Home /News /west-bardhaman /
Jungle Fruit : বাজারে হাজির নতুন এক ধরনের ফল! নতুন প্রজন্মের কৌতূহল তুঙ্গে

Jungle Fruit : বাজারে হাজির নতুন এক ধরনের ফল! নতুন প্রজন্মের কৌতূহল তুঙ্গে

দুর্গাপুর

দুর্গাপুর বেনাচিতি বাজারে বিক্রেতা সাজিয়ে রেখেছেন বৈঁচিফল।

Jungle Fruit : আপাতত দুর্গাপুরের বিভিন্ন বাজারে এই অজানা রহস্যময় ফলকে নিয়ে তৈরি হয়েছে চর্চা

  • Share this:

    দুর্গাপুর : দুর্গাপুরের বিভিন্ন বাজারে নতুন এক ধরনের ফলের পশরা সাজিয়ে বসে রয়েছেন জনা কয়েক বিক্রেতা । নতুন প্রজন্ম বাজারে গিয়ে সেদিকে তাকাচ্ছেন বটে,  কিন্তু তেমন কিছু বুঝে উঠতে না পেরে এগিয়ে যাচ্ছেন । আর যে সমস্ত ক্রেতারা পঞ্চাশের গণ্ডি ইতিমধ্যেই পার করেছেন, তারা যদি এই ফল দেখতে পাচ্ছেন, কার্যত হামলে পড়ছেন সেখানে । আপাতত দুর্গাপুরের বিভিন্ন বাজারে এই অজানা রহস্যময় ফলকে নিয়ে তৈরি হয়েছে চর্চা । যার নাম বৈঁচি ফল ।

    বিক্রেতা এবং পুরনো প্রজন্ম এই ফলকে বলছেন ‘লোকাল চেরি’। যা চেরি ফলকে রীতিমতো টেক্কা দিচ্ছে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে। কিন্তু কী এই বৈঁচি ফল ? তার পুষ্টিগুণই বা কতটা ? কোথায়ই বা পাওয়া যায় ? নতুন প্রজন্মের মনে এমন হাজারো প্রশ্ন ভিড় করছে । যার উত্তর দিচ্ছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞান বলছে, বৈঁচি ফল শুধুমাত্র খেতে সুস্বাদুই নয়, এর খাদ্যগুণও রয়েছে অনেক । এই ফলের উপকারিতা নানা রকম। বৈঁচি গাছও নানান ওষধি গুণে ভরপুর । জন্ডিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকম রোগ সারাতে বৈঁচি ফল এবং এই ফলের গাছের জুড়ি মেলা ভার । যদিও জানা যাচ্ছে, বৈচি ফলের গাছের আধিক্য দেখা যায় মূলত পাহাড়ি এলাকায় ।

    এটি একটি জংলি ফল । শুধুমাত্র গরমকালে এই ফল বিভিন্ন অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় । দুর্গাপুরে এক সময় ঘন জঙ্গল ছিল । তবে শহরের প্রতিপত্তি যত বেড়েছে, ততই দূরে সরে গিয়েছে জঙ্গল । কিন্তু যে টুকু জঙ্গল রয়েছে, সেখানে এখনও দেখা পাওয়া যাচ্ছে এই ফলের । যা আপাত সাধারণ, কিন্তু অনেক গুণে ভরপুর।

    আরও পড়ুন : উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন? বাসের ভাড়া শুনে চোখ কপালে উঠবে

    সংগ্রাহকরা বলছেন, এই ফল সংগ্রহ করার জন্য রীতিমতো ঝক্কি পোহাতে হয় তাদের । গাছের কাঁটায় হাত কেটে যায়। তার পর সেই সমস্ত ফল সংগ্রহ করা হলে, ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে দুর্গাপুরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হয় । সংগ্রাহকরা ৫০০ টাকা কেজি দরে এই ফল বিক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন ।

    আরও পড়ুন : ফুলে ভরা টোটোর ছাদবাগান! ছায়ার শীতলতায় গন্তব্যে পাড়ি আরোহীদের

    কিন্তু চেরি ফলের সঙ্গে এই বৈচি ফলের মূল পার্থক্য কোথায়? মিলই বা রয়েছে কতটা? আসুন জেনে নেওয়া যাক । চেরি ফলের সঙ্গে বৈঁচি ফলের মূল পার্থক্য দাম এবং রঙে । দুর্গাপুরের বিভিন্ন বাজারে চেরি ফল আপাতত প্রায় ৯৫০ থেকে ১০৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে । অথচ বৈঁচিসংগ্রাহকরা কেজিপ্রতি তা বিক্রি করছেন ৫০০ টাকা কেজি দরে । বিক্রেতাদের কাছ থেকে এই ফল কেজি দরে কিনতে গেলে দাম পড়বে মোটামুটি ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা । তা ছাড়াও চেরি ফল দেখতে উজ্জ্বল লাল রঙের । কিন্তু বৈঁচি ফল কিছুটা লালচে কালো রং-এর। তবে বিক্রেতা এবং ক্রেতারা বলছেন, বৈঁচি ফলের সঙ্গে চেরি ফলের স্বাদের খুব বেশি পার্থক্য নেই । দুটি ফলই স্বাদে প্রায় একইরকম । তবে বৈঁচি ফল পুষ্টিগুণে চেরিকে যখন তখন টেক্কা দিতে পারে । যদিও চেরি ফলের ভিতরে যেমন একটি মাত্র বীজ থাকে, বৈঁচি ফলের ভিতরে থাকে বেশ কয়েকটি বীজ ।

    আরও পড়ুন : ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি এড়াতে এই পাঁচ জিনিস এড়িয়ে চলুন সব সময়

    নতুন প্রজন্ম কৌতূহলের বশে বৈঁচি ফলের স্বাদ নিতে বার বার ফিরে আসছেন দোকানে । আর যাঁরা পুরনো, তাঁরা বৈঁচি ফল বাজারে দেখতে পেলেই হামলে পড়ছেন । তাঁরা বলছেন, ‘‘ বৈঁচি ফলের স্বাদ ভোলার নয় । এই ফল আমাদের বহু শৈশবের স্মৃতি ফিরিয়ে দেয় । আপাতত দুর্গাপুরে বিভিন্ন বাজারে বৈঁচি ফলের চাহিদা বাড়ছে । বাড়ছে বৈঁচি ফল নিয়ে চর্চা । চাইলে আপনিও একদিন বাজারে ঘুরতে ঘুরতে চেখে দেখতে পারেন এই জংলি অথচ আপাত অসাধারণ ফল ।’’

    (Nayan Ghosh)
    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published:

    Tags: Bainchi Fruit, Durgapur

    পরবর্তী খবর