২০১৪-তে কেন ডুবল কংগ্রেস? প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বইয়ে সনিয়া-মনমোহনকে নিয়ে প্রশ্ন

২০১৪-তে কেন ডুবল কংগ্রেস? প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বইয়ে সনিয়া-মনমোহনকে নিয়ে প্রশ্ন

গত ৩১ অগাস্ট প্রয়াত হন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷

২০০৪ সালে তাঁর জায়গায় মনমোহন সিং-কে সনিয়া গান্ধি প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নেওয়ায় প্রণব যে হতাশ হয়েছিলেন তা রাজনৈতিক মহলের অজানা নয়৷

  • Share this:

    #দিল্লি: একের পর এক নির্বাচনে ভরাডুবির পরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে কংগ্রেস৷ দলের মধ্যে থেকেই নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জোরাল হলেও তা নিয়ে এখনও দৃঢ় কোনও পদক্ষেপ করেনি হাইকম্যান্ড৷ এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখা একটি বই৷ যেখানে তিনি রাখঢাক না করেই স্বীকার করেছেন, তিনি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে দিশাহীন হয়েই ২০১৪ সালে বিপর্যয় ডেকে এনেছিল কংগ্রেস৷ বলা ভাল, নিজের বইতে সনিয়া গান্ধি এবং মনমোহন সিং-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি৷

    প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখা 'দ্য প্রেসিডেন্সিয়াল ইয়ার্স' নামে এই বইটি আগামী জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হওয়ার কথা৷ মূলত তাঁর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণা এই বইতে করেছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বাধীন ইউপিএ-এর উত্থান- পতনের কারণগুলি তাঁর থেকে ভাল কেউ জানতেন না৷ ফলে এই বই কংগ্রেসের নেতৃত্ব সংকট নিয়ে ফের নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে৷

    ২০০৪ সালে তাঁর জায়গায় মনমোহন সিং-কে সনিয়া গান্ধি প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নেওয়ায় প্রণব যে হতাশ হয়েছিলেন তা রাজনৈতিক মহলের অজানা নয়৷ কারণ অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি মনমোহনের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন৷ তাঁর তুলনায় কম অভিজ্ঞ মনমোহনের অধস্তন হয়ে কাজ করতে হওয়ায় আরও বেশি হতাশ ছিলেন প্রণব৷ রাজনৈতিক ভাবে মনমোহনের অভিজ্ঞতা কম থাকায় ইউপিএ আমলে বিভিন্ন ক্যাবিনেট বৈঠকে তাই মতবিরোধও নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল৷

    ফলে ইউপিএ আমলে একের পর এক দুর্নীতি, কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠার পরেও কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী পদে মনমোহন সিংকে বদল না করে ভুল করেছিল কি না, সেই প্রশ্নও পরে উঠেছে৷ কারণ দলের মধ্যে বিক্ষোভ হোক বা জোট সঙ্গীদের ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা- সবক্ষেত্রেই পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যায় পড়তেন মনমোহন৷

    জানা গিয়েছে, নিজের বইতে প্রণব লিখেছেন, 'কংগ্রেসের অনেক সদস্যই বিশ্বাস করতেন যে ২০০৪ সালে আমাকে প্রধানমন্ত্রী করলে হয়তো ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে দলকে এ ভাবে পরাজিত হতে হত না৷ আমি এই মতের শরিক না হলেও বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক ভাবে দিশাহীন হয়ে পড়েছিলেন৷ একদিকে সনিয়া গান্ধি দলের ভিতরের ক্ষোভ বিক্ষোভ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, অন্যদিকে সংসদ থেকে মনমোহন সিং-এর দীর্ঘ অনুপস্থিতি দলের সাংসদদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত দূরত্ব তৈরি করেছিল৷ ' প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলেই ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন প্রণব মুখোপাধ্যায়৷

    ইউপিএ ২-এর মাঝপথেই প্রধানমন্ত্রীর পদে কিছুটা হলেও যেন আগ্রহ হারিয়েছিলেন মনমোহন সিং৷ আর সেই সময়ই নরেন্দ্র মোদির উত্থান৷ কংগ্রেসের অনেকেই মনে করেন, ওই সময় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এমন কাউকে প্রয়োজন ছিল যিনি বিজেপি এবং আরএসএস -এর মোকাবিলা করার উপায় জানেন৷ ইউপিএ-২ সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে অন্না হাজারের আন্দোলনকে ধরা হয়৷ প্রণব মুখোপাধ্যায়ে অন্না হাজার সহ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পক্ষপাতী ছিলেন না৷ কিন্তু মনমোহন সিং এবং সরকারের অন্যান্যরা চেয়েছিলেন আলোচনা হোক৷ কিন্তু আলোচনায় আগ্রহী হলেও বিষয়টি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মনমোহন সহ সরকারের বাকি মন্ত্রীরা৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও আলোচনায় যোগ দিতে একরকম বাধ্য করে দল৷

    মনমোহন সিং-কে নিয়ে বার বার প্রশ্ন ওঠার পরেও প্রধানমন্ত্রী বদল করার কোনও প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিতেন সনিয়া গান্ধি৷ এমন কি, মনমোহন সিং-এর সায় থাকলেও সেই সময় রাহুল গান্ধিকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসাতে রাজি হননি সনিয়া৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য ২০১৪ সালের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বোঝা যায়, হয়তো প্রণব মুখোপাধ্যায়কেই প্রধানমন্ত্রী পদে বসালে ভাল করত কংগ্রেস৷

    Pallavi Ghosh

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: