের পরিচয়, এমনকি দেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বলতে পারছে। শিলিগুড়ির লেকটাউন এলাকায় মা–বাবা, ঠাম্মা ও ঠাকুরদার সঙ্গে বসবাস দেবাংশীর।
দেবাংশীর বাবা ইমন কল্যাণ চক্রবর্তী পেশায় রেলের কর্মী। কাজের কারণে তাঁকে বেশিরভাগ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। মা রুমকি চন্দ গৃহবধূ হলেও ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীত চর্চার সঙ্গে যুক্ত। গান শেখা ও শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ঠাকুরদা রতন চক্রবর্তী ও ঠাকুমা মহুয়া চক্রবর্তীর সঙ্গেই গড়ে উঠেছে এই ছোট্ট পরিবার। বাবার অনুপস্থিতিতে মূলত মা, ঠাকুমা ও ঠাকুরদার সান্নিধ্যেই বড় হয়ে উঠছে দেবাংশী।
advertisement
advertisement
মা রুমকি চন্দ জানান, এত অল্প বয়সে মেয়ের উপর কখনও বইয়ের চাপ দিতে চাননি তিনি। খেলতে খেলতে, গল্প করতে করতেই বিভিন্ন বিষয় মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন। দেশের নাম, রং, সম্পর্ক, দিন-তারিখ—সবই ছিল কথার মধ্যেই। সেই সময়ই লক্ষ্য করেন, প্রায় ১৪-১৫ মাস বয়স থেকেই দেবাংশী খুব সহজে এসব তথ্য মনে রাখতে পারছে এবং নিজের আধো-আধো গলায় সেগুলো বলতে পারছে।
advertisement
বর্তমানে উনিশ মাসের দেবাংশী অনায়াসে এ, বি, সি, ডি বলতে পারে। নিজের পরিচয় ইংরেজিতে সুন্দরভাবে জানাতে পারে। সপ্তাহের সাত দিনের নাম, বছরের বারো মাসের নাম, জাতীয় পতাকার তিনটি রং তার জানা। শুধু তাই নয়, দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর নামের পাশাপাশি ২৮টি রাজ্যের রাজধানীর নামও সে নির্ভুলভাবে বলে দিতে পারে, যা দেখে অবাক হচ্ছেন পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে আশপাশের মানুষজন।
advertisement
মা রুমকি চন্দ বলেন, মেয়ের এই আগ্রহ ও স্মরণশক্তি দেখে তিনি নিজেও বিস্মিত। ভবিষ্যতে পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্পচর্চার মধ্যেই মেয়েকে বড় করে তুলতে চান। অন্যদিকে বাবা ইমন কল্যাণ চক্রবর্তী জানান, মেয়ের এই প্রতিভা তাঁদের কাছে গর্বের বিষয়। তবে তাঁরা সচেতনভাবেই দেবাংশীকে মোবাইল ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখছেন। তাঁর কথায়, “বাচ্চাদের হাতে ফোন না দিয়ে যদি বাবা-মা নিজেরা সময় দেন, কথা বলেন, তাহলেই ওদের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব।”
advertisement
উনিশ মাসের দেবাংশীর গল্প শুধু একটি খুদে প্রতিভার কথা নয়, বরং সচেতন অভিভাবকত্বের এক সুন্দর দৃষ্টান্ত। বইয়ের চাপ বা মোবাইলের পর্দা নয়, বরং ভালোবাসা, সময় আর নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়েই যে শিশুর মেধা ও স্মরণশক্তি বিকশিত হতে পারে, দেবাংশী তারই প্রমাণ। ছোটবেলা থেকেই সঠিক পরিবেশ ও যত্ন পেলে আগামী দিনে এমন আরও অনেক প্রতিভা সমাজের সামনে উঠে আসবে—এই বিশ্বাসই জোরালো করে তোলে দেবাংশীর গল্প।
advertisement
ঋত্বিক ভট্টাচার্য
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Jan 23, 2026 8:01 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
সরস্বতী পুজোর দিনে বিস্ময় শিলিগুড়িতে, মাত্র ১৯ মাসের দেবাংশীর অবাক করা দক্ষতা








