বড়দিনে কড়া নিরাপত্তা শহরে, নজর হোটেল-পানশালায়

বড়দিনে কড়া নিরাপত্তা শহরে, নজর হোটেল-পানশালায়

লালবাজার সূত্রে খবর, সবমিলিয়ে মোট ৫০০০ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবে শহরজুড়ে। এই ৫ হাজার কর্মীর বেশিরভাগই মোতায়েন থাকবে পার্ক স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকায়।

  • Share this:

SUJOY PAL

#কলকাতা: রাত পোহালেই বড়দিনের আনন্দে মাতবে গোটা শহর। মানুষের ঢল নামবে পার্ক স্ট্রিট জুড়ে। কিন্তু এই উৎসবের মেজাজে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে যাতে এই আনন্দ মাটি না হয় সেদিকেও খেয়াল রেখেছে লালবাজার। সেজন্য কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হচ্ছে গোটা শহরকে।

লালবাজার সূত্রে খবর, সবমিলিয়ে মোট ৫০০০ হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবে শহরজুড়ে। এই ৫ হাজার কর্মীর বেশিরভাগই মোতায়েন থাকবে পার্ক স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকায়। বাকি কর্মী মোতায়েন করা হবে শহরের সব চার্চ, মেট্রো স্টেশন, শপিং মল, পানশালা ও পাঁচতারা হোটেলে নজরদারিতে।

বড়দিনের আনন্দে মাততে এইদিনে শহরের বিভিন্ন হোটেল, পানশালায় পার্টিতে মজে গোটা শহর। কিন্তু তার জেরে যাতে কোনও অশান্তি না হয় সেজন্য সব পাঁচতারা হোটেল, পানশালার বাইরে আইনশৃঙ্খলা সামলাবে পুলিশ।

লালবাজার সূত্রে খবর, ২৫ ডিসেম্বর বিকেল ৪টের পর বন্ধ করা হবে পার্ক স্ট্রিট। কারণ বিকেল গড়াতেই মানুষের ঢল নামতে শুরু করে সেখানে। এত ভিড় সামলাতে নিরাপত্তার স্বার্থে পার্ক স্ট্রিটকে ৪টি জোনে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জোনের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকবে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার অফিসারের উপর। সমগ্র পার্ক স্ট্রিটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন পাঁচজন ডেপুটি কমিশনার।

বড়দিনে সন্ধ্যা নামতেই তিল ধরণের জায়গা থাকে না পার্ক স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকায়। তাই ভিড়ের ওপর নজর রাখার জন্য এবার ওই এলাকায় মোট ১১টি ওয়াচ টাওয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখান থেকে দূরবীন দিয়ে নজরদারি চালানো হবে। থাকবে কমান্ডো বাহিনীও। এর পাশাপাশি ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে হাতসাফাই করার সুযোগ না পায় সেজন্য সাদা পোশাকে ভিড়ের মধ্যেই মিশে থাকবে গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সদর) জাভেদ শামিম বলেন, "নিরাপত্তার জন্য মোট ৯১টি পুলিশ পিকেট বসানো হচ্ছে। সব ক’টি মেট্রো স্টেশনে নজর রাখবো আমরা। কেউ সমস্যায় পড়লে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র সাহায্যের জন্য প্রস্তত।"

মঙ্গলবার রাত ন'টার পর থেকে কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় শুরু হবে বিশেষ নাকা চেকিং। বাইরে থেকে এসে কেউ যাতে অশান্তি ছড়াতে না পারে সেজন্য যেমন এই চেকিং করা হবে, পাশাপাশি মদ্যপান করে কেউ যাতে রাস্তায় গাড়ি না চালায় কিংবা গোলমাল পাকাতে না পারে তা দেখতেও গুরুত্ব দেওয়া হয় নাকা চেকিংয়ে। এর পাশাপাশি ক্রিসমাসের রাত ১২টার পর থেকে মদ্যপদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানও শুরু হবে। কোথাও বেলেল্লাপনা করতে দেখলেই গ্রেফতার করবে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য সোমবার 'শক্তি' বাহিনীর সূচনা করেছেন পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা। এই বাহিনীও উৎসবের রাতে নারী নিরাপত্তা সামলাবে।

শীতকালের এই ফেস্টিভ সিজনে গঙ্গাবক্ষে অনেকেই নৌকাবিহারে বেরোন। তাই সেখানে কোনও বিপদ যাতে না হয় সেজন্য গঙ্গার প্রত্যেক ঘাটে রিভার ট্র্যাফিক পুলিশের টিম প্রস্তুত থাকবে স্পিড বোট নিয়ে।

First published: 09:48:02 PM Dec 23, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर