corona virus btn
corona virus btn
Loading

এবার হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র দিলেই ধরা পড়ে যাবে সঙ্গে সঙ্গে! নয়া উদ্যোগ রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের

এবার হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র দিলেই ধরা পড়ে যাবে সঙ্গে সঙ্গে! নয়া উদ্যোগ রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের

মূলত পরীক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের।

  • Share this:

SOMRAJ BANERJEE

#কলকাতা: হোয়াটসঅ্যাপ এর মতো সোশ্যাল সাইটে প্রশ্নপত্র বেরনো আটকাতে নয়া উদ্যোগ নিল রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশ্নপত্রের প্রত্যেকটি পাতায় একটি করে হলোগ্রাম বা জলছবি ব্যবহার করা হবে। সেই জলছবি বা হলোগ্রামগুলিতে থাকবে এক বিশেষ ধরনের প্রযুক্তি। কেউ বা কারা মোবাইল ফোনে ছবি তুলে প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপ বা যে কোন সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যাবে কোন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপ হয়েছে। মূলত পরীক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের।

মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেওয়া নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে । মাধ্যমিকের প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপে আটকাতে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। কিন্তু যারা শিক্ষক হবেন তাদেরই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল সাইটগুলিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ২০১৫ পর থেকে রাজ্যে বিএড বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার পরপরই এই ধরনের অভিযোগ আসতে থাকে। একাধিকবার কলকাতা পুলিশের সাইবার সেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা পুলিশের সাইবার সেলে এই সংক্রান্ত অভিযোগ হয়েছ। তবুও সমস্যার সমাধান করতে পারিনি বিএড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ।

এই মুহূর্তে রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৪৭৮টি সরকারি এবং বেসরকারি বিএড কলেজ রয়েছে। প্রত্যেক সেমেস্টারে লক্ষাধিক পড়ুয়া পরীক্ষা দেন। ২০১৫ সালে বিএড বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যে হওয়ার পর থেকেই কখনও একাধিকবার প্রশ্নপত্রের জালিয়াতি নিয়ে অভিযোগ এসেছে। বিএড বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যে তৈরির পর পরই অবশ্য কলেজগুলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট নিয়ে যেত ৷ তার জেরে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা হোয়াটসঅ্যাপে বেরনোর মতো ঘটনা আটকানো যাচ্ছিল না বলেই উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে একাধিক বার রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়কে সতর্কও করা হয়েছিল। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কলেজগুলিকে পাঠানোর ধরনেরও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এবার থেকে কলেজগুলি সরাসরি প্রশ্নপত্র নিয়ে যাবে না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তার বদলে পোস্ট অফিস মারফত এবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্নপত্র পাঠাচ্ছে। তার পরেও প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা বজায় রাখতে এই নয়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ যদি প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল সাইটে দিয়ে দেন তা কিভাবে ধরা পড়বে তা দেখা যাক ৷

প্রথমত প্রশ্নপত্রের মধ্যে এক ধরনের জল ছবি ব্যবহার করা হচ্ছে। যে জলছবি ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি প্রযুক্তি নির্ভর ছবি। দ্বিতীয়ত এই ছবিতে একটি নির্দিষ্ট ধরনের বার কোড ব্যবহার করা হচ্ছে প্রত্যেকটি কলেজ ভিত্তিক অর্থাৎ যে যে কলেজগুলি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে নির্দিষ্ট হয়েছে সেই কলেজগুলির জন্য আলাদা আলাদা বারকোড থাকছে।

তৃতীয়ত কেউ বা কারা মোবাইলে ছবি তুলে প্রশ্নপত্র হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল সাইটে দিলেই সেই জলছবি মারফত পরীক্ষা কেন্দ্রের নাম তৎক্ষণাৎ জেনে যেতে পারবে বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বেসরকারি বিএড কলেজগুলিতে পরীক্ষাকেন্দ্র করার সংখ্যা ক্রমশ কমানো হচ্ছে। তার বদলে সরকারি ডিগ্রি কলেজ গুলিতে বিএড এর পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে । উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে সরকারি ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মনে করছে এই প্রযুক্তি নিয়ে আসা হলে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা অনেকটাই বজায় রাখা যাবে। এই প্রসঙ্গে বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন 'পরীক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করার জন্য এই ব্যবস্থা নিয়ে আসা হয়েছে। শুধু তাই নয় প্রশ্নপত্র নিয়ে কোনও জালিয়াতি যাতে না হয় তার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে'। চলতি সপ্তাহ থেকেই বিএড এর প্রথম ও তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা শুরু হয়েছে সেখানেই জলছবি দেওয়া প্রশ্নপত্র পাঠানো হচ্ছে রাজ্যের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে।

First published: December 9, 2019, 4:55 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर