চলে গেলেন হরিশ রানা, তাঁর মতোই নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি মিলেছিল ২৯ বছর বয়সী আরও এক মেয়ের! সে ছিল শারীরিকভাবে সুস্থই.... তবু কেন? শিউরে ওঠা গল্প
- Published by:Rachana Majumder
Last Updated:
কিছু ইউরোপীয় দেশে, ব্যক্তি শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং 'জীবনের গুণমান'-কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
কারও কষ্ট কি এতটাই তীব্র হতে পারে যে তাকে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া উচিত? শুধুমাত্র ‘অসহ্য’ মনে হওয়ার কারণে কাউকে তার জীবন শেষ করার অনুমতি দেওয়া কি ঠিক? সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানাকে পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়ার পর ভারতে এই প্রশ্নটি আলোচিত হচ্ছে। দিল্লির গাজিয়াবাদের বাসিন্দা ৩১ বছর বয়সী হরিশ রানা ১৩ বছর ধরে কোমায় থেকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সংগ্রাম করেছেন এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর তাকে পরোক্ষ ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়। হরিশ রানার শেষকৃত্য বুধবার গ্রিন পার্ক শ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ভাই ও বোন চিতায় আগুন প্রজ্বলন করেন। কংগ্রেস পার্টির রাজ্য সভাপতি অজয় রায়ও হরিশের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনাটি নেদারল্যান্ডসের ২৯ বছর বয়সী জোরায়া টের বিকের ইচ্ছামৃত্যুর ঘটনাটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
বিক শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। তিনি মানসিক যন্ত্রণার কারণে নিজের জীবন শেষ করার অনুমতি চেয়েছিলেন ২০২৪-এ। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন যে তাঁর যন্ত্রণা শারীরিক নয়, বরং মানসিক। বছরের পর বছর ধরে চলা বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, মানসিক আঘাত এবং আত্মহত্যার চিন্তা তার জীবনকে অসহ্য করে তুলেছিল। প্রায় সাড়ে তিন বছরের একটি প্রক্রিয়ার পর, ২০২৪ সালে তাকে ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়। নেদারল্যান্ডে মানসিক অসুস্থতার কারণে ইচ্ছামৃত্যুর ঘটনা এখনও কম, কিন্তু তা দ্রুত বাড়ছে। ২০১০ সালে এই ধরনের ঘটনা ছিল মাত্র দুটি, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ১৩৮টিতে দাঁড়িয়েছে। সমালোচকরা বলেন যে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা সবসময় সম্পূর্ণ স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, অন্যদিকে সমর্থকরা যুক্তি দেন যে প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের কষ্টের ভিত্তিতে জীবন-মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। এ প্রসঙ্গে জোরাইয়া টের বিক নিজেই বলেছেন যে, ‘মানসিক অসুস্থতার অর্থ এই নয় যে একজন ব্যক্তি সঠিকভাবে চিন্তা করতে পারে না।’
advertisement
advertisement
নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে অন্যতম, যেখানে প্রাণঘাতী নয় এমন অসুস্থতা, এমনকি মানসিক অসুস্থতার ক্ষেত্রেও ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি রয়েছে। অন্যদিকে, ইচ্ছামৃত্যু সংক্রান্ত ভারতের আইন অত্যন্ত কঠোর। হরিশ রানার ঘটনাটি এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যেখানে একজন ব্যক্তি ১৩ বছর ধরে জীবনের জন্য সংগ্রাম করার পর অবশেষে আদালতের অনুমতিতে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুবরণ করার সুযোগ পান।
advertisement
দেশের সব লেটেস্ট খবর ( National News in Bengali ) এবং বিদেশের সব খবর ( World News in Bengali ) পান নিউজ 18 বাংলায় ৷ দেখুন ব্রেকিং নিউজ এবং টপ হেডলাইন নিউজ 18 বাংলার লাইভ টিভিতে ৷ ডাউনলোড করুন নিউজ 18 বাংলার অ্যাপ অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস-এ ৷ News18 Bangla-কে গুগলে ফলো করতে ক্লিক করুন এখানে ৷
Location :
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 25, 2026 9:27 PM IST











