হোম /খবর /কলকাতা /
কষ্টের সঞ্চয় জলে! স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নাম করে আর্থিক প্রতারণার শিকার বহু মহিলা

Kolkata news: কষ্টের সঞ্চয় জলে! স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নাম করে আর্থিক প্রতারণার শিকার বহু মহিলা

দক্ষিণ কলকাতায় কীভাবে পনেরো বছর ধরে এইরকম আর্থিক প্রতারণার সংস্থা চলছিল? বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পরে প্রশ্ন সব মহলে। বেশকছু শাসকগোষ্ঠ

  • Last Updated :
  • Share this:

#কলকাতা: আবার আর্থিক প্রতারণা চক্রের হদিশ বেহালা পর্ণশ্রী থানার বকুলতলায়। ওই এলাকার গুলে পাড়ায়, মহিলাদের 'স্বনির্ভর সাথী উন্নয়ন গোষ্ঠী' নামে একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী চালাতো ববি বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক মহিলা। গত দু-তিন দিন ধরে ওই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মেয়েরা জানতে পারেন, তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা থেকে আরম্ভ করে, ঋনের কিস্তির কোনও টাকা ব্যাংকে জমা পড়ছে না। বুধবার সকালে তাঁরা ওই অফিসে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

উত্তেজিত হয়ে অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ববি বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তার অফিসের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে। ২০০৭ সাল থেকে এলাকার বিভিন্ন মেয়েদের নিয়ে দশ জন করে এক একটি গোষ্ঠী বানিয়ে মাসিক সঞ্চয় (সেভিংস) প্রকল্প শুরু করেছিল ওই সংস্থা। সঙ্গে মহিলাদের গ্রুপ হিসাবে ঋণ করিয়ে দিত ব্যাংক থেকে। যেসমস্ত মহিলা এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে ছিলেন তাদের বেশির ভাগ প্রান্তিক পরিবারের।

বছর ৩০ বয়স রীতা পয়রার। স্বামী পরিত্যক্তা। দুটি সন্তান রয়েছে তাঁর। বাড়িতে রান্নার কাজ করেন তিনি। তিনি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য ওই সংস্থায় টাকা সঞ্চয় করেন। উপরন্তু গ্রুপ লোনও নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর ঋনের আশি শতাংশ শোধ করেছেন ওই অফিসে। পরে জানতে পারেন, তাঁর ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা জমা পড়েনি। ১২৮০ জন মহিলা ওই প্রকল্পের সদস্য। তাঁদের কেউ ৮০ হাজার টাকা, আবার কেউ দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন।

আনুমানিক হিসাব পাওয়া গিয়েছিল, দু থেকে আড়াই কোটি টাকার প্রতারণা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বামেদের আমলে এই মহিলা যখন এই ব্যবসা শুরু করেন তখন তিনি বামেদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এখন বর্তমান শাসক দলের নেতাদের ঘনিষ্ঠ তিনি। সরশুনা থানাতে অভিযোগ জানিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু মহিলাদের কাছে প্রতারিত হওয়ার উপযুক্ত কাগজপত্র নেই। টাকা জমা করার যে চালান রয়েছে, সেগুলিতে সংস্থার নাম উল্লেখ নেই। মাসে সামান্য রোজগারে অসহায় মহিলারা হাউ হাউ করে কেঁদে বলছিলেন 'আমরা আবার সর্বশান্ত হয়ে গেলাম।" সবার চিন্তা, আগের চিটফান্ডের মতো, এটাও বিশবাঁও জলে চলে যাবে না তো?

শঙ্কু সাঁতরা 

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: Kolkata News