ডিজিটাল ইন্ডিয়া-য় করুণ ছবি! জঙ্গলে ঝোঁপের আড়ালেই সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য হল মা

একে মুষলধারায় বৃষ্টি। তার উপর কাঁচা, কাদা-জলে ভরা রাস্তা, তাও আবার জঙ্গলের পথ।

একে মুষলধারায় বৃষ্টি। তার উপর কাঁচা, কাদা-জলে ভরা রাস্তা, তাও আবার জঙ্গলের পথ।

  • Share this:

    #কোলাপুর:

    ডিজিটাল ইন্ডিয়া করার লক্ষ্যে রোজই এক পা-দু পা করে এগোচ্ছি আমরা। কিন্তু সত্যিই কি আমাদের দেশ এগোচ্ছে! মহারাষ্ট্রের কোলাপুর জেলার বাসনোলি ধনগরবাডা় এলাকার এই ঘটনা দেশের অগ্রগতির ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। এখনও দেশের অনেক অংশে পাকা রাস্তা নেই। পাকা রাস্তা তো দূর, সেই সব প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছনোর কোনও চলাচলযোগ্য পথই নেই। রোজ কয়েকশো মানুষ কাঁচা, দূর্গম রাস্তা ধরেই চলাচল করেন। তাঁদের রোজকার জীবনযাত্রায় ভোগান্তির শেষ নেই। কেউ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও থাকে না। আবার গর্ভবতী মহিলার প্রসব যন্ত্রণা হলে তাঁকে বাধ্য হয়ে জঙ্গলে বা রাস্তার মাঝেই সন্তানের জন্ম দিতে হয়। মাটির, পাথরে ভরা রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের প্রশ্নই নেই। বৃষ্টি হলে তো পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়।

    ২৩ বছরের সঙ্গীতা ফাটকরের প্রসব যন্ত্রণা ওঠে শুক্রবার রাতে। পরিবারের লোকজন স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা সেবিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২ জুলাই ওই মহিলার ডেলিভারির কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। এর পরই ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও আশা সেবিকা কাঁচা রাস্তা পেরিয়ে গ্রামে পৌঁছন। গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় নাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মেঠো পথ আরও বিপদসঙ্কুল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এদিকে মহিলা প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। গ্রাম ও পরিবারের লোকজন ঠিক করেন, মহিলাকে স্থানীয় রাধানগরীর জঙ্গল পেরিয়ে পাকা রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। তার পর সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতাল। এর পরই ওই মহিলাকে ঝুড়িতে বসিয়ে দুটি বাঁশের সাহায্যে কাঁধে চাপিয়ে রওনা দেন পরিবারের লোকজন। সঙ্গে ছিলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও আশা সেবিকা।

    জঙ্গলের রাস্তা ধরে এগোনোর সময়ই সঙ্গীতা নামের ওই মহিলার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মী জঙ্গলের ভিতরেই ওই মহিলার সন্তান জন্ম দেওয়ার তোড়জোর শুরু করেন। একে মুষলধারায় বৃষ্টি। তার উপর কাঁচা, কাদা-জলে ভরা রাস্তা, তাও আবার জঙ্গলের পথ। তবে এসব প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেই ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে ওই মহিলার সন্তানের ডেলিভারির প্রস্তুতি শুরু করেন অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীরা। ওই মহিলা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তার পর মা ও সন্তানকে বৃষ্টির মধ্যেই আবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু সময় পর আবার মা ও সন্তানকে আবার একইভাবে ঝুড়িতে বসিয়ে বাঁশের মাধ্যমে চড়াই-উতরাই রাস্তা পেরিয়ে পাকা সড়কে আনা হয়। তার পর সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়। জানা গিয়েছে, মা ও সন্তান, দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। ওই গ্রামে ২০০-র বেশি মানুষের বাস। রাস্তা নেই, পানীয় জলের অভাব দীর্ঘদিনের। প্রতি বছরই বর্ষার সময় ভোগান্তির শেষ থাকে না। সব জেনে, দেখেও প্রশাসন বছরের পর বছর ধরে নিরব দর্শক।

    Published by:Suman Majumder
    First published: