East Bardhaman News: গ্যাসের সংকটে চাঙ্গা হচ্ছে পুরনো কারখানা... কেতুগ্রামে বাড়ছে গুলকয়লার চাহিদা
- Reported by:Bonoarilal Chowdhury
- Published by:Rachana Majumder
Last Updated:
গ্যাসের অপ্রতুলতা ও বুকিংয়ের সমস্যার কারণে এখন অনেক পরিবারই বিকল্প জ্বালানির খোঁজে বেরিয়েছেন। আর সেই খোঁজেই আবার সামনে আসছে পুরনো দিনের গুল।
কাটোয়া: এক সময় কাটোয়া ছিল গুল কারখানার জন্য পরিচিত। শহর ও মহকুমা জুড়ে ছড়িয়ে ছিল একাধিক গুল তৈরির কারখানা। কয়লার গুঁড়ো দিয়ে তৈরি এই গুলই ছিল তখন রান্নার প্রধান জ্বালানি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবহার বাড়তে শুরু করলে সেই পুরনো জ্বালানির দিন যেন ধীরে ধীরে ফুরিয়ে গিয়েছিল। একের পর এক বন্ধ হয়ে যায় গুল কারখানা। কিন্তু পরিস্থিতি যেন আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
গ্যাসের অপ্রতুলতা ও বুকিংয়ের সমস্যার কারণে এখন অনেক পরিবারই বিকল্প জ্বালানির খোঁজে বেরিয়েছেন। আর সেই খোঁজেই আবার সামনে আসছে পুরনো দিনের গুল। কাটোয়া শহর ও আশপাশের এলাকায় গুলের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।এক সময় শুধু কাটোয়া শহরেই প্রায় ২৯টি গুল কারখানা ছিল। মহকুমা জুড়ে সংখ্যাটা ছিল আরও বেশি। এই শিল্পের উপর নির্ভর করেই বহু মানুষের রুটি-রুজি চলত। আশির দশকে গুল ছিল রান্নাঘরের প্রধান জ্বালানি। পরে নব্বইয়ের দশকে গ্যাসের প্রসার ঘটতেই ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে এই ব্যবসা। প্রায় সব পরিবারই গ্যাস সিলিন্ডারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি যেন সেই পুরনো দিনের স্মৃতিকে আবার ফিরিয়ে আনছে। গ্যাসের সংকটের জেরে এখন মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত সকলেই বিকল্প হিসেবে গুলের খোঁজ করছেন। ফলে বহু পুরনো গুল কারখানায় আবার কাজ শুরু হয়েছে।
advertisement
আরও পড়ুন: সর্বভারতীয় CA পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান, মেদিনীপুরের মেয়ে খুশি শিকারিয়ার সাফল্যে খুশির হাওয়া বাংলাজুড়ে
গুল ব্যবসায়ী রামকৃষ্ণ দাস, সুবীর ঘোষেরা বলেন, “হঠাৎ করেই চাহিদা বেড়েছে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণেই মনে হয় গুলের চাহিদা আবার বাড়ছে। আমরা আবার সেই আগের মতো ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে এখন গুল ভ্যানে করে ডেলিভারি যাচ্ছে।” কেতুগ্রামের একটি গুল কারখানায় এখন নতুন করে ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। তবে শুধু কেতুগ্রাম নয়, মুর্শিদাবাদের সালার এবং কাটোয়া মহকুমার বিভিন্ন এলাকাতেও পুরনো গুল ব্যবসায়ীরা আবার নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছেন। অনেকেই গাড়ি বোঝাই করে গুল সরবরাহ করছেন বিভিন্ন গ্রামে। এর পাশাপাশি শহরের বাজারে আবার দেখা মিলছে টিনের তৈরি ছোট আঁচের উনুনের। কাটোয়া শহরের মাধবীতলা এলাকায় কয়েকটি দোকানে এই কম দামের উনুনের বিক্রি হঠাৎই বেড়ে গেছে। এতদিন যেসব টিনের উনুন অনেকেই ভাঙাচোরা বলে ফেলে দিয়েছিলেন, এখন সেগুলিই আবার যত্ন করে ঘরে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন অনেক পরিবার।
advertisement
advertisement
উনুন বিক্রেতা বাপি দে বলেন, “বিক্রি প্রায় একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তবে এই কদিন ধরে দেখছি উনুন বিক্রি ভালই হচ্ছে। আমরাও এতে দুপয়সা লাভ করছি ভালই লাগছে।”বর্তমানে বাজারে মূলত দু’ধরনের গুল পাওয়া যায়। একটি তৈরি হয় কয়লার গুঁড়োর সঙ্গে বিশেষ ধরনের মাটি মিশিয়ে। এই গুল প্রতি কেজি ৩ থেকে ৭ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়। অন্যটি আসে পড়শি রাজ্য বিহার থেকে, যা পোড়া কয়লার গুঁড়ো দিয়ে তৈরি। সেই গুলের দাম প্রায় ১১ টাকা প্রতি কেজি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও বুকিংয়ের জটিলতার কারণে পুরনো দিনের এই বিকল্প জ্বালানি আবার ঘরে রাখা ভালো। অন্তত জরুরি সময়ে পরিবারের জন্য দু’মুঠো ভাত রান্না করার নিশ্চয়তা তো থাকবে। সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া এক পুরনো জ্বালানিই যেন আবার ফিরে আসছে রান্নাঘরে।
কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গের সব লেটেস্ট ব্রেকিং নিউজ পাবেন নিউজ 18 বাংলায় ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং সব গুরুত্বপূর্ণ খবর নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ এর পাশাপাশি সব খবরের আপডেট পেতে ডাউনলোড করতে পারেন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 13, 2026 12:27 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/পূর্ব বর্ধমান/
East Bardhaman News: গ্যাসের সংকটে চাঙ্গা হচ্ছে পুরনো কারখানা... কেতুগ্রামে বাড়ছে গুলকয়লার চাহিদা








