যা অনুমান করা হত, পৃথিবীর স্থলভাগ তার চেয়েও পুরনো; নয়া গবেষণায় চাঞ্চল্য বিশ্ব জুড়ে!

যা অনুমান করা হত, পৃথিবীর স্থলভাগ তার চেয়েও পুরনো; নয়া গবেষণায় চাঞ্চল্য বিশ্ব জুড়ে!

যা অনুমান করা হত, পৃথিবীর স্থলভাগ তার চেয়েও পুরনো; নয়া গবেষণায় চাঞ্চল্য বিশ্ব জুড়ে!

সম্প্রতি এই মর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ডেইলি মেলে।

  • Share this:

#ওয়াশিংটন: সেই যে কবি লিখে গিয়েছিলেন বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি, দেখা যাচ্ছে যে সেই কথাটাই অক্ষরে অক্ষরে সত্যি প্রমাণিত হয়েছে বিজ্ঞানের চূড়ান্ত অগ্রগতির যুগেও। এত দিন ধরে বিস্তর গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর স্থলের উপরিভাগ ঠিক কবে জেগে উঠেছিল জলের বুক চিরে, তার একটা সময়সীমা নির্ধারণ করে উঠতে পেরেছিলেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে যে সেই গবেষণাতেও ভুল থেকে গিয়েছিল। সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী এই নিয়ে নতুন করে গবেষণা করেছেন এবং দেখেছেন যে যা অনুমান করা হত, পৃথিবীর স্থলের উপরিভাগের বয়স তার চেয়ে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন বছর বেশি। সঠিক ভাবে হিসেব দিতে গেলে বলতে হয় যে পৃথিবীর স্থল তৈরি হয়েছিল আজ থেকে ৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে।

সম্প্রতি এই মর্মে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ডেইলি মেলে। সেই প্রতিবেদন আমাদের জানাচ্ছে গবেষক তথা বিজ্ঞানী ডিজায়ার রোয়ারডিঙ্কের কথা। তিনি এবং তাঁর অধীনে থাকা গবেষক দল এই নতুন সমীক্ষার রিপোর্ট খুব তাড়াতাড়ি পড়ে শোনাতে চলেছেন ২০২১ ইজিইউ জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে। চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকেই এই অধিবেশন শুরু হয়ে গিয়েছে, চলবে ৩০ তারিখ পর্যন্ত। কথা হল, আচমকা পৃথিবীর স্থলের উপরিভাগের বয়স নিয়ে নতুন করে গবেষণার প্রয়োজন কেন বোধ করলেন রোয়ারডিঙ্ক?

নরওয়ের এই জিওকেমিস্ট এই প্রসঙ্গে তুলে ধরেছেন গবেষণার পদ্ধতির কথা। তিনি জানিয়েছেন যে এত দিন পর্যন্ত পৃথিবীর স্থলের উপরিভাগের বয়স নির্ধারণ করার কাজ চলত মেরিন কার্বোনেট নামের এক ধরনের যৌগ নিয়ে যা সাধারণত সুপ্রাচীন পাথরে দেখা যায়। এই মেরিন কার্বোনেটের মধ্যে উপস্থিত স্ট্রোনটিয়াম আইসোটোপ পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গিয়েছিল যে আজ থেকে ৩ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর স্থলভাগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু রোয়ারডিঙ্ক জানাচ্ছেন যে তাঁরা আরও প্রাচীন উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন। এটি হল ব্যারাইট নামের এক ধরনের যৌগ। এটিও সুপ্রাচীন পাথরের মধ্যে পাওয়া যায়, তবে এর উপস্থিতি আরও অনেক বছর বেশি, ৩.৫ বিলিয়ন থেকে ৩.৭ বিলিয়নের মধ্যে।

ব্যারাইটের এই বয়স মাথায় রেখেই রোয়ারডিঙ্ক জানিয়েছেন যে এটি যদি এত পুরনো হয়, তাহলে পৃথিবীর স্থলের উপরিভাগও সেই অনুপাতে পুরনো হতে বাধ্য। তবে এখনই নির্দিষ্ট করে কোনও কিছু দেগে দিতে চাইছেন না তিনি, বলছেন যে এই নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন আছে।

Published by:Debalina Datta
First published:

লেটেস্ট খবর