• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • Explained: এসে গেল মেড-ইন-ইন্ডিয়া টেস্ট কিট 'ওমিশিওর', মাত্র ২ ঘণ্টাতেই সনাক্ত হবে ওমিক্রন

Explained: এসে গেল মেড-ইন-ইন্ডিয়া টেস্ট কিট 'ওমিশিওর', মাত্র ২ ঘণ্টাতেই সনাক্ত হবে ওমিক্রন

ভারতে করোনাভাইরাস টেস্টের (Covid-19 Test) জন্য নতুন একটি কিট অনুমোদিত হয়েছে। যা নতুন করোনাভাইরাসের (Coronavirus) ওমিক্রন প্রজাতি (Omicron Variant) সনাক্ত করতে পারে।

ভারতে করোনাভাইরাস টেস্টের (Covid-19 Test) জন্য নতুন একটি কিট অনুমোদিত হয়েছে। যা নতুন করোনাভাইরাসের (Coronavirus) ওমিক্রন প্রজাতি (Omicron Variant) সনাক্ত করতে পারে।

ভারতে করোনাভাইরাস টেস্টের (Covid-19 Test) জন্য নতুন একটি কিট অনুমোদিত হয়েছে। যা নতুন করোনাভাইরাসের (Coronavirus) ওমিক্রন প্রজাতি (Omicron Variant) সনাক্ত করতে পারে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ভারতে করোনাভাইরাস টেস্টের (Covid-19 Test) জন্য নতুন একটি কিট অনুমোদিত হয়েছে। যা নতুন করোনাভাইরাসের (Coronavirus) ওমিক্রন প্রজাতি (Omicron Variant) সনাক্ত করতে পারে। কেউ ওমিক্রন আক্রান্ত কি না তা জানতে এতদিন মার্কিন সংস্থা থার্মো ফিশারের টেস্ট কিট ব্যবহার করা হত গোটা দেশে। যদিও এই কিট ব্যবহার অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ। এবার ভারতেই একটি কিট তৈরি হল। ওমিশিওর (OmiSure) নামে এই কিটটি টাটা মেডিক্যাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক্স (Tata Medical and Diagnostics) তৈরি করেছে। দাবি করা হয়েছে যে এটি বিশ্বের প্রথম টেস্ট কিট, যা ওমিক্রন  (Omicron) সনাক্ত করতে পারে। আমরা এই প্রতিবেদনে এই টেস্ট কিট সম্পর্কে জানব।

ওমিশিওর টেস্ট কিট কী?

টাটা মেডিক্যাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক্স-এর গবেষণা ও উন্নয়নের প্রধান রবি বসন্তপুরম (Ravi Vasanthapuram) বলেছেন যে ওমিশিওর (OmiSure) নভেল করোনাভাইরাসের (Coronavirus) নতুন প্রজাতি সনাক্ত করতে পারে। এর ফলে জিনোম সিকোয়েন্সিং (Genome Sequencing) না করেই ওমিক্রন সনাক্ত করা সম্ভব হবে। আরটি-পিসিআর (RT-PCR) টেস্টের মতো ওমিশিওর কিটটিও অনুনাসিক এবং ওরাল সোয়াব নমুনার উপর নির্ভর করে। এটি ভারতে ব্যবহৃত সমস্ত স্ট্যান্ডার্ড পিসিআর (PCR) মেশিনে ব্যবহার করা যাবে। বসন্তপুরম বলেন, ওমিশিওর টেস্টে ২ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগে। এটি এস-জিন টার্গেট ফেইলিওর (SGTF) এবং এস-জিন মিউটেশন অ্যামপ্লিফিকেশন (SGMA) সমন্বয় করে ওমিক্রনকে সনাক্ত করতে সক্ষম। তিনি আরও দাবি করেছেন যে বিশ্বে বর্তমানে ব্যবহৃত টেস্ট কিটগুলি জিন ড্রপআউট বা একটি নির্দিষ্ট মিউটেশন সনাক্ত জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ওমিশিউর হল প্রথম টেস্ট কিট, যা উভয়কে একত্রিত করে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ICMR)-এর মূল্যায়নে এই টেস্ট কিট ১০০ শতাংশ নির্ভুলতা দেখিয়েছে। নির্মাতা সংস্থা প্রতি ইউনিট ওমিশিওর টেস্টের জন্য ২৫০ টাকা খরচ নির্ধারণ করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে দৈনিক ২ লাখ কিট উৎপাদন করার ক্ষমতা রয়েছে তাদের। তবে, শীঘ্রই উৎপাদন ক্ষমতা ৫ লাখে উন্নীত হবে।

আরও দেখুন - Bikaner-Guwahati Express Accident -এ CBI তদন্তের দাবি BJP নেত্রী Rupa Ganguly-র, দেখুন

কী ভাবে RT-PCR টেস্ট করোনার প্রজাতি সনাক্ত করতে পারে?

কোভিড-১৯ সনাক্ত করার জন্য আরটি-পিসিআর টেস্টকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ওমিক্রনের উত্থানের মধ্যে এই টেস্টের গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আরটি-পিআর টেস্টের রিপোর্ট থেকেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে ওমিক্রনের সংক্রমণ কি না। কিন্তু, সমস্ত আরটি-পিসিআর টেস্ট ওমিক্রনকে সনাক্ত করতে পারে না। রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন বা আরটি-পিসিআর টেস্ট একটি প্যাথোজেনের মধ্যে নির্দিষ্ট জেনেটিক উপাদানের উপস্থিতি সনাক্ত করে। নভেল করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ টেস্টগুলি ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের জিন খুঁজে বের করে। এই স্পাইক প্রোটিনকেই (Spike Protein) মানুষের কোষকে আক্রমণ করতে ভাইরাস ব্যবহার করে। এখন, টেস্টটি সঠিক কি না তা নিশ্চিত করার জন্য একাধিক স্পাইক জিনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। যাতে একটি মিউটেশনের ফলে একটি জিন পরিবর্তন হলেও অন্যটি পরীক্ষায় ধরা পড়ে। ওমিক্রনের সংক্রমণ সনাক্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি সুবিধা হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ এর নির্দিষ্ট মিউটেশনগুলির একটি নির্দিষ্ট আরটি-পিসিআর টেস্টে ধরা পড়ে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলেছে যে যে এই ঘটনাটিকে এস জিন ড্রপআউট বা এস জিন টার্গেট ফেইলিওর বলা হয়। এর অর্থ হল নির্দিষ্ট আরটি-পিসিআর টেস্টগুলি এই প্রজাতির জন্য সনাক্তকরণের মার্কার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই ওমিক্রন প্রজাতির সনাক্তকরণ দ্রুত হচ্ছে।

আরও পড়ুন - Bikaner-Guwahati Express Accident : দুর্ঘটনাগ্রস্ত কামরার ভিতরে প্রথম News18 Bangla, দেখুন সেই ছবি

এর মানে কি ওমিক্রন আরটি-পিসিআর টেস্টকে ফাঁকি দিতে পারে?

উত্তর হল- না। ইতিমধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র একটি মিউটেশন (Mutation) আছে যা আরটি-পিসিআর টেস্টে সনাক্তকরণ থেকে রক্ষা পায়। যা একটি সংক্রমণ ট্র্যাক করতে দুই বা তিনটি টার্গেট জিন ব্যবহার করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করেছে যে অধিকাংশ ডায়াগনস্টিক টেস্ট ওমিক্রন সনাক্ত করতে পারে। যদিও এটা এখন মূল্যায়ন করা হচ্ছে যে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (RAT) ওমিক্রন সনাক্ত করার ক্ষেত্রে কার্যকর কি না। ভারতে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে যে আরটি-পিসিআর বা আরএটি টেস্টকে ফাঁকি দিতে পারে না ওমিক্রন। তাই রাজ্যগুলিকে টেস্টিং বাড়াতে বলা হয়েছিল।

ভারতে অন্যান্য আরটি-পিসিআর টেস্টগুলিও কি ওমিক্রন সনাক্ত করে?

এটা নির্ভর করে কোন টেস্ট করা হচ্ছে তার উপর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে সিকোয়েন্সিং দ্বারা ওমিক্রনের নিশ্চিতকরণ বাঞ্ছনীয়। দিল্লির ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজি (IGIB)-র বিজ্ঞানী বিনোদ স্কারিয়া উল্লেখ করেছেন যে আরটি-পিসিআই টেস্টগুলি সাধারণত জিনোমের দুই বা ততোধিক জিন/সাইটে থাকা ভাইরাস নিউক্লিক অ্যাসিডকে টার্গেট করে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে দুর্ভাগ্যবশত ভারতে ব্যবহৃত বেশিরভাগ কিটের বিবরণ সর্বজনীনভাবে উপলব্ধ নয়। তাই এটা জানা কঠিন হয়ে যাচ্ছে যে কোন টেস্ট কোন নির্দিষ্ট প্রজাতি সনাক্ত করতে পারে। মহারাষ্ট্রের কোভিড টাস্ক-ফোর্সের সদস্য শশাঙ্ক জোশী বলেছেন যে সাধারণ ভাবে কোভিড ভাইরাসের ক্ষেত্রে যে তিনটি জিন শনাক্ত করা হয়, সেগুলি হল এস-জিন, এন-জিন ও ই-জিন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ল্যাবরেটরিগুলি 'এস' জিনের জন্য পরীক্ষা করছে না।

এস-ড্রপ আউট' মিউটেশন কি শুধুমাত্র ওমিক্রনে উপস্থিত?

না, আলফা প্রজাতিতেও একই এস-ড্রপআউট মিউটেশন রয়েছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করেছে যে যেহেতু আলফার প্রকোপ আসলে বেশিরভাগ দেশে খুবই কম। তাই যে টেস্টে এস-জিন সনাক্ত করা যায় না, সেটি ওমিক্রনের সংক্রমণের নির্দেশক হতে পারে।

উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে টেস্ট করতে হবে

এখনও অবধি আমরা সবাই সচেতন যে কোভিডে যে কেউ সংক্রমিত হতে পারে। কোভিডের সাধারণ উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছ- জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, ক্লান্তি, গন্ধ এবং স্বাদের অনুভূতি কমে যাওয়া। এই উপসর্গগুলি দেখা দিলেই টেস্ট করতে হবে। অবশ্যই নিজেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে দূরে রাখতে হবে। টিকা নেওয়া হোক বা না হোক, সাধারণ কোভিড বিধিগুলি অবশ্যই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। টিকা নেওয়া হোক বা না হোক, বর্তমানে সবাই সংক্রমণ প্রবণ। প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু এবং বয়স্ক, সবাই করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ ভাইরাসটিই অত্যন্ত সংক্রামক। যারা বয়স্ক এবং আগে থেকেই কোনও রোগে আক্রান্ত বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। তাই কোভিড বিধি ও অন্য সব সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক (Mask) পরতে হবে। অন্য লোকেদের থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সম্পূর্ণ টিকা নেয়নি, এমন লোকজনের সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে।

Published by:Debalina Datta
First published: