Home /News /national /

Yogi Adityanath Special Interview: আসন্ন নির্বাচনে সাড়ে তিনশোরও বেশি আসনে জিতবে বিজেপি: আত্মবিশ্বাসী যোগী আদিত্যনাথ! রইল বিশেষ সাক্ষাৎকার

Yogi Adityanath Special Interview: আসন্ন নির্বাচনে সাড়ে তিনশোরও বেশি আসনে জিতবে বিজেপি: আত্মবিশ্বাসী যোগী আদিত্যনাথ! রইল বিশেষ সাক্ষাৎকার

আসন্ন নির্বাচনে সাড়ে তিনশোরও বেশি আসনে জিতবে বিজেপি: আত্মবিশ্বাসী যোগী আদিত্যনাথ

আসন্ন নির্বাচনে সাড়ে তিনশোরও বেশি আসনে জিতবে বিজেপি: আত্মবিশ্বাসী যোগী আদিত্যনাথ

Yogi Adityanath Special Interview: রাজ্যের এবং রাজ্যের মানুষদের জন্য তাঁর সরকার যে ভাবে কাজ করেছে, তাতে অন্য কোনও দলের জেতার সম্ভাবনাই নেই।

  • Share this:

AMAN SHARMA

#লখনউ: আসন্ন উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনে বিজেপি সাড়ে তিনশোরও বেশি আসনে জয়ী হবে (Yogi Adityanath Special Interview)। এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে News18.com-কে আত্মবিশ্বাসের সুরে এমনটাই জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজ্যের এবং রাজ্যের মানুষদের জন্য তাঁর সরকার যে ভাবে কাজ করেছে, তাতে অন্য কোনও দলের জেতার সম্ভাবনাই নেই।

সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের প্রসঙ্গে আদিত্যনাথ(Yogi Adityanath Special Interview) বলেন যে, ভোটের আগে মহম্মদ আলি জিন্নাহর নাম নিয়ে মেরুকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা। শুধু তা-ই নয়, তিনি আরও যোগ করেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার ইলেকশন ট্যুরিজমও কংগ্রেসকে কোনও ভাবে সাহায্য করতে পারবে না, আর লখিমপুর খেরির ঘটনায় কাউকে আড়াল করা হচ্ছে না।

উত্তরপ্রদেশের আসন্ন নির্বাচনে বিজেপির চ্যালেঞ্জটা কত বড়? আপনার দলের দাবি, আবার তিনশোরও বেশি সিট জেতা হবে। কিন্তু এমন আত্মবিশ্বাসের পিছনে কারণটা ঠিক কী, যেখানে বহু সময় ধরে কোনও দলই দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় আসতে পারেনি?

যোগী আদিত্যনাথ: মোট ৪০৩টি আসনের মধ্যে ৩৫০টিরও বেশ আসন জিতবে বিজেপি। ২০১৭ সালে লোক কল্যাণ সঙ্কল্প পাত্রে উল্লিখিন সমস্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে আমাদের সরকার। ২০১৭-এর আগে উত্তরপ্রদেশকে ‘বিমারু’ রাজ্য বলে গণ্য করা হত, কিন্তু এখন রাজ্যের ভোল পাল্টে গিয়েছে। প্রতিটা সেক্টরে উন্নয়নের জোয়ার(Yogi Adityanath Special Interview)। গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যের ও মানুষের ভালোর জন্য আমরা কাজ করে গিয়েছি। আমাদের রাজ্য এবং আমাদের জনগণের জন্য আমরা যা যা কাজ করেছি, সেগুলোই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। কৃষক, মহিলা এবং রাজ্যের গরিব মানুষদের জন্য কল্যাণমূলক কাজ করছি। ওয়েভার স্কিমেরর মাধ্যমে আমরা রাজ্যের কৃষকদের প্রায় ৩৬ হাজার কোটির কৃষিঋণ মকুব করেছি। শুধু তা-ই নয়, ভারতকে বিশ্বের আর্থিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের উত্তরপ্রদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

আপনার চোখে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জার কোন দল? সমাজবাদী পার্টি (সপা), বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) না কংগ্রেস? সপা-র দাবি, তারাই আপনাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ...

যোগী আদিত্যনাথ: আমরা কাউকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরছিই না।

ভোটে জেতার ক্ষেত্রে আপনার সব থেকে বড় নীতিটা কী? উন্নয়ন না আইনকানুন না বিনিয়োগ? এ সব ক্ষেত্রে কি উত্তরপ্রদেশের চেহারা বদলেছে? এই বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক কী?

যোগী আদিত্যনাথ: ২০১৭ সাল থেকেই আমাদের লক্ষ্য হল-- ‘রিফর্ম, পারফর্ম এবং ট্রান্সফর্ম’। আমাদের রাজ্যের প্রতি সারা দেশ তথা বিশ্বের যে দৃষ্টিভঙ্গি তা আমাদের এই লক্ষ্যের কারণেই বদলে গিয়েছে। শিল্পপতি এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস জিততে সাহায্য করেছে আমাদের রাজ্যের স্থায়ী আইন-কানুন। আসলে আগে শিল্পপতিদের হেনস্থা করত কিছু অপরাধমূলক সিন্ডিকেট। এখন সেই সব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কঠোর আইন রয়েছে। এর ফলে রাজ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের জন্য একটা ইতিবাতক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আর তার ফলে স্যামসাং, রিলায়েন্স এবং মাইক্রোসফটের মতো সংস্থা আমাদের রাজ্যে ব্যবসা করতে আসছে এবং শিল্পের প্রসার ঘটাচ্ছে। নানান সেক্টরে এখনও পর্যন্ত ১১ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের রেকর্ড তৈরি করেছে রাজ্য। সেই সঙ্গে ৩০ লক্ষ যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থানও করা হয়েছে।

বুলডোজার ব্যবহার নিয়ে আপনার কড়া সমালোচনা করেছেন অখিলেশ যাদব। শুধু তা-ই নয়, ব্যক্তিগত আক্রমণও করতে ছাড়েননি তিনি। সেই বিষয়ে কিছু বলুন?

যোগী আদিত্যনাথ: দুর্নীতিগ্রস্ত, অপরাধী এবং গ্যাংস্টারদের দমন করতে আমরা বুলডোজার ব্যবহার করেছি। অখিলেশ যাদবের যদি বুলডোজার নিয়ে সমস্যা থাকে, তা হলেই বুঝতে হবে যে, অপরাধী এবং গ্যাংস্টারদের জন্য তাঁর মনে সমবেদনা রয়েছে। আসলে আগের সরকারের লক্ষ্যই ছিল আলাদা, তারা সব সময় নিজেদের গদি বাঁচানোর জন্য মাফিয়াদের সমর্থন করে এসেছে। যার ফলে বছরের পর বছর ধরে অত্যাচারিত হয়ে এসেছেন গরিব, শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা। ফলে কোনও রকম বিনিয়োগ ছিল না, মাথাপিছু আয় ছিল সব থেকে কম, বিকাশের হার ছিল নিম্নগামী এবং বেকারত্বের হার ছিল সব থেকে বেশি। সেই জায়গাটা আমরা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে দিয়েছি এবং সব ভোল পাল্টে দিয়েছি। মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে ‘জিরো টলারেন্স পলিসি’ অনুসরণ করে(Yogi Adityanath Special Interview)।

অখিলেশ যাদব আরও বলেন যে, আপনার সরকার নিজস্ব কোনও প্রকল্প আনতে পারেনি। আগের সরকারের প্রকল্প নিয়েই কাজ করে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ের কথা বলে থাকেন…

যোগী আদিত্যনাথ: ভোটের দু'মাস আগে অল্প পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে প্রকল্প অনুমোদন করা, টেন্ডারের ছাড়পত্র না-দেওয়া এবং প্রকল্পের কাজ মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া- এই সব বিষয় তাঁর দাবিকে আরও কমজোর করে দিচ্ছে। এটা এক ধরনের স্টান্ট। আমরা প্রকল্পগুলি পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে খরচ কাটছাঁট করেছি এবং সময়ের মধ্যে তা পূরণ করেছি। উত্তরপ্রদেশ আগে খারাপ পরিকাঠামোর জন্য পরিচিত ছিল। সেখানে আজ দেশের দীর্ঘতম এক্সপ্রেসওয়ের বানিয়ে সাফল্য এনে দিয়েছে।

‘কবরস্থানের জন্য বাউন্ডারি ওয়াল’ এবং ‘সন্তোষজনক রাজনীতি’ নিয়ে আগের সরকারের বিষয়ে আপনার বারবার করা আরোপ নির্বাচনকে হিন্দু-মুসলিম দৃষ্টিকোণ দিচ্ছে। আদতে কি নির্বাচনে মেরুকরণ হচ্ছে?

যোগী আদিত্যনাথ: নির্বাচনে মেরুকরণ হচ্ছে কিন্তু সেটা শুধুমাত্র উন্নয়ন, স্থায়ী আইনকানুন এবং মহিলাদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে। আমরা রাজ্যের উন্নয়নের কথাই ভাবি এবং যুবসম্প্রদায়কে রেকর্ড সংখ্যার চাকরিও দিয়েছি আমরা।

মুখতার আনসারির মতো মাফিয়া এবং আজম খানের মতো নেতাদের বিরুদ্ধে আপনার সরকার যে পদক্ষেপ করেছে, তা বেশ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ধরনের নামের পিছনে ছোটার পিছনে কী কারণ ছিল?

যোগী আদিত্যনাথ: মূল কারণটা ছিল রাজ্যের আইনকানুন বজায় রাখা। আমরা মাফিয়াদের নিয়ে চলি না, উল্টে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করি। আমাদের সরকার গরিব এবং দলিতদের জন্য বাড়ি বানিয়ে দেবে(Yogi Adityanath Special Interview)। আর যারা মাফিয়াদের পৃষ্ঠপোষকতা করবে, তাদের জন্য আমাদের এখানে কোনও জায়গা নেই। আমরা তো কল্যাণমূলক কাজ করছিই, তার সঙ্গে মাফিয়াদেরও ধ্বংস করার কাজ করে চলেছি। আমরা এখনও পর্যন্ত মাফিয়াদের ১৮০০ কোটির অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছি।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা মাঝে মাঝেই রাজ্যে আসেন এবং লখিমপুর খেরির মতো ঘটনা নিয়ে আপনার সরকারকেও একহাত নেন। তিনি কি এ ভাবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন? আবার সপা বলে যে, উত্তরপ্রদেশে বিজেপি আর কংগ্রেসের মধ্যে এটা যেন একটা ‘ফিক্সড ম্যাচ’...

যোগী আদিত্যনাথ: আমরা সবাই জানি, সাড়ে চার বছর আগে কংগ্রেসের সঙ্গে কারা জোট করেছিল। আর কোভিড ১৯-এর সময় উত্তরপ্রদেশে এক বারের জন্যও দেখা যায়নি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। শুধুমাত্র ভোটের সময় ঘুরে যাচ্ছেন। আসলে বিরোধীরাই জিন্নাহ এবং মেরুকরণের প্রসঙ্গ টেনে আনছেন বিরোধীরা!

লখিমপুরের ঘটনা প্রশ্ন তুলছে যে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলেকে উত্তরপ্রদেশ সরকার আড়াল করতে চাইছে। এই ব্যাপারে কিছু বলুন?

যোগী আদিত্যনাথ: আমরা কাউকেই আড়াল করতে চাইছি না। খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা কিন্তু আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছি। বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে সুপ্রিম কোর্টের তরফে হাইকোর্টের এক জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে কাঠগড়ায় টেনে আনতে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে আমরা ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণও দিয়েছি।

আপনার প্রাক্তন সঙ্গী ওম প্রকাশ রাজভর সপা-র সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। আগের তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে পূর্বাঞ্চল ছিল বিজেপির সব থেকে শক্ত ঘাঁটি এলাকা। কোনও বাধা-বিপত্তি কি উদ্বেগ ডেকে আনছে?

যোগী আদিত্যনাথ: উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। কারণ আমরা ওই এলাকায় সব সময়ই শক্ত ঘাঁটিই ছিলাম। উত্তরপ্রদেশের সমস্ত নাগরিকরা এমন কাউকে বিশ্বাস করতে পারবে না, যে মানুষ নিজেই এক জন ব্ল্যাকমেলার। পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমাদের সরকার দারুণ কাজ করেছে। আগের সরকার যে কাজ করেনি। শুধু তা-ই নয়, জাপানিজ এনকেফালাইটিসও আমরা নিয়ন্ত্রণ করেছি। আগে প্রতি বছর এই রোগে বহু শিশুর প্রাণহানি হত। গোরক্ষপুরে আমরা এইমস স্থাপন করেছি, যার ফলে পূর্বাঞ্চলের মানুষদের অনেক উপকার হয়েছে। আর পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে অর্থনীতি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতিসাধন করবে। সেই সঙ্গে কর্মসংস্থান হবে।

ভ্যাকসিনেশনের সংখ্যার ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু সবাইকে ভ্যাকসিনেট করতে অনেকটা পথ যাওয়া বাকি। সপা আপনার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহামারীর সময় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ আনছে। অখিলেশ দাবি করেছেন, সব মানুষের ভ্যাকসিনেশন হলে তবেই তিনি ভ্যাকসিন নেবেন। এই নিয়ে কিছু বলুন?

যোগী আদিত্যনাথ: আজমগড়ের সাংসদ ওই সপা নেতা-সহ সমস্ত বিরোধী দলনেতারা কোভিড মহামারীর সময় কোনও এলাকা পরিদর্শনে যাননি। নিজের বাড়িতে আরামে বসে মন্তব্য করা খুবই সহজ। আর অখিলেশ যাদব ভ্যাকসিন না-নিয়ে বিজ্ঞানী এবং ডাক্তারদের অপমান করছেন। আর মানুষের জন্য বিপদ ডেকে আনছেন। সাধারণ মানুষের জন্য কী উদাহরণ তৈরি করতে চাইছেন তিনি? আসলে এই ধরনের নেতারা হাসির খোরাক, শ্রদ্ধার যোগ্য নন। কোভিড ১৯ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের সরকার যে সব কাজ করেছে, তার জন্য বিশ্বের দরবারে প্রশংসা পেয়েছে আমাদের রাজ্য। টেস্টিং এবং ভ্যাকসিনেশনের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে উত্তরপ্রদেশই শীর্ষে রয়েছে।

AMAN SHARMA

Published by:Piya Banerjee
First published:

Tags: BJP, Yogi Adityanath, Yogi Adityanath Interview

পরবর্তী খবর