পুরনো অস্ত্রেই উত্তরপ্রদেশে বাজিমাতের পরিকল্পনা মোদির

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রধান ইস্যু উন্নয়ন। যা সব পক্ষই হাতিয়ার করছে।

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রধান ইস্যু উন্নয়ন। যা সব পক্ষই হাতিয়ার করছে।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রধান ইস্যু উন্নয়ন। যা সব পক্ষই হাতিয়ার করছে। দেওয়া হচ্ছে উন্নয়নের শ্লোগানও। তবে বেশিরভাগ নির্বাচনই উন্নয়নের উপর হয় না। সেখানে জাত-পাত, ধর্মের জিগির তুলে মানুষের ভোটকে ভাগ করে নেতারা কার্যসিদ্ধি করেন। সেই নজিরই কি উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে দেখা যাবে? ২০১৪-র নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বিরোধীরা অন্য অভিযোগ তুলছে।

    উন্নয়নের নিরিখে হওয়া প্রথম কোনও নির্বাচন। সেই কারণেই ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনকে মনে রাখা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া 'সবকা সাথ সবকা বিকাশ' শ্লোগানই কি উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে মূল মন্ত্র? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দাবি, সবসময় উন্নয়নই তাঁর মূল মন্ত্র। বর্তমান সময়েও তা একই আছে। এবং ভবিষ্যতেও তা একই থাকবে।

    মোদির এই দাবির সমালোচনায় সবর বিরোধীরা। উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শিলা দীক্ষিতের দাবি, উন্নয়ন তাঁদের ইস্যু। মোদি কী করে তা হাইজ্যাক করলেন? উন্নয়ন ইস্যুকে নিজেদের বলে ধরে রাখছেন শিলা দীক্ষিত। তবে মোদির দাবি, কথায় নয়, তিনি কাজে বিশ্বাসী। তিনি আরও বলেন, এটা দেশের দুর্ভাগ্য যে, তাঁর সব উদ্যোগকেই উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

    মোদির এই বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধীরা একমত নন। কংগ্রেসের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর দাবির বিপরীতে, কেন তাঁর দলের কর্মীরা উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে।

    তাঁর বক্তব্যের প্রভাব কী হতে পারে, তা ভালই জানের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটে কারচুপি ও মানুষকে ভুল পথে চালিত করার যে অভিযোগ, তা থেকে কোন পথে সহজে মুক্তি মিলবে তাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    স্বাধীনতার পর লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গেই হত। পরে সেই পদ্ধতি পরিবর্তিত হয়। আবারও সেই পদ্ধতি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সকলে একসঙ্গে মিলে সেই বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

    উন্নয়নকেই পাখির চোখ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর দাবি, ২০১৪ সালে উত্তরপ্রদেশের মানুষ উন্নয়ন মডেলেই আস্থা রেখেছিলেন। আশির মধ্যে তিহাত্তরটি আসনে বিজেপি এগিয়ে ছিল। তাঁর আশা, আসন্ন নির্বাচনেও উত্তরপ্রদেশের মানুষ একই ভাবে ভোট দেবেন।

    সকলেই উন্নয়নের কথা বলছেন। তবে লখনউ পৌঁছনোর রাস্তা অনেকগুলি বিষয়ের উপর নির্ভর করছে। উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্ম, জাতপাত ও সংরক্ষণের মত বিষয়গুলিও রয়েছে। উন্নয়ন মন্ত্র এই বাধাগুলিকে পেরোতে পারে কিনা? নতুন সূচনা হয় কিনা? এখন সেটাই দেখার।

    First published: