পুজোর বাজেট ছেঁটে ফেলে মানুষের পাশে, নিখরচায় দুয়ারে অক্সিজেন পরিষেবা চালু করল ক্লাব

সপ্তাহখানেক আগে চারটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল। এখন হাতে মোট দশটি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে।

সপ্তাহখানেক আগে চারটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল। এখন হাতে মোট দশটি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে।

  • Share this:

#বর্ধমান:  শহরে শুরু হয়ে গেল দুয়ারে অক্সিজেন পরিষেবা। করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার মহতি উদ্যোগ নিল ইছলাবাদ কিরণ সংঘের সদস্যরা। এজন্য আগামী দুর্গাপুজোর বাজেটের সত্তর শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদস্যরা। ইতিমধ্যেই তারা তহবিল গড়ে দশটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করেছেন। আপাতত এলাকার চোদ্দ হাজার বাসিন্দার মধ্যে যারা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সিলিন্ডারের যোগান দেবে ইছলাবাদ কিরণ সংঘ। বর্ধমান শহর জুড়েই যাতে এই পরিষেবা দেওয়া যায় তারও চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সদস্যরা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেসামাল গোটা দেশ। হাসপাতালের বেড মিলছে না। অক্সিজেনের অভাবে ধুঁকছে করোনা আক্রান্ত। সেসব দেখেই এলাকার করোনা আক্রান্ত বাসিন্দাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইছলাবাদ কিরণ সংঘের সদস্যরা। বর্ধমানের বড় পুজো কমিটিগুলির মধ্যে অন্যতম এই ইছলাবাদ কিরণ সংঘ। সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই বিগ বাজেটের পুজো করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার আমরা পুজোর বাজেট সত্তর শতাংশ কম করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই টাকা করোনা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর কাজে লাগানো হবে বলে পরিকল্পনা  নেওয়া হয়েছে।

সদস্যরা জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেক আগে চারটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল। এখন হাতে মোট দশটি অক্সিজেন সিলিন্ডার রয়েছে।  নম্বর ওয়ার্ডের ১৪ হাজার বাসিন্দা রয়েছেন। প্রথমে এই এলাকার করোনা আক্রান্ত বাসিন্দাদের মধ্যে যাদের অক্সিজেন প্রয়োজন হবে তাদের কাছে এই সিলিন্ডার পৌঁছে দেবার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরপর গোটা শহরেই যাতে নিখরচায় পরিষেবা দেওয়া যায় সেই প্রচেষ্টা চলছে।

সদস্যরা জানিয়েছেন,  ক্লাবের তহবিল থেকে কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সদস্যরাও যে যার সাধ্যমতো আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সেই টাকা থেকেই অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁরা বলছেন, রাজ্য সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করেছি। সেই তাগিদ থেকেই এই উদ্যোগ। অক্সিজেনের অভাবে মৃত্যুর কোলে কেউ যাতে ঢলে না পড়েন তা নিশ্চিত করতেই এই দুয়ারে অক্সিজেন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। পুজোর বাজেট কমিয়ে ইছলাবাদ কিরণ সংঘের এই উদ্যোগকে  সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

Saradindu Ghosh

Published by:Debalina Datta
First published: