প্রথম আলাপেই সৌমিত্রর মধ্যে 'অপু'কে খুঁজে পেয়েছিলেন সত্যজিৎ রায় !

Last Updated:

এঁর নাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ইনিই আমার পরের ছবি 'অপুর সংসার'-এর অপু।" এই কথা শুনে পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল সৌমিত্রর।

photo source collected
photo source collected
#কলকাতা: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বা‌ংলা সিনেমার এক স্বর্ন যুগের সূচনা করেছিলেন তিনি। আজ এই বর্ষিয়ান অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৩৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহন করেন। সত্যজিৎ রায়ের সবচেয়ে প্রিয় অভিনেতা ছিলেন সৌমিত্র। রায়ের ৩৪টি সিনেমার মধ্যে ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র। সত্যজিতের সঙ্গে তাঁর প্রথম কাজ ১৯৫৯ সালের 'অপুর সংসার'। এই এক ছবিতে অভিনয় করেই সৌমিত্র বুঝিয়েছিলেন তিনি কত বড় মাপের অভিনেতা। তবে পরবর্তী কালে সৌমিত্র মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মতো অভিনেতাদের সঙ্গেও অভিনয় করেছেন। সিনেমা ছাড়াও সৌমিত্র নাটক, যাত্রাতেও অভিনয় করেছেন। এমনকি টিভি সিরিয়ালেও তাঁকে কাজ করতে দেখা যায়।
তবে সত্যজিৎ রায় কিন্তু সৌমিত্রকে অপুর চরিত্রে নেওয়ার আগে ভাল করে যাচাই করে নিয়েছিলেন। দেখে নিয়েছিলেন, এ ছেলের অভিনয়ের খিদে কতটা ! সৌমিত্র প্রথম দেখেছিলেন সত্যজিৎকে সেনেট হলের একটি সংবর্ধনা সভায়। তারপর দ্বিতীয় সাক্ষাৎ হয় সত্যজিতের লেক এভিনিউয়ের বাড়িতে। নিজের ঘরে সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরে বসে ছিলেন সত্যজিৎ। সৌমিত্র ঘরে ঢুকতেই সত্যজিৎ বলেছিলেন, ' এ হে, আপনি যে বড্ড লম্বা হয়ে গেলেন !' তারপরই নিজেকে সামলে নিয়ে সত্যজিৎ বসতে বলেছিলেন সৌমিত্রকে। কিন্তু ওই কথাটা বার বার ভাবিয়েছিল সৌমিত্রকে। কেন বললেন, এ কথা ! তবে কি কোনও ছবির জন্য তাঁকে ভাবছেন ! তবে সত্যজিতের পরিচালনায় কাজ করা সে সময় স্বপ্ন ছিল সৌমিত্রর কাছে। তাই নিজের ভাবনাকে বেশি পাত্তা না দিয়ে তিনি মিশেছিলেন পরিচালকের সঙ্গে। সেই সময় সত্যজিৎ তাঁর অপুকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তবে সেই দিন সৌমিত্র জানতেন না সত্যজিৎ তাঁর মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন অপুকে। তবে একটুও আঁচ পেতে দেননি সৌমিত্রকে। তবে সেদিনই সৌমিত্রর সঙ্গে কথা বলে সত্যজিৎ মেপে নিয়েছিলেন তাঁকে। তাঁর কথা বলা, হাঁটা চলা, গলার আওয়াজ এবং অবশ্যই অভিনয়ের কতটা খিদে!
advertisement
সত্যজিৎ বার বার সৌমিত্রকে জানতে চাইতেন, অভিনয়কে কতটা ভালবাসেন। আর সৌমিত্রর জবাবও ছিল প্রত্যেকবারই জেদি। সৌমিত্রকে প্রথমবার দেখেই হাইট জানতে চেয়েছিলেন সত্যজিৎ। পাঁচফুট সাড়ে এগারো।
advertisement
এর পর অনেক দিন দেখা করেননি সৌমিত্র। তবে মানিকদার সহকারী সুবীর হাজরা আবার সৌমিত্রের খুব কাছের ছিলেন। তিনি সৌমিত্রকে বলতেন, 'তোমাকে উনি ডাকবেন।" তখন সৌমিত্র ভাবতেও পারতেন না তিনি অপু করবেন। ভেবেছিলেন, কোনও ছোট চরিত্রের জন্য হয়তো ডাকবেন। তবে তাই বা কম কি ! 'পরশ পাথর' ছবির শ্যুটিং দেখতে গিয়েছিলেন সৌমিত্র। সাতান্ন সাল। সৌমিত্র তখন রেডিওতে কাজ করছেন। মানিকদা তাঁকে আলাদা করে বসার জায়গা দিয়ে শ্যুটিং দেখতে বলেছিলেন। সেই দিনই পরিচালক ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন সৌমিত্রের। আলাপ করাতে গিয়ে মানিকদা বলেছিলেন, " ছবিদা ! এঁর নাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, ইনিই আমার পরের ছবি 'অপুর সংসার'-এর অপু।" এই কথা শুনে পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল সৌমিত্রর। একবারের জন্যও মানিকদা বুঝতে দেননি সৌমিত্রকে যে তাঁকেই অপু ভাবছেন পরিচালক। সেদিন রেডিওতে কাজ করার জন্য বাসে উঠে সৌমিত্রর মনে হয়েছিল, এর থেকে বড় পাওয়া বোধহয় তাঁর জীবনে আর কিছু হতে পারে না। অপরাজিতা উপন্যাস পড়তে দিয়েছিলেন সৌমিত্রকে। সত্যজিতের বাড়িতেই হয়েছিল সৌমিত্র স্ক্রিন টেস্ট। পক্স হয়েছিল সৌমিত্র সে সময়। তবে অপুর চরিত্র তাঁকে করতেই হত। নিজে হাতে করে সৌমিত্রকে অপুর জন্য গড়ে নিয়েছিলেন সত্যজিৎ। সেই অপু আজ সারা দেশের গর্ব। খাঁটি রত্ন চিনে নিয়েছিলেন সত্যজিৎ। তারপর সত্যজিতের পরিচালনায় একের পর এক ছবি করেছেন সৌমিত্র। প্রথম আলাপের 'আপনি' যে কখন গভীর ভালবাসার সম্পর্কে পরিণত হয়েছিল তা তাঁদের দুজনের কেউ টের পাননি। আজ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ৮৫ পেরিয়ে ৮৬তে পা দিলেন।
view comments
বাংলা খবর/ খবর/ফিচার/
প্রথম আলাপেই সৌমিত্রর মধ্যে 'অপু'কে খুঁজে পেয়েছিলেন সত্যজিৎ রায় !
Next Article
advertisement
Himachal Pradesh Bus Accident: ৩০০ মিটার গভীর খাদে বাস, হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত অন্তত ৭! আহত বহু
৩০০ মিটার গভীর খাদে বাস, হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত অন্তত ৭! আহত বহু
  • হিমাচল প্রদেশে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা৷

  • ৩০০ মিটার খাদে বাস, মৃত অন্তত ৭ জন৷

  • আরও বাড়তে পারে হতাহতের সংখ্যা৷

VIEW MORE
advertisement
advertisement