Home /News /explained /
Explainer| World Heart Day 2021: খুব অল্প বয়সেই বাড়ছে হার্টের সমস্যা, ধূমপান-মদ্যপান নৈব নৈব চ, বলছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, পড়ুন...

Explainer| World Heart Day 2021: খুব অল্প বয়সেই বাড়ছে হার্টের সমস্যা, ধূমপান-মদ্যপান নৈব নৈব চ, বলছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, পড়ুন...

World Heart Day 2021

World Heart Day 2021

এর সঙ্গেই জুড়েছে করোনার আতঙ্ক (Heart Disease and Coronavirus)৷ বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী বেশ কিছু করোনারি আর্টারি থ্রমবোসিস দ্বারা ব্লক হয়ে যায়৷ কোভিড সেরে গেলেও হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হতে পারে৷

  • Share this:

WHO-র পরিসংখ্যান (World Heart Day 2021) অনুযায়ী হার্টের সমস্যায় (Heart Disease) বিশ্ব জুড়ে প্রত্যেক বছর প্রায় প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে চার জন্যে মৃত্যু হয় হার্ট অ্যাটাকে৷ এবং এর আওতায়ে থাকে কম বয়সি পুরুষ এবং মহিলা (Heart Disease Young Male-Female)৷ যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি৷ কিছুদিন আগেই অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লার মৃত্যু, সেই কথা আরও জোর দিয়ে মনে করিয়ে দিল৷ অর্থাৎ হার্টের সমস্যা যে শুধুমাত্র একটি বয়সের পরে হয় এবং শুধুমাত্র বয়সকালে (৬০-৭০ বছর) ধরা পড়ে, তা একেবারেই নয়৷ তথ্য বলছে যে, CAD (Coronary Artery Disease) যেটা ৪৫ বছরের নীচে হার্টের সমস্যাকে বলা হয়, তা অনেকটাই বেড়েছে৷

তাজ্জবের বিষয় যে, এই রোগের বয়সসীমা নেমে এসেছে ৩০-৩৫ বছরের মধ্যে৷ গুরুতর হার্ট অ্যাটাক নিয়ে এরা ভর্তি হচ্ছেন এবং ধরা পড়ছে ৮০-৯০ শতাংশ ব্লক (Heart Block)৷ কখনও আবার ১০০শতাংশ ব্লকও পাওয়া যাচ্ছে৷ এর জন্য করতে হচ্ছে এমার্জেন্সি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি (Emergency Angioplasty)  কিংবা বাইপাস সার্জারি (Bypass Surgery)৷ ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে-তে (World Heart Day 2021)  জেনে নেওয়া যাক অল্প বয়স থেকে কীভাবে হার্টের যত্ন নেবেন৷ জানাচ্ছেন হার্ট বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবপ্রিয় মন্ডল (Dr. Debopriyo Mondal)....

আরও পড়ুন Explainer| Viral Fever: করোনাকালে, ভাইরাল ফিভারে কাবু? তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠার টিসপ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

মহিলাদের ক্ষেত্রে ৬৫ বছর এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫৫ বছরের আগে CAD (Coronary Artery Disease) হয়, তাহলে সেটাকে বলা হয় প্রিম্যাচিওর ক্যাড৷ যুবদের ক্ষেত্রে সেই বয়সটাই নেমে আসে ৪৫ বছরে৷ একে বলে Young CAD, জানাচ্ছেন ডাঃ দেবপ্রিয় ৷ ফ্যামিলি হিস্ট্রি বা বংশে যদি কারও হার্টের সমস্যা থাকে, তাহলে তার থেকে সেই সমস্যা দেখা যেতে পারে৷ এদের মধ্যে ১৫-২৫ শতাংশের ডায়বেটিস (Diabetes)  এবং হাইপারটেনশনের (Hypertension) সমস্যা থাকে৷ ১১-২৮শতাংশের থাকে Hypercholesterolaemia এবং ৪০শতাংশের কোনও না কোনও সময় ধূমপানের (smoking) অভ্যাস থাকে৷ এছাড়া রয়েছে ওবিসিটি (Obesity)  বা স্থূলত্বের সমস্যাও৷ এসবের ফলে পশ্চিমী দেশের যে কোনও ব্যক্তির থেকে প্রায় ১০ বছর আগেই এদেশের মানুষের মধ্যে মোটের উপর হৃদরোগের সমস্যা দেখা যায়৷ এর জন্য প্রয়োজন অ্যাগরেসিভ রিস্ক ফ্যাক্টর কন্ট্রোল (Aggressive Risk Factor Control)৷ স্পষ্ট করছেন হার্ট স্পেশ্যালিস্ট৷

হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পিছনে বেশ কয়েকটি বিষয় একজোট হয়ে কাজ করে ৷ বিশেষ করে এই সময়ের মানসিক অবস্থা ও ডিজিটাল ফ্যাটিগ (Digital Fatigue)  (ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ করা বা অনবরত স্ক্রিনে চোখ রাখা) চুপিসারে ধমনীর মধ্যে চর্বী জমাচ্ছে৷ সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর জীবনধারাও (Bad Lifestyle) পাল্লা দিয়ে বাড়িয়ে দিচ্ছে অল্প বয়সে হৃদরোগের সমস্যা৷ যার পরিণতি হচ্ছে মারাত্মক৷

ডাঃ দেবপ্রিয়ের মতে, সবটাই আমাদের হাতের বাইরে নয়৷ আমরা চাইলে কিছুটা এড়িয়ে চলতে পারি এই রোগের থেকে৷ তবে তার জন্য প্রয়োজন নিষ্ঠা৷ সবথেকে সহজ উপায় হল সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন যাকে হেলথি লাইফস্টাইল (Healthy Lifestyle for good heart) বলা হয়৷ তার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া বুঝে করতে হবে ৷ এর পাশাপাশি যাদের পরিবারে হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদেরও কম বয়স থেকে নিয়ম করে চেকআপ (Regular Check Up)করাতে হবে৷ থাকতে হবে খুবই সাবধানে৷

আরও পড়ুন Explainer| COVID19 Booster Dose: দু’টি টিকার পরও কতটা জরুরী করোনার বুস্টার ডোজ? জানুন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মত

যাদের বংশগত এই রোগ থাকে, দেখা যায় তাঁরা অনেক সময় খুব অল্প বয়সে (২৫-৩০ বছরে) হার্টের সমস্যা নিয়ে আসেন৷ ততদিনে অনেকটাই বড় আকার ধারণ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ (Coronary Artery Disease) ৷ ফলে সেই সময় অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি ছাড়া উপায় থাকে না৷

প্রাথমিক লক্ষণ কী হতে পারে? হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন যে, বুকের বাঁ দিকে চাপভাব কিংবা কিছু দূর জোরে হাঁটার পর নিঃশ্বাসের সমস্যা৷ যাদের familial Hypercholesterolaemia বলে পরিবারের মধ্যে রোগটি রয়েছে তাদের কনুই, বা হাঁটু ফুলে যায়৷ কনুই হাঁটুতে কোলেস্টেরল জমার ফলে ছোট ছোট ফোলা ভাব তৈরি হয় যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় tendon xanthomata বলে৷ যা দেখে অভিজ্ঞ চিকিৎসক সহজেই বুঝে যান আপনার রোগটি৷

কী করতে হবে? সাবধানতা অত্যন্ত প্রয়োজন৷ যাদের সুগার, হাই প্রেশার, হাই কোলেস্টেরল-এর মতো সমস্যা রয়েছে, তাদের এই রোগগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে৷ ধূমপান ও মদ্যপান নৈব নৈব চ৷ এছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করতে হবে৷ খাবারের তালিকা থেকে মিষ্টি বাদ দিতে হবে সঙ্গে কোনও ভাজাভুজি, কেক-পেস্ট্রি ধরনের খাবার ও কোল্ড ড্রিঙ্কস চলবে না৷ খাবারের তালিকায় থাকতে হবে প্রচুর পরিমাণ মরসুমি ফল৷

এতেই কি মুক্তি? অধিকাংশ ক্ষেত্রে হ্যাঁ৷ তবে যাদের বংশগত ভাবে এই সব রোগ থাকে তাদের এরপরও ঝুঁকি (Risk in Heart Disease) থেকে যায়৷ যাদের বংশের নিয়মে কোলেস্টেরল খুব বেশি থাকে তাদের জন্য খুব ভাল কাজ করে pcsk9 inhibitors৷ এর সঙ্গেই জুড়েছে করোনার আতঙ্ক (Heart Disease and Coronavirus)৷ করোনা নিজে থেকে করোনারি আর্টারি সমস্যা সৃষ্টি করে না৷ তবে বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী বেশ কিছু করোনারি আর্টারি থ্রমবোসিস দ্বারা ব্লক হয়ে যায়৷ কোভিড সেরে গেলেও হঠাৎ করেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হতে পারে৷ সে কারণে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির পরবর্তীতে কার্ডিয়াক চেকআপ বিশেষভাবে জরুরী৷

World Heart Day 2021 World Heart Day 2021

ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে-তে (World Heart Day 2021) ছড়িয়ে পড়ুক সচেতনতা (Awareness)৷ একটাই কামনা, সকলে নিজের এবং পরিবারের সকলের খেয়াল রাখুন যাতে নিজের গাফিলতি এই মারণ ব্যাধিতে আক্রান্ত না হন৷ কারণ কিছুটা খেয়াল রাখলে অনায়াসে হৃদরোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব৷

Published by:Pooja Basu
First published:

Tags: Heart Disease, World Heart Day 2021

পরবর্তী খবর