Home /News /kolkata /

Kolkata News: "রাতের কথা মনে করতে চাই না", কলকাতার শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা ভুলতে পারছেন না আসানসোলের নিগৃহীতা!

Kolkata News: "রাতের কথা মনে করতে চাই না", কলকাতার শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতা ভুলতে পারছেন না আসানসোলের নিগৃহীতা!

কলকাতায় আসানসোলের তরুণীর শ্লীলতাহানি

কলকাতায় আসানসোলের তরুণীর শ্লীলতাহানি

Kolkata News: রাতের সেই আতঙ্ক পিছু ছাড়েনি বছর পঁচিশের তরুণীর মন ও মস্তিস্ক। যেন 'একই মুদ্রার দুই পিঠ' পুলিশের দুই রূপ এভাবেই ব্যাখ্যা করতে চাইলেন তিনি।

  • Share this:

#কলকাতা: শহর কলকাতায় (Kolkata News) এসে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন আসানসোলের তরুণী। অভিযোগ, সাহায্য চেয়ে পুলিশের হাতেই নিগৃহীতা হয়েছেন এই তরুণী (Woman Molestation allegation)। অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বিধানগরের এ এস আই ও এক সিভিক ভলেন্টিয়ারকে। বাড়ি ফিরে গেলেও রাতের সেই আতঙ্ক পিছু ছাড়েনি বছর পঁচিশের তরুণীর মন ও মস্তিস্ক। নিউজ ১৮ বাংলার তরফে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হল সেই কথাই বার বার বলছিলেন নিগৃহীতা।

আরও পড়ুন: 'নিরাপত্তার আশ্বাস' দিয়ে তরুণীর শ্লীলতাহানি! শহরে গুরুতর অভিযোগ খোদ পুলিশের বিরুদ্ধে...

"আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রাতের কোনও কথা মনে করতে চাই না আর।" এমনটাই  জানান আসানসোলের নিগৃহিতা তরুণী (Kolkata News)। ঘটনার পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন ওই তরুণী। 'যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ' পুলিশের দুই রূপ এভাবেই ব্যাখ্যা করতে চাইলেন তিনি। সল্টলেকে করুণাময়ীতে আসা আসানসোলের তরুণীকে শ্লীলতাহানির (Woman Molestation allegation) ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সেই দুই ছবি যেন স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে  নিগৃহিতাকে সাহায্য করে কলকাতা কসবা থানা  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মীদের নিন্দনীয় ভূমিকা। পাশাপাশি পুলিশের কুকীর্তি ধামাচাপা  জন্য মুখে কুলুপ এঁটেছিল বিধাননগর নর্থ থানা এমনটাই মনে করছে অভিযোগকারিণী ও তাঁর পরিবার।

ঘটনা ঘটার প্রায় ৩৫ ঘণ্টা পর অবশেষে গ্রেফতার হন দুই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মী। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে এএসআই সন্দীপ কুমার পাল ও সিভিক ভলেন্টিয়ার অভিষেক মালাকার। নিগৃহীতাকে সাহায্য করে নর্থ বিধাননগর থানা (Kolkata News) পর্যন্ত পৌঁছে অভিযোগ (Woman Molestation allegation) করতে সহযোগিতা করেছে কসবা থানা। রাতের অন্ধকারে  তরুণীকে সাহায্য করে ভুয়সী প্রশংসা কুড়িয়েছে কলকাতার এই থানা। এমনকি ওই ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতিও জানতে চাওয়া হয়েছিল বিধাননগর নর্থ থানার কাছে।

আরও পড়ুন: গোয়াতেও 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'? তৃণমূলকে তুমুল কটাক্ষ দিলীপের! পুরভোটের প্রচারে করলেন বিরাট দাবি...

অন্যদিকে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীরা শ্লীলতাহানির ঘটনায় পুলিশের মুখ পুড়িয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহল মহল। শহরবাসীও নিন্দায় মুখর হয়েছেন। রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়ে ওঠে তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কার কাছে? উঠছে সেই প্রশ্ন। পাশাপাশি বিধান নগর নর্থ থানার  ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ওকিবহল মহল। প্রশ্ন উঠেছে, দুই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করতে পয়ত্রিশ ঘণ্টা সময় লাগলো কেন? ঘটনার পর থেকে মুখে কুলুপ বিধান নগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশের আধিকারিকরা। পুলিশ কর্মী অভিযুক্ত তাই কি এত গোপনীয়তা?

করুণাময়ী থেকে বাইপাসের শপিং মল চারপাশে সিসি ক্যামেরা মোড়া রাস্তা। তাহলে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে এত সময় কেন লাগল সেই প্রশ্নও উঠছে? পুলিশের পক্ষে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের চিহ্নিত করা  খুব কঠিন কাজ কি? পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণী ট্রমার মধ্যে যেটুকু দাবি করেছেন, সেই অনুসারে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পুলিশের পোশাকে ছিল।  সেকারণে তিনি ভরসা করে বাইকে ওঠেন। যে উর্দির রক্ষা করার কথা সেই উর্দিকে অপমান করেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীরা।

আরও পড়ুন: রবীনকে প্রণাম, সুজনের সঙ্গে করমর্দন কুণালের! রবিবাসরীয় বিকেল দেখল 'ব্যতিক্রমী দৃশ্য'...

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার আসানসোল থেকে ওই তরুণী বাসে করে নামেন করুণাময়ী। রাত একটা নাগাদ কোনও গাড়ি পাননি। তিনি অনলাইনে পরীক্ষা জন্য গরফাতে বন্ধুর বাড়িতে আসছিলেন। এরপর অভিযুক্ত দুই পুলিশকর্মী এসে বাইকে ওই তরুণীকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার টোপ দেয়। রাত দেড়টা নাগাদ বাইকে উঠতেই শুরু হয় অভবত্যা ও শ্লীলতাহানি করা হয় ওই তরুণীকে।

অসহায় অবস্থায় বাইপাসের ধারে একটি নামি শপিং মলের কাছে আসতেই কোনওমতে নেমে যান ওই তরুণী। গরফা বন্ধুকে ফোন করে ডাকেন। এরপর বন্ধু এসে রাত পৌনে তিনটে নাগাদ পৌছয় রুবির মোড়ে। সেখানে ট্রাফিক পুলিশকে জিগ্যেস করেন কাছাকাছি থানা কোথায়। ট্রাফিক পুলিশ কসবা থানায় পৌঁছে দেন। রাত তিনটে নাগাদ কসবা থানায় পৌঁছে তরুণী গোটা বিষয়টি জানান। কসবা  পুলিশ তরুণীকে নিয়ে যান ঘটনাস্থলে। ঘটনাস্থল থেকে কসবা পুলিশ ফোন করে বিধাননগর নর্থ থানাকে ডেকে আনে। এরপর ঘটনাস্থলে ঘুরে বিধান নগর নর্থ থানায় পৌছয় ভোর ৪টা নাগাদ। সেখানে তরুণী অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত কসবা পুলিশ উপস্থিত ছিল। তরুণীকে বাড়ি পৌঁছানোর  জন্য কসবা পুলিশ বলে। কিন্তু বিধাননগর নর্থ থানা জানায় গোটা বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে। ফলে কসবা থানাকে ফিরে যেতে বলে। ভোর ৫ টা নাগাদ কসবা টিম পৌঁছয় কসবা থানায়। অর্থাৎ কসবা থানা উদ্যোগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

Published by:Sanjukta Sarkar
First published:

Tags: Crime, Kolkata News

পরবর্তী খবর