East Bardhaman News: গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ 'চদর বদর'! ধামসা-মাদলের সুরে জমে আসর, এখনও বহু মানুষ দেখেনি বিলুপ্তপ্রায় লোকশিল্প
- Reported by:Bonoarilal Chowdhury
- Published by:Aishwarya Purkait
Last Updated:
East Bardhaman News: পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ চদর বদর। সময়ের স্রোতে ভেসে গিয়ে আজ প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের মাটিতে যতদিন ধামসার সুর বাজবে, ততদিন বেঁচে থাকবে এই আদিবাসী পুতুলনাচ।
আউশগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: ধামসার মৃদু শব্দ, তার সঙ্গে মাদলের তাল, ধীরে ধীরে জমে উঠছে আসর। চাদরে ঢাকা ছোট্ট এক মঞ্চ, তার উপরে গোলাকার ছাউনি। চাদর সরতেই যেন সামনে আসে এক অন্য জগৎ। আসলে এটাই হল চদর বদর কিংবা কারও কাছে চাদর বাঁধনি। এটা এক বহু পুরনো আদিবাসী পুতুলনাচের সুন্দর শিল্পকথা। এই লোকশিল্পের শিকড় ছড়িয়ে আছে ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের মাটি জুড়ে। বিশেষ করে বীরভূম জেলা, দক্ষিণ দিনাজপুর ও পূর্ব বর্ধমান জেলার কিছু অংশে। তবে সময়ের স্রোতে ভেসে গিয়ে আজ তা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।
তবু পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রামের কয়েকটি গ্রামে এখনও শোনা যায় সেই পুরনো সুর, দেখা মেলে কাঠের পুতুলের প্রাণোচ্ছল নাচ। সাহিত্যিক রাধামাধব মণ্ডল বলেন, “আমাদের আউশগ্রামের কিছু কিছু জায়গায় এখনও দেখা যায়। এটা এক বহু পুরোনো ঐতিহ্য।” জানা যায়, ‘চদর’ শব্দটি এসেছে ‘চাদর’ থেকে, আর ‘বদর’ বা ‘বাঁধনি’ মানে বাঁধা। কথিত পুতুলনাচের পুরো কাঠামোটি একটি কাপড় দিয়ে বাঁধা থাকে বলেই এমন নাম।
advertisement
আরও পড়ুনঃ বিষ খাইয়ে ১৫টির বেশি সারমেয়কে মেরে ফেলার অভিযোগ! চরম নৃশংসতা বনগাঁয়, হবে মৃত কুকুরদের ময়নাতদন্ত
এই নাচ মূলত সুতোয় বাঁধা পুতুলনাচ। প্রায় ৭ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা পুতুলগুলি তৈরি হয় বেল, জাম, শিরিষের মতো কাঠ দিয়ে। তারপর তাতে রঙের ছোঁয়া, রঙবেরঙের ছোট কাপড়ের পোশাক, বিভিন্ন পুঁতির মালা দিয়ে সাজানো হয়। মঞ্চের উপর দুই সারিতে সাজানো থাকে পুতুল। এক সারিতে আদিবাসী নারীদের নৃত্যদল, ঠিক যেমনভাবে তারা বাস্তবে নাচের সময় সাজেন। অন্য সারিতে দুই-তিনজন বাদ্যযন্ত্রী, হাতে মাদল, ঢোল, ধামসা। আর মাঝখানে এক রসিক চরিত্র এক মাতাল ব্যক্তি, যে গানের তালে তালে মগ্ন হয়ে ওঠে। যেন জীবনের হাসি-ঠাট্টা, আনন্দ আর বেদনা সব একসঙ্গে ধরা পড়ে এই ক্ষুদ্র মঞ্চে।
advertisement
advertisement
আরও পড়ুনঃ সাঁইথিয়ায় বাড়ি থেকে উদ্ধার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর দেহ! খুনের অভিযোগ পরিবারের, তদন্তে পুলিশ
পাটাতনের নীচে লুকিয়ে থাকে লিভার। শিল্পীর আঙুলে প্যাঁচানো সূক্ষ্ম সুতো সেই লিভারকে নড়ায়। আর তাতেই কাঠের পুতুলগুলি নানা ভঙ্গিমায় নেচে ওঠে কখনও ধীর, কখনও দ্রুত, কখনও আবেগে ভরপুর। ধামসা মাদলের তালে, সাঁওতালি গানের সুরে ঘুরতে থাকে পুতুলেরা। রাধামাধব বাবু আরও বলেন, “পুতুলগুলো সবই তাঁরা নিজেরাই তৈরি করেন এবং কাপড় পুঁতি দিয়ে সাজান। এটা সত্যিই লোকশিল্পের এক আলাদা বিষয়। এই পুতুল নাচ এখনও অনেকেই দেখেননি। তবে এটা দেখার মতোই জিনিস।”
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
দুর্গাপুজোর আগে গ্রামবাংলার উঠোনে এখনও কোথাও কোথাও বসে এই আসর। চাদরের আড়াল থেকে উঁকি দেয় বহু প্রজন্মের স্মৃতি। চদর বদর আজ বিলুপ্তপ্রায়। কিন্তু যতদিন আউশগ্রামের মাটিতে ধামসার শব্দ বাজবে, ততদিন কোনও শিল্পীর আঙুলে প্যাঁচানো থাকবে সেই সুতো, ততদিন এই অজানা লোকগল্প হারিয়ে যাবে না। কারণ, চদর বদর শুধু পুতুলনাচ নয়, এটি এক আদিবাসী জীবনের প্রতিচ্ছবি, এক টুকরো ইতিহাস, এক হারিয়ে যেতে বসা স্বপ্নের রঙিন মঞ্চ।
Location :
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal
First Published :
Feb 17, 2026 10:11 AM IST
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
East Bardhaman News: গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ 'চদর বদর'! ধামসা-মাদলের সুরে জমে আসর, এখনও বহু মানুষ দেখেনি বিলুপ্তপ্রায় লোকশিল্প









