কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাংলার গর্ব! UPSC-তে দেশের প্রথম ১৫ কৃতীর মধ্যে কলকাতার রৌনক, রাজ্যে টপার

বাংলার গর্ব! UPSC-তে দেশের প্রথম ১৫ কৃতীর মধ্যে কলকাতার রৌনক, রাজ্যে টপার
রৌনক আগরওয়াল

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় গত কয়েক বছরে অন্তত রাজ্য থেকে প্রথম ১৫-এর মধ্যে স্থান সে অর্থে পাননি রাজ্যের কোনও পড়ুয়া বা ছাত্র। তাই ১৩ তম স্থান পেয়ে এবং এ রাজ্য থেকে প্রথম রৌনক৷ বাবা-মা সহ পাড়া প্রতিবেশীরা যারপরনাই খুশি।

  • Share this:

#কলকাতা: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পাস করে ২১ লক্ষ টাকার চাকরির প্যাকেজ পেয়েছিলেন উত্তর কলকাতার কৃতী ছাত্র রৌনক আগরওয়াল। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল রৌনকের। তার জন্য পরপর তিনটি ব্যাঙ্কের মোটা মাইনের চাকরির অফার খারিজ করে দেন। পরপর দু'বছর অবশ্য পরীক্ষায় সাফল্য পাননি রৌনক। তবুও আশা ছাড়েননি। তাই তৃতীয়বারের পরীক্ষায় শুধুমাত্র সাফল্য নয়, দেশের মধ্যে প্রথম ১৫-তেই চলে এলেন উত্তর কলকাতার এই কৃতী ছাত্র।

সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় গত কয়েক বছরে অন্তত রাজ্য থেকে প্রথম ১৫-এর মধ্যে স্থান সে অর্থে পাননি রাজ্যের কোনও পড়ুয়া বা ছাত্র। তাই ১৩ তম স্থান পেয়ে এবং এ রাজ্য থেকে প্রথম রৌনক৷ বাবা-মা সহ পাড়া প্রতিবেশীরা যারপরনাই খুশি। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথমদিকের স্থান হলেও ওয়েস্টবেঙ্গল ক্যাডারেই যোগ দিতে চান রৌনক। কারণ তাঁর বাবা চান, রৌনক এ রাজ্যের জন্যই কাজ করুক তার ছেলে। মঙ্গলবার ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার এক ঘণ্টা বাদেই রৌনক জানান, "আমি রাজ্যের শিল্প এবং পরিকাঠামো গড়ে তুলতে চাই। এটাই আমার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার পর। আমি এ রাজ্যের হয়েই কাজ করতে চাই।"

ছোটবেলা থেকেই ভালো ছাত্র রৌনক। উচ্চমাধ্যমিকে বাণিজ্য বিভাগে প্রথম স্থান দখল করেছিলেন রৌনক। সেন্ট লরেন্স হাই স্কুল থেকে বাণিজ্য নিয়ে রাজ্য বোর্ড অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অধীনেই পড়াশোনা করেছেন৷ তারপর সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট পাস করেন রৌনক। তারপরেই বেশ কয়েকটি নামী ব্যাঙ্ক থেকে চাকরির অফার আসে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ টাকার চাকরির অফার ছেড়ে মানুষের জন্যই কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে রৌনক।আর তাই সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে আপাতত নিজের হাত খরচ চালাচ্ছিলেন টিউশন পড়িয়ে। রৌনকের কথায়, " আমার ছোটবেলা থেকে সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার আগ্রহ আসে আমার কাছে। আমি পরপর দুবার সাফল্য পায়নি। তবুও আমি চেষ্টা করে গিয়েছি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার জন্য।"

একটা সময়ে রাজ্যের বহু মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী সিভিল সার্ভিসে সুযোগ পেতেন। কিন্তু বর্তমানে সিভিল সার্ভিসের ফলাফলে এ রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ পাওয়ার সংখ্যাটা অনেকটাই কমে গিয়েছে। সিভিল সার্ভিসে যাওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা একাধিক দাবি করেন। কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাবকে দায়ী করেন আবার কেউ রাজ্যের পঠন-পাঠনের মানকেও দায়ী করে থাকেন। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে রৌন বলেন, "এ রাজ্যে ছাত্রছাত্রীরা ডব্লিউবিসিএস এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেই চাকরিতে চলে যায়। সিভিল সার্ভিস অনেকটাই কঠিন পরীক্ষা। তাই অনেকেই সেই দিকে এগোতে চায় না। আমার মনে হয় এ রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা সিভিল সার্ভিসে অন্যান্য রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনেক ভালো সুযোগ করে নিতে পারবে।"

রৌনকের এই সাফল্যে স্বভাবতই খুশি রৌনকের বাবা-মা। রৌনকের বাবা রমাকান্ত আগারওয়াল বলেন, "আমার ছেলে কলকাতাতেই মানুষ হয়েছে। আমি চাই ও ওয়েস্টবেঙ্গল ক্যাডারেই কাজ করুক।গরিবদের পাশে দাঁড়াক। আমি চাইব গরিবদের জন্য এমন কিছু কাজ করুক যাতে ওকে সারা জীবন মনে রাখে।"

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by: Arindam Gupta
First published: August 4, 2020, 5:20 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर