Bangla news: নন্দকুমারের এই মন্দির মাকে ভোগে দেওয়া হয় কাঁকড়ার পদ! জানুন
- Published by:Piya Banerjee
Last Updated:
Bangla news: নন্দকুমারের ঝিংলেশ্বরী মায়ের লোক-কথা অবাক করবে! জাগ্রত এই দেবীর পুজোয় নানা আয়োজনে মেতে ওঠেন ভক্তরা!
#পূর্ব মেদিনীপুর: ঠাকুর বা দেবী প্রতিমার ভোগে দেওয়া হয় রান্না করা কাঁকড়ার পদ। শুনেই আপনি চমকে উঠলেন তো! হ্যাঁ এটাই সত্যি ঝিংলেশ্বরী দেবী মাকে ভোগে দেওয়া হয় কাঁকড়া রান্নার পদ। নন্দকুমারের ভবানীপুর গ্রামে অবস্থিত ঝিংলেশ্বরী দেবী। প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুজো হয় এই মায়ের। নন্দকুমার দিঘা ১১৬ বি জাতীয় সড়কের ভবানীপুর মোড় থেকে গ্রামীণ পিচ রাস্তা বরাবর দু কিলোমিটার গেলে দেখতে পাবেন এই ঝিংলেশ্বরী মায়ের মন্দির। এই মন্দিরে ভক্তরা অন্যান্য জিনিস পত্রের পাশাপাশি কাঁকড়া নিবেদন করে পুজো দেন মায়ের মন্দিরে। নন্দকুমার ব্লক এর এই লোকদেবীর আবির্ভাব নিয়ে প্রচলিত লোকগাথা আছে। ঢেউ এর তটদেশ থেকে উৎপত্তি তাই নাম 'ঢিঙ্গুলেশ্বরী'। কিন্তু লোকমুখে বেশি পরিচিত ঝিংলেশ্বরী মা হিসেবে।
ভৌগলিক অবস্থানগত ভাবে তৎকালীন সময়ে এই এলাকা নদীগর্ভ ছিল। নৌকা, বোট, জাহাজ চলাচল করত। একবার নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে এক মহিলা জাহাজের চালকদের কাছে 'হূঁকা' খাওয়ার জন্য আগুন চান। তখন তাঁকে জাহাজে উঠে আসতে বলে মাঝিরা। কিন্তু তিনি জানান জাহাজে উঠলে জাহাজ ডুবে যাবে। এই কথা শুনে হাসাহাসি করে মাঝিরা। তাতেই ক্রদ্ধ হয়ে জাহাজে উঠে পড়েন সেই মহিলা। তৎক্ষণাৎ নদী তে বসে যায় জাহাজটি। নিজের স্বরূপ ধারণ করেন মা ঝিঙলেশ্বরী। নিজেদের ভুল বুঝতে পারে মাঝিরা। রাতে তাম্রলিপ্ত রাজাকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে পুজোর আদেশ দেন। সেইমতো তাম্রলিপ্ত প্রদেশের (বর্তমান তমলুক) রাজা পূজার ব্যবস্থা করেন।সেই থেকে বর্তমানেও নিত্য পূজা হয়ে আসছে। এখন মন্দির পাকা হয়েছে। তবে জাহাজের মাস্তুল সহ মাটির যে বেদীতে মা ঝিংলেশ্বরী অধিষ্ঠিত হয়ে রয়েছেন সেই অংশের কোন সংস্কার করা হয়নি। সেবাইতরা জানান তেমনটাই মায়ের আদেশ। আবার ৫১ সতী পীঠের অন্যতম তমলুক বর্গভীমা মায়ের সঙ্গে এনার যোগাযোগ রয়েছে বলেও লোকমুখে প্রচলিত। দেবী বর্গভীমাকে ভীমা মা বলা হয়।
advertisement
advertisement
ঝিংলেশ্বরী মায়ের ভক্তরা দেবীকে নিজের বাড়ির মায়ের মত মনে করে পুজো দেন। ভক্তদের কথা অনুযায়ী, মায়ের কাছে কিছু চাইলে মা নাকি ফেরান না। সবার মনস্কামনা পূর্ণ করে। মনস্কামনা পূর্ণ হলে ভক্তরা পাঠা হাঁস মুরগি কাঁকড়া ও বিভিন্ন রকমের মাছ এবং শাকসবজি নিবেদন করে পুজো দেন। এই ঝিংলেশ্বরীমন্দিরে কাঁকড়া রান্নার পদ সহযোগে বিশেষ ভোগ দেওয়া নিয়ে একটি প্রচলিত কাহিনী রয়েছে। মন্দিরের পূজারীর কথা অনুযায়ী, ঝিংলেশ্বরী দেবী মা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোন এক সাধককে স্বপ্নাদেশ দেন তাকে মন্দিরে কাঁকড়া দিয়ে পুজো দিতে। ওই সাধক কাঁকড়া নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে খুঁজে খুঁজে মন্দিরে এসে পৌঁছান দুর্গা পূজার নবমীর দিন। সেই কাঁকড়া রান্না করে দেবীর জন্য ভোগ প্রস্তুত করা হয়। সেই থেকে কাঁকড়া রান্না করা পদ দেবী মায়ের বিশেষ ভোগে দেওয়া হয়। প্রতি শনি মঙ্গলবার বহু ভক্তরা তাদের মানতের পুজো দিতে আসে কাঁকড়া নিয়ে। শনি মঙ্গলবার কাঁকড়া রান্না করা পদ দিয়ে বিশেষ ভোগ দেওয়া হয়।
advertisement
Saikat Shee
Location :
First Published :
May 28, 2022 7:45 PM IST
বাংলা খবর/ খবর/পূর্ব মেদিনীপুর/
Bangla news: নন্দকুমারের এই মন্দির মাকে ভোগে দেওয়া হয় কাঁকড়ার পদ! জানুন






