পাকা বাঁধের দাবিতে সংগঠিত পূর্ব মেদিনীপুরের জলধা গ্রামের বাসিন্দারা

দীর্ঘ ২.৪৫ কিমি গার্ড ওয়াল ভেঙে পড়ে আছে। দেখে মনে হবে মাটির নীচ থেকে সবটা তুলে যেন কেউ উল্টো করে রেখে দিয়ে গেছে।

দীর্ঘ ২.৪৫ কিমি গার্ড ওয়াল ভেঙে পড়ে আছে। দেখে মনে হবে মাটির নীচ থেকে সবটা তুলে যেন কেউ উল্টো করে রেখে দিয়ে গেছে।

  • Share this:

#পূর্ব মেদিনীপুরে: গ্রামের নাম জলধা। ছোট পুকুর। দো-তলা স্কুল বাড়ি। বাড়ির দালানে বড়ি শুকোতে দেওয়ার ব্যস্ততা। নৌকোয় করে মাছ ধরতে যাওয়ার ব্যস্ততা। আর বিকেল হলেই বাঁধের ওপরে বসে খোশ গল্প করা। এটাই ছিল জলধার রোজ নামচা। জলধা অবশ্য এখন নিজের অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে। ওই যে ২৬ তারিখ একটা ঝড় এসেছিল। চেনা সমুদ্রের, অচেনা রুপ মনে পড়লে এখনও ভয়ে কাঁপছে জলধা'র মানুষ।

গ্রাম থেকে সিমেন্ট বাঁধানো রাস্তাটা সমুদ্র বাঁধের দিকে উঠলেই হোঁচট খেতে হবে। কারণ সমুদ্রতটের ধারের বল্গা উল্টে পড়ে আছে। দীর্ঘ ২.৪৫ কিমি গার্ড ওয়াল ভেঙে পড়ে আছে। দেখে মনে হবে মাটির নীচ থেকে সবটা তুলে যেন কেউ উল্টো করে রেখে দিয়ে গেছে। শুধু জোয়ারের জল এসে ধাক্কা মারলেই ইঁট খুলে খুলে পড়ছে৷ তার পরে গ্রাম লাগোয়া কালো পিচের রাস্তা আর বাঁধের ভিত নানা জায়গায় ভেঙে পড়ে আছে। একটু উঁচু জায়গা থেকে দেখলে মনে হবে কেউ যেন ইচ্ছে করে রাস্তা খুঁড়ে দিয়ে চলে গেছে৷ পিচের আস্তরণ ছিটকে পড়ে আছে গ্রামের ইতিউতি। ফলে জলধা'র সবুজ চেহারা আজ ম্লান হয়ে গেছে।

ত্রাণ শিবিরে বসে থাকা সংঘমিত্রা সাউ বলছেন, "আমার ঘরে এখনও এক মানুষ জল। সাঁতার কেটে গ্রামে ঢুকতে হচ্ছে। সরকার আমাদের ত্রিপল দিয়েছে। তা দিয়ে রাস্তার ওপরে কোনও মতে ঘর করে থাকছি।" অনেকের আলমারি, অনেকের জামা-কাপড়, অনেকের আবার ঘরের সব জিনিষ আছে কেমন তাই জানেন না গ্রামের মানুষরা। আর এই সব কিছুর জন্যেই গ্রামের মানুষেরা দায়ী করছেন সমুদ্র বাঁধকে। সংগঠিত হয়েছেন গ্রামবাসীরা নিজেরাই। পোস্টার নিয়ে পাকা, কংক্রিটের বাঁধ গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা। মাত্র চার মাস আগেই গার্ড ওয়াল বানানো হয়েছে। সেই গার্ড ওয়াল কিভাবে ভেঙে এই ভাবে জলের তলায় চলে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের বক্তব্য, পুরোপুরি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে বানানো হয়েছিল এই গার্ড ওয়াল। গ্রামের অন্যতম বয়স্ক ব্যক্তি অজয় সাউ জানাচ্ছেন, "সামনেই অমাবস্যার কোটাল আসবে। ফের ভাঙা বাঁধ দিয়ে গ্রামে জল ঢুকবে। আমাদের ভবিষ্যৎ শেষ।" ফের গ্রামে জল ঢোকার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: