corona virus btn
corona virus btn
Loading

অনড় দু'পক্ষই, ছোটখাটো যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে ভারত- চিন?

অনড় দু'পক্ষই, ছোটখাটো যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে ভারত- চিন?
শ্রীনগর লাদাখ হাইওয়ে ধরেছে সেনা কনভয়৷ Photo-AP/Dar Yasin

চিনের দিক থেকে বিচার করলে এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষে নরম মনোভাব দেখানোটাও অস্বস্তিকর৷

  • Share this:

#লাদাখ: দু' পক্ষের কেউই যুদ্ধ চায় না৷ অন্তত মুখে এমনই দাবি করছে ভারত এবং চিন৷ কিন্তু প্রায় পাঁচ মাস ধরে সংঘাতের পরিস্থিতি চলার পরেও সমাধান সূত্র বেরোয়নি৷ ফলে পুরোদস্তুর যুদ্ধ না বাঁধলেও লাদাখ সীমান্তে দুই দেশ ছোটখাটো যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে বলে ক্রমেই আশঙ্কা বাড়ছে৷

বৃহস্পতিবারও মস্কোয় দু' দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে, তাতে সে অর্থে কোনও সমাধান সূত্র বেরোয়নি৷ বৈঠকের সারমর্ম এটুকুই যে দুই দেশই আরও আলোচনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে৷ গত কয়েক মাসের পরিপ্রেক্ষিতে যা নতুন কিছু নয়৷

বরং বৃহস্পতিবারের আলোচনার পরেও সীমান্তে বাস্তব পরিস্থিতির বিশেষ বদল ঘটেনি৷ উল্টে লাদাখে চিন আরও বেশি সংখ্যক সেনা মোতায়েন করছে বলে খবর৷ জানা গিয়েছে, প্যাংগং লেকের উত্তর প্রান্তে ফিঙ্গার থ্রি এলাকা দখলের জন্য সেনা জমায়েত করতে শুরু করেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি৷

গত কয়েকদিনে ফিঙ্গার এলাকায় কৌশলগত ভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়চূড়ো এবং উঁচু অংশের দখল নিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সেনা৷ এবার একই চেষ্টা শুরু করেছে চিনা বাহিনী৷ ফলে যতই দু' দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বৈঠক চলুক, বাস্তবে ফাঁকা পাহাড় চূড়ো এবং কৌশলগত ভাবে সুবিধেজনক উঁচু এলাকাগুলি দখলের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে দুই দেশের সেনা৷

আপাতত তাই লাদাখে পরিস্থিতি সরু সুতোর উপরে ঝুলছে৷ দুই দেশ মুখে দাবি করছে তারা যুদ্ধ চায় না৷ কিন্তু উত্তেজনা প্রশমনের জন্য প্রথম পদক্ষেপটিও নিতে চাইছে না কেউ৷

চিনের দিক থেকে বিচার করলে এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পক্ষে নরম মনোভাব দেখানোটাও অস্বস্তিকর৷ কারণ আগামী মাসেই চিনা কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ প্লেনাম শুরু হওয়ার কথা৷ সেখানে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপনের ঘোষণা করার কথা জিনপিংয়ের৷ মাও সে তুং-এর পর নিজেকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির সেরা নক্ষত্র হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া জিনপিং৷ একই সঙ্গে দলের শতবর্ষে দেশবাসীর সামনে নিজেকে এবং চিনকে প্রবল ক্ষমতাবান প্রমাণ করার দায়ও রয়েছে তাঁর৷ এই সময় ভারতের দাবি মেনে সেনা পিছিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া চিনের প্রেসিডেন্টের পক্ষে যথেষ্টই অস্বস্তির৷

অন্যদিকে নিজেদের দেশে নির্বাচন থাকায় এখনই চিন- ভারতের সংঘাতে সেভাবে নাক গলাচ্ছে না আমেরিকাও৷ যদিও প্রকাশ্যে বার বারই এই উত্তেজনার জন্য চিনকে দায়ী করে ভারতকেই সমর্থন করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার৷ নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না থাকলে হয়তো দু' পক্ষকে নিরস্ত করতে আমেরিকাও আরও কিছুটা তৎপর হতো৷ সবদিক খতিয়ে দেখলে আপাতত লাদাখ সীমান্তে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ৷ ফলে দুই দেশ এখনই পুরোদস্তুর যুদ্ধে যেতে না চাইলেও ছোটখাটো যুদ্ধ বাঁধার আশঙ্কা প্রতিদিনই বাড়ছে৷

Published by: Debamoy Ghosh
First published: September 11, 2020, 3:01 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर