Home /News /life-style /
Youtuber Aishwarya : কান্নায় ভেঙে পড়লেন কিশোরী ইউটিউবার ঐশ্বর্য, ট্রোলিংবিদ্ধ হয়েও কীভাবে স্বাভাবিক থাকা যায়, বললেন মনোবিদ শ্রীময়ী

Youtuber Aishwarya : কান্নায় ভেঙে পড়লেন কিশোরী ইউটিউবার ঐশ্বর্য, ট্রোলিংবিদ্ধ হয়েও কীভাবে স্বাভাবিক থাকা যায়, বললেন মনোবিদ শ্রীময়ী

ইউটিউবার, ঐশ্বর্য মুখোপাধ্যায়

ইউটিউবার, ঐশ্বর্য মুখোপাধ্যায়

Youtuber Aishwarya : একে নিছক মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নেওয়ার প্রবণতা বলে মানতে নারাজ মনোবিদ ৷

  • Share this:

    কলকাতা : ক্রমাগত ট্রোলিংয়ের শিকার হয়ে বিপর্যস্ত এক কিশোরী ইউটিউবার ৷ সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে কান্নায় ভেঙে পড়েছে ওই ইউটিউবার, ঐশ্বর্য মুখোপাধ্যায় । কিশোরীর আর্তি, ইউটিউবের দুনিয়ায় তাঁকে লাগাতার ট্রোলিং করা হচ্ছে । তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না । কাতর কণ্ঠে বলেছেন, তাঁর কাছে দু’টি মাত্র রাস্তা খোলা রয়েছে । হয়, তিনি পুলিশের কাছে যাবেন । নয়তো পৃথিবী থেকে বিদায় নেবেন ৷ এই ছবি বা বলা ভাল, এই পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ? প্রশ্ন রাখা হয়েছিল মনোবিদ শ্রীময়ী তরফদারের কাছে ৷ তিনি মনে করেন ওই কিশোরী ইউটিউবারের মধ্যে অপরিণতমনস্কতার কিছুটা পরিচয় পাওয়া গিয়েছে ৷ তা ছাড়া তাঁর বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে বলেও ধারণা শ্রীময়ীর ৷ সেই সমস্যা থেকেই হয়তো অসঙ্গতিপূর্ণ আতঙ্ক মনের মধ্যে বাসা তৈরি করেছে ৷ যার ফলে মনে হচ্ছে সকলেই তাঁর বিরুদ্ধে গিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ৷ তাই বিহ্বল হয়ে ঐশ্বর্য সাহায্য চাইছেন বলে মত শ্রীময়ীর ৷ একে নিছক মনোযোগ নিজের দিকে টেনে নেওয়ার প্রবণতা বলে মানতে নারাজ মনোবিদ ৷

    ইউটিউবার ঐশ্বর্যর দাবি, তিনি তাঁর মায়ের সাহায্য নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন ৷ কিন্তু বাকি ইউটিউবারদের অভিযোগ, ঐশ্বর্য তাঁর দিদি এবং সেলেব্রিটি জামাইবাবুর সাহায্যেই জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন ৷ তাঁরা না থাকলে আদতে ঐশ্বর্য কিছুই করে উঠতে পারতেন না ৷ বক্তব্য বাকি ইউটিউবারদের ৷ এই সমালোচনা নিতে পারছেন না এই কিশোরী ৷ তাঁর বক্তব্য, বাড়ির কোনও অনুষ্ঠানে ব্লগ তৈরি করলে তাঁর দিদি ও জামাইবাবু তো থাকবেনই ৷ তিনি কি তাঁদের আসতে নিষেধ করে দেবেন ? প্রশ্ন ঐশ্বর্যর ৷

    সামাজিক মাধ্যমে একদিকে যেমন প্রশংসা আসবে, তেমনই অন্যদিকে ধেয়ে আসবে সমালোচনাও ৷ বলছেন শ্রীময়ী ৷ সেটাই হয়তো ইউটিউবার ঐশ্বর্য মেনে নিতে পারছেন না ৷ বা, প্রশংসার মতো সমালোচনা সহ্য করার মতো মানসিকতা তাঁর তৈরি হয়নি ৷ ফলে তিনি সাহায্য চাইছেন ৷ কোনও বন্ধু, এমনকি পুলিশের কাছেও হয়তো তিনি সাহায্যই খুঁজছেন ৷ ধারণা শ্রীময়ীর ৷ তাঁর সমস্যাকে সহমর্মিতার চোখেই দেখতে হবে বলে মত এই মনোবিদের ৷ তাঁর পরামর্শ, প্রশংসার মতো সমালোচনাকেও সহ্য করতে হবে ৷ তার জন্য দরকার মানসিক প্রস্তুতি ৷ সেই ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস আসবে নিজেকে ভাল করে চিনলেই ৷ নিজেকে স্বচ্ছভাবে জানলে, নিজের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও সমালোচনাই কাউকে বিদ্ধ করতে পারবে না ৷ তখন মনে হবে না যে আত্মহননই একমাত্র পথ ৷

    মনোবিদ শ্রীময়ী তরফদার

    আরও পড়ুন :  'আমার কোনও যোগ্যতা নেই', আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ইউটিউবার

    আরও পড়ুন : অফিসের কাজের চাপে বিপর্যস্ত দাম্পত্য? স্ট্রেস পেরিয়ে বাঁচিয়ে তুলুন বিয়েকে

    নেটিজেন ও ইউটিউবাররা সকলেই হয়তো কিশোরীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি ৷ বলতে চেয়েছেন কনটেন্ট নিয়ে ৷ কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে তাঁর মনে হচ্ছে এ সব আক্রমণই আদতে ব্যক্তিগত আক্রমণ ৷ তবে সব কিছুর তুলনায় বড় করে দেখতে হবে ইউটিউবারের সাহায্যপ্রার্থী হয়ে আর্তিকে ৷ এই ‘ক্রাই ফর হেল্প’ পেরিয়ে আসতে তাঁর প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর সাহায্য ৷ বলছেন শ্রীময়ী ৷ কিশোরীর মানসিক গঠন সেভাবেই তৈরি হতে হবে যাতে কেউ প্রশংসা করলেই যেন তিনি পাহাড়ের শীর্ষবিন্দুতে উঠে না পড়েন ৷ আবার কারওর সমালোচনাতেই যেন পাহাড় থেকে নীচে পড়ে না যান ৷ সর্বোপরি নিজের দক্ষতাই শেষ কথা ৷ এমনভাবে, এমন জায়গায় নিজের কাজকে নিয়ে যেতে হবে যাতে দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই না ৷ এবং মনে রাখতে হবে সোশ্যাল দুনিয়া এমন একটা জায়গা যেখানে প্রশংসা ও সমালোচনা দুই-ই খুব সহজে পাওয়া যায় ৷ তাই নিজেকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে ‘ক্রেজ’ বা ‘ক্রিটিসিজম’ কোনও কিছুতেই আমি ভেসে না যাই ৷ মত মনোবিদ শ্রীময়ীর৷

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published:

    Tags: Trolling, Youtuber Aishwarya

    পরবর্তী খবর