corona virus btn
corona virus btn
Loading

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে ছয় দিনের 'আকাশের', সদ্যোজাত কোলে জেটিঘাটে মা

মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে ছয় দিনের 'আকাশের', সদ্যোজাত কোলে জেটিঘাটে মা

ঘোড়ামাড়ায় ফিরতে ছয় দিনের শিশুকে নিয়ে অপেক্ষা পরিবারের

  • Share this:

#নামখানা: আকাশের মাথায় তখন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা। রুদ্রনগর হাসপাতালে গত রবিবার জন্ম হয়েছে ঘোড়ামাড়ার বাসিন্দা সুমিত্রা শিটের ছেলের। বুধবার সেই একরত্তি ছেলের নামকরণ করা হয় আকাশ। সেই আকাশ'কে নিয়েই এবার আকাশের নীচে বসে আছেন তার মা আর ঠাকুমা।

বুধবার ঘূর্ণিঝড় আমফানের আগেই ঘোড়ামাড়া দ্বীপের সমস্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হয় আগে ভাগেই। জেলা প্রশাসন সূত্রে পাওয়া খবর, দ্বীপের ৯৫ শতাংশ বাড়ি ঝড়ের দাপটে উড়ে গিয়েছে। এতটাই করুণ অবস্থা সেখানের মানুষের প্রশাসন বুঝে উঠতে পারছে না সেখানে থাকার ব্যবস্থা কিভাবে করা যাবে। এই দ্বীপের বাসিন্দা সুমিত্রা শিট। গত শুক্রবার তার শাশুড়ী সরস্বতী শিট, তার ছেলের বউ সুমিত্রাকে এনে ভর্তি করেন সাগরদ্বীপের রুদ্রনগর হাসপাতালে। সেখানেই রবিবার সুমিত্রা জন্ম দেন ফুটফুটে পুত্র সন্তানের। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, বুধবার ছেড়ে দেবেন সুমিত্রাকে। সেদিনই ঝড় এসে আছড়ে পড়ায় বাতিল হয়ে যায় সেই পরিকল্পনা। চিকিৎসকরা আজ শুক্রবার ছেড়ে দেন সুমিত্রাদেবীকে। সকাল ৯টা থেকে সরস্বতী দেবীর কোলে ৬ দিনের আকাশ। তাকে নিয়েই ভেঙে যাওয়া কচুবেড়িয়া জেটিতে বসে থাকলেন দিদিমা।

মাথায় হাত পড়েছে তাদের। প্রথমত যোগাযোগ করা যাচ্ছে না পরিবারের বাকি সদস্যদের সাথে। ফোন মারফত যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় বাড়ির লোক কেমন আছে তা জানতে পারছেন না দুই মহিলা। অন্যদিকে কিভাবে ঘোড়ামাড়া দ্বীপে পৌছনো যাবে তাও বুঝে উঠতে পারছেন না তারা। এদিন সুমিত্রা দেবী জানান, "এই টুকু বাচ্চার শরীরে যদি সংক্রমণ হয় তাহলে কিহবে জানিনা। ডাক্তারবাবু করোনার ভয়ে আমাদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। কিহবে আমাদের সেটাও তো বুঝতে পারছিনা।" ক্ষোভের সুর আকাশের দিদিমা সরস্বতী দেবীর গলাতেও। তিনি বলেন, "নাতি হয়েছে কোথায় আনন্দ করব তা না করে এখন ভাবতে হচ্ছে নাতিকে নিয়ে ঘরে ফিরব কী করে? যা ঝড় দেখলাম তাতে নিশ্চিত আমাদের ঘর আর নেই। এখন কোথায় থাকব এই টুকু বাচ্চা নিয়ে তাও বুঝে উঠতে পারছিনা।" না বোঝারই কথা ছয় দিনের আকাশের। তবে এই আকাশে জমে থাকা মেঘ সরে যাবে বলেই ধারণা সকলের।

ABIR GHOSHAL

Published by: Ananya Chakraborty
First published: May 22, 2020, 6:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर