উলোটপূরাণ! এখানে পুজোয় বাপেরবাড়ি থেকে ‘উমা’ ফিরে যান শ্বশুরবাড়ি

উলোটপূরাণ! এখানে পুজোয় বাপেরবাড়ি থেকে ‘উমা’ ফিরে যান শ্বশুরবাড়ি
প্রতিমা গড়ছেন ঘরের মেয়েরা ৷ নিজস্ব চিত্র ৷

উলটো নিয়ম কেন? জানতে যেতে হবে বীরভূমের মহম্মদবাজার। পারিবারিক পেশা মৃৎশিল্পী। ছেলেদের সঙ্গে প্রতিমা তৈরিতে হাত লাগান ঘরের মেয়েরাও।

  • Share this:

    #বীরভূম: পুজোর ছুটিতে প্রতি বছর বাপের বাড়িতে আসে উমা। তখনই আবার কয়েকজন উমা শ্বশুরবাড়ি ফেরে। উমা মণ্ডপে গেলেই বাপের বাড়ি থেকে তাঁদের বিদায় নেওয়ার পালা। বীরভূমের মহম্মদবাজারের সূত্রধর পরিবারের এটাই রীতি। ঘরের মেয়েদের কাছে পায় না মৃৎশিল্পী সূত্রধর পরিবার।তুমি আসবে বলে তাই...সারা বছর দিন গুনে যাই... আগমনীর অপেক্ষা। প্রতি বছর বাপের বাড়ি আসে ঘরের মেয়ে। বাবা-মায়ের আদর পেতে আসা... খুশিতে ভাসা...তবে সূত্রধর পরিবারে নিয়মটা আলাদা... এই বাড়ির উমারা পুজোর আগে বাপের বাড়ি আসে। উমা মণ্ডপে চলে গেলেই শ্বশুরবাড়ি ফিরে যায় ঘরের মেয়েরা।উলটো নিয়ম কেন? জানতে যেতে হবে বীরভূমের মহম্মদবাজার। পারিবারিক পেশা মৃৎশিল্পী। ছেলেদের সঙ্গে প্রতিমা তৈরিতে হাত লাগান ঘরের মেয়েরাও। বিশ্বকর্মা পুজোর আগেই বাপের বাড়িতে চলে আসেন তাঁরা। তারপর এক উমার হাতে আরেক উমা সাজে। মাটি মাখে, আলতা পরে, চোখ এঁকে তৈরি হয় দশভূজা। মন্ডপে যাওয়ার জন্য। বাবা-দাদাদের কাজের চাপ কমাতে প্রতিবার এই সময় চলে আসে ঘরের মেয়েরা। প্রতিমা মণ্ডপে চলে গেলেই শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যাওয়ার পালা।


    প্রতি বছর পুজো আসে, নিয়ম মেনে। সূত্রধর পরিবারের নিয়মও চলে আসছে... বংশপরম্পরায়। ছোট থেকে দেখে আসা রীতিই চলছে। ঘরের মেয়েরা তাই ঘরে ফেরে। পুজোর সময় নয়, পুজোর আগেই। কাঁধে কাঁধ মেলায়... দু’হাতে তুলে নেয় দশ হাতের ভার। যে দায়িত্ব তাঁর শিকড়ের... যে টান তাঁর বাপের বাড়ির...৷পুজোয় নীল আকাশ আনন্দের মধ্যেই সূত্রধর বাড়িতে এক আকাশ মন খারাপ। তবু.. মেনে নিতে হয়... হাসিমুখেই... আসলে এটাই যে নিয়ম...৷ হোক না অন্য সময়ে... অন্য কোনও দিনে... তবু তো কাছে আসে... দশভূজার টানে...শিকড়ের টানে.... ঘরের মেয়েরা ফেরে.... এখানেই তো তাঁদের মাটি... এখানেই খুঁজে পাওয়া মেয়েবেলা...৷

    First published:

    লেটেস্ট খবর