Black Fungus: দেশ জুড়ে ত্রাস ব্ল্যাক ফাঙ্গাস, কেন ওষুধের আকাল ভারতে! জানুন আসল কারণ

কেন্দ্রীয় সরকারকে এই অভাবের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

কেন্দ্রীয় সরকারকে এই অভাবের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: একদিকে করোনা, অন্য দিকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। দেশের জন্য যেন এক অজানা অভিশাপ। বর্তমানে সারা দেশে মিউকরমাইকোসিস (Mucormycosis)-এর সংক্রমণের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় ৯,০০০। এই চিকিৎসায় ব্যবহৃত একমাত্র ওষুধ হল লাইপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি (Liposomal Amphotericin B)। কিন্তু দেশ জুড়ে এই ওষুধেরও পড়েছে আকাল। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে লাইপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি-র কালোবাজারি ও গোপনে মজুত করার বেশ কিছু উদাহরণ। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে এই অভাবের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।

রোগের ধরণ:

মিউকরমাইকোসিস সংক্রমণকে বিরল ছত্রাকের সংক্রমণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। যাইহোক, ফুঙ্গির (Fungi) জার্নালে অনুসারে, ভারতে এর প্রাদুর্ভাবের পরিমাণ অনুমানিক ১৪০ মিলিয়ন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এটি শরীরে সংক্রমিত হলে ৫৪ শতাংশ রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে।

১৫ মে, AIIMS-এর ডিরেক্টর ও ভারতের কোভিড-১৯ টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডা. রণদীপ গুলেরিয়া (Dr Randeep Guleria)বলেন, দেশের বেশিরভাগ অংশ থেকেই কোভিড-অ্যাসোসিয়েটেড মিউকরমাইকোসিস নামে পরিচিত পরিপূরক ছত্রাকের সংক্রমণ বৃদ্ধির খবর আসছে। যেটাকে তিনি কোভিড চিকিৎসায় "স্টেরয়েডগুলির অযৌক্তিক ব্যবহার" এর সঙ্গে যুক্ত করছেন। এর ঠিক পাঁচদিন পরেই স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে এই সংক্রমণের খবর নিশ্চিত করে। এটি ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ (Black Fungus) নামে পরিচিত। এর পরেই স্বাস্থ্য মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হওয়া কেসের রিপোর্ট বানানোর বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করে।

এই ফাঙ্গাসের চিকিৎসা:

চিকিৎসকদের কথায়, এই ফাঙ্গাসের চিকিৎসা দ্রুত এবং আক্রমণাত্মক হতে হবে। যাতে এর সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ফাঙ্গাসটিকে শরীর থেকে বের করার করার জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়।

সর্বাধিক ব্যবহৃত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল হল লাইপোসোমাল অ্যামফোটেরিসিন বি ইঞ্জেকশন। যদি এটি না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে নেওয়া যেতে পারে অ্যামফোটেরিসিন বি ডিওক্সায়োলট ((Amphotericin B Deoxycholate) ইনজেকশন। তৃতীয় বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, ইসাভুকোনাজল (Isavuconazole)। এটি ফাইজার (Pfizer) দ্বারা নির্মিত। এটি ট্যাবলেট হলেও ইঞ্জেকশনের কারে দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়া চতুর্থ বিকল্পটি হল প্যাসাকোনাজল (Posaconazole)। একটি জেনেরিক ওষুধ যা ট্যাবলেট এবং ইঞ্জেকশন হিসাবে আসে।

অ্যামফোটেরিসিনের (Amphotericin) ঘাটতি:

অ্যামফোটেরিসিনের সঙ্গে চিকিৎসা ৪-৬ সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। এই ওষুধের ৯০-১২০টি ইঞ্জেকশন প্রয়োজন, যার জন্য খরচ হয় ৫-৮ লক্ষ টাকা বা তারও বেশি। বর্তমানে ৯,০০০ বিষয় লোকের সংক্রমণের জন্য ৯-১০ লক্ষ অ্যামফোটেরিসিনের ইঞ্জেকশন প্রয়োজন ভারতে। তবে এই সংখ্যার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।

অ্যামফোটেরিসিন, ভারত সেরাম এবং ভ্যাকসিনস (Bharat Serums & Vaccines), BDR ফার্মাসিউটিক্যালস (BDR Pharmaceuticals), সান ফার্মা (Sun Pharma), সিপলা (Cipla) এবং লাইফ কেয়ার ইনোভেশনস (Life Care Innovations) দ্বারা উৎপাদিত হয়। মাইলান (Mylan) ভারতে ওষুধ সরবরাহ ও আমদানি করে।

তবে এতদিন সীমিত সংক্রমণের কারে এর উৎপাদনের পরিমাণও কম ছিল। এরপর সমস্ত নির্মাতারা একযোগে মে মাসে অ্যামফোটেরিসিন বি-এর ১.৬৩ লক্ষ শিশি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখে। এছাড়া ২১ মে এক বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্র জানায়, ৩.৬৩ লক্ষ শিশি আরও আমদানি করা হবে।

কেন্দ্রের প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে, আমফোটেরিসিন বি-এর মাত্র ৬৭,৯৩০টি ইঞ্জেকশন ১০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত রাজ্যগুলির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে যে, জুন মাসে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ২.৫৫ লক্ষ শিশি পর্যন্ত করা হবে এবং আরও ৩.১৫ লক্ষ শিশি আমদানি করে মোট ৫.৭০ লক্ষ সিসি আমফোটেরিসিন বি সরবরাহ করা হবে।

পাঁচটি নতুন নির্মাতাকে গত সপ্তাহে ওষুধ তৈরির জন্য লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে- Natco Pharmaceuticals (Hyderabad), Emcure Pharmaceuticals (Pune), এবং Alembic Pharmaceuticals, Gufic Biosciences, and Lyka Pharmaceuticals (Gujarat)। এরা সকলেই জুলাই মাস থেকে তাদের উৎপাদন শুরু করতে পারবে।

First published: